ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

দিগন্ত সাহিত্য

বিশ্বসাহিত্যের টুকিটাকি

মতিন মাহমুদ

০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সু চির পুরস্কার কেড়ে নেয়া উচিত : ব্রিটিশ লেখক মনবিয়ট

কয়েকটি বেস্ট সেলার গ্রন্থের লেখক ও সাংবাদিক জর্জ মনবিয়ট এক নিবন্ধে লিখেছেন, মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন নির্যাতনের কারণে অং সান সু চির নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেয়া উচিত। কারণ এখন তিনি আর এ পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য নন। ব্রিটিশ লেখক ও পরিবেশবাদী আন্দোলনের কর্মী, মনবিয়টের জন্ম ১৯৬৩ সালে অক্সফোর্ড শায়ারে। প্রাণিবিদ্যা বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি পরিবেশবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি বিবিসির ন্যাচারাল হিস্টি ইউনিটের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। পরে বিবিসির ওয়ার্ল্ড সার্ভিস ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রযোজক ও পেজেন্টার হিসেবে কাজ করেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিক হয়ে তিনি ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল ও পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলো সফর করেন এবং এসব অভিজ্ঞতা নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি গার্ডিয়ান কলাম লিখে থাকেন। বেস্ট সেলার হওয়া তার কয়েকটি গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ফেরাল : রিওয়াইন্ডিং দি ল্যান্ড, সি অ্যান্ড হিউম্যান লাইফ, দি এজ অব কনসেন্ট : এ মেনিফেস্টো ফর এ নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার। ৫ মের ‘গার্ডিয়ান’ পত্রিকায় এক নিবন্ধে মনবিয়ট তার অভিমত তুলে ধরে বলেন, একসময়ে সু চি ছিলেন একটি অনুপ্রেরণা, কিন্তু মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের দুর্ভাগ্য আর দুঃখ কষ্টের বিষয়ে তিনি নীরব। তার এই নীরবতা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শামিল। আমরা একসময়ে তার মুক্তির আন্দোলন করেছি, মিয়ানমারে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা চেয়েছি। তিনি ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর আমরা উৎসব করেছি। কিন্তু আমি মনে করি, রোহিঙ্গাদের সাথে বর্তমান আচরণ তার পুরস্কারের জন্য মানানসই নয়Ñ তাই তা কেড়ে নেয়া উচিত। নোবেল কমিটির কাছে সেই অনুরোধই জানাচ্ছি।

ওরহান পামুকের নতুন উপন্যাস

নোবেল বিজয়ী তুর্কি ঔপন্যাসিক ওরহান পামুকের দশম উপন্যাস ‘দি রেড হেয়ারড ওমেন’ সম্প্রতি ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা ফেরাব। এটি অনুবাদ করেছেন একিন ওকলাপ। ২০০৬ সালে পামুক নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তার বিখ্যাত বইয়ের মধ্য রয়েছে ‘দি হোয়াইট ক্যাসেল’, ‘দি ব্ল্যাক বুক’, ‘মাই নেম ইজ রেড’, ‘স্লো’, ‘দি সাইলেন্ট হাউজ’ ইত্যাদি। নতুন এই উপন্যাসে ওরহান পামুক পিতা-পুত্রের সম্পর্কের ওপর দৃষ্টিপাত করেছেন। এই সম্পর্ক এক দিকে যেমন আটপৌরে নয়, অন্য দিক থেকে সমাপ্তিটা বেদনাবিধুর। ইডিপাস নাটকের ছায়া বা ফেরদৌসির শাহনামা মহাকাব্যের পিতা-পুত্রের একটি কাহিনীর অনুরণনও মনে হতে পারে তাÑ যেখানে পিতা ভুলক্রমে তার পুত্রকে হত্যা করে বসেন। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কেম সেলিক একজন কিশোর। ইস্তাম্বুলের একজন বামপন্থী ফার্মাসিস্টের পুত্র। প্রায় সময় তার পিতা পরিবার থেকে দূরে চলে যান। এতে তার হৃদয়ে দুঃখবোধের জন্ম হয়। উপন্যাসের শেষ অংশে আবির্ভূত হন লাল চুলের এক নারীÑ তাকে নিয়েই যত নাটকীয়তা। মাই নেম ইজ রেড-এর পরে আবার লাল বা রেড ফিরে এলো ওরহাম পামুকের নতুন উপন্যাসে। তবে দুই রেড আলাদা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫