ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

সিআইএ’র তিন অস্ত্র

আলমগীর মহিউদ্দিন

০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:৫৫ | আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৮:০৮


আলমগীর মহিউদ্দিন

আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রিন্ট

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইনটেলিজেন্স এজেন্সি সারা বিশ্বে তার সংক্ষেপিত সিআইএ নামেই পরিচিত। নামটি বহুল আলোচিত। এর প্রতিপক্ষ রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি। কেজিবি নিয়ে বোদ্ধাজনের আগ্রহ থাকলেও সিআইএ’র মতো তার পরিচিতি নেই। সিআইএ’র ওপর ওয়াশিংটন পোস্ট এক অসুন্ধানী প্রবন্ধ ছেপে আবার নতুনভাবে সিআইএ-কে নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
এ প্রতিবেদনে সিআইএ-কে সরকারের ‘চতুর্থ শাখা’ (ফোরথ ব্রাঞ্চ) বলে অভিহিত করা হয়েছে। যে সংক্ষিপ্ত বিবরণ পোস্ট দিয়েছে, তা যেকোনো পাঠককে অভিভূত করতে বাধ্য। সে বিবরণ অনুসারে এক কথায় সিআইএ বলতে পারে ‘আমরা বিশ্বের সব মানুষের কার্যবিধির ওপর লক্ষ রাখি এবং প্রয়োজনবোধে কার্যক্রম গ্রহণ করি।’

এক লেখক চমৎকার বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, ‘আপনি জানবেন না অথবা বুঝবেন না, আপনি যাকে সবচেয়ে আপন এবং বিশ্বস্ত মনে করেন, তিনি একজন সিআইএ’র হয়ে কাজ করছেন। আর এমনও হতে পারে, সেই ব্যক্তিটি আন্তরিকভাবেই জানে সে সিআইএ’র লোক নয়। অন্য কথায় সিআইএ তার পরিচালনা ও কার্যক্রম এমনভাবে বিস্তৃত করেছে যে, এর কর্মীরা এর বন্ধু ও শত্রু উভয়ই। আর নিভৃতচারীর মতো সিআইএ সবাইকে ব্যবহার করছে। কার জন্য ব্যবহার করছে?’

ড. আলফ্রেড ডাবলু ম্যাককয় তার সাম্প্রতিক বইয়ে সিআইএ’র বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। এসব তথ্য এমন সুন্দরভাবে আগে কেউ দেয়নি। তবে এ তথ্য সংগ্রহ করতে ও লিখতে ড. ম্যাককয়কে যে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, তাও একটি বই লেখার রসদ জোগায়। এখানেও এক কথায় সিআইএ’র ওপর অনুসন্ধানী বই লিখতে হলে তাদের মতো করে লিখতে হবে। অবশ্য এখানে কোনো নতুনত্ব নেই এ জন্য যে, প্রতিটি যুগে ক্ষমতাবান ও ক্ষমতাসীনেরা তথ্য নিয়ন্ত্রণ করেছে। এবং তা করেছে তথ্যের ও বক্তব্যের স্বাধীনতা রক্ষার নামে।

এখন এই খবরদারি তিনভাবে করছে সিআইএ। এক. ডিজিটাল খবরদারি (ডিজিটাল সারভেইলেন্স); দুই. ড্রোন (পাইটলবিহীন উড়োজোহাজ) এবং তিন. হস্তরেখা শনাক্তকরণ (বায়োমেট্রিক আইডেন্টিফিকেশন)। এসব কর্মকাণ্ড করতে সিআইএ প্রকাশ্যে আট লাখ ৫৪ হাজার অফিসার, ২৬৩টি সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান এবং তিন হাজারের অধিক গোয়েন্দা সংস্থা নিয়োগ করেছে। এরা প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি বিশেষ রিপোর্ট তৈরি করে। এসব তথ্যের একাংশ এডওয়ার্ড স্নোডেন ২০১৩ সালে প্রথমে ফাঁস করলে সর্বপ্রথম মার্কিন এই গোয়েন্দা সংস্থার একটি চিত্র পাওয়া যায়। ড. ম্যাককয় বলেছেন এ চিত্রটি সম্পূর্ণ নয়। তবে এটা সত্য পৃথিবীর ইতিহাসে এত বড় গোয়েন্দা সংস্থার সৃষ্টি কখনো হয়নি। তাই ওয়াশিংটন পোস্ট একে সরকারের চতুর্থ অংশ বলেছে। এর মাত্র ১৬টি এজেন্সিতে ২০১৩ সালে নিয়োজিত ছিল এক লাখ সাত হাজার ৩৫ জন অফিসার। বাজেট ছিল ৫২.৬ বিলিয়ন ডলার বা মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রায় ১০ শতাংশ।
ড. ম্যাককয় লিখেছেন ‘আকাশে ড্র্রোন এবং সারা বিশ্বের সমুদ্রতলে তারের মধ্য দিয়ে চলাচল করা তথ্য প্রতি মুহূর্ত এ সংস্থাটি পর্যবেক্ষণ করছে। ফলে বিশ্বের নেতৃবৃন্দসহ সবার কথাবার্তার ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখে সিআইএ’।

আবার যদি কোনো অভিযানের প্রয়োজন পড়ে, তাহলে (২০১৩ হিসাব অনুসারে) ৬৯ হাজার ‘এলিট ফোর্স’ সর্বদা প্রস্তুত। এরা রেঞ্জার, সিল ও এয়ার কমান্ডো বলে পরিচিত। ম্যাককয় লিখেছেন সিআইএর ৩০টি ড্রোন ইয়েমেন ও পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে তিন হাজার লোকের মৃত্যু ঘটায়।
তবে কোনো অভিযান চালানোর আগে সিআইএ কর্তৃপক্ষ ঠিক করে এর আকার, ক্ষতি করার ক্ষমতা এবং ফলাফল। সে অনুসারে কোনো অভিযানকে হলুদ বলবে, নতুবা লাল। সবুজ বলবে তখন যখন তাদের নির্ধারিত ফলাফলের সাথে মিলে যায়।

ড. ম্যাককয় বলেছেন বিশ্বের কোনো দেশ বা গোষ্ঠী ছকমতো যদি চলে তবে কোনো অভিযানের মুখোমুখি হবে না। নতুবা হলুদ বা লালের অভিযানের মুখোমুখি হতে হবে।

একটু বিদ্রোহের সুরে ম্যাককয় প্রশ্ন করেছেন, ‘এসব নিরাপত্তার কর্মকাণ্ড কি সত্যিই বাইরের (দেশের সীমার বাইরের) শত্রুর বিরুদ্ধে?’ এর জবাবও তিনিই দিয়েছেন, ‘আমার পরিবারের তিন পুরুষের এবং আমার ৫০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি এই গোয়েন্দাদের হাতে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়ার অর্থ হলো সব ব্যক্তিগত অধিকার হারানো এবং অনেক মূল্য দেয়া। ১৯২০-এর লাল জুজুর ভয় থেকে যুদ্ধবিরোধী প্রতিবাদ দলনের সময় পর্যন্ত যে বে-আইনি দলন অভিযান চালানো হয়, তার পেছনে গোপন উদ্দেশ্য ছিল।’

ম্যাককয় তার বইটি লিখতে সরকার ও তার গোয়েন্দা বাহিনীর কী বাধা পেয়েছিলেন তার বিবরণ দিয়েছেন। বইটির নাম ‘ইন দ্য শ্যাডো অব দ্য আমেরিকান সেঞ্চুরি : দ্য রাইজ অ্যান্ড ফল অব ইউএস গ্লোবাল পাওয়ার’। বইটি লিখতে গিয়ে তাকে সারা বিশ্ব ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। কারণ, ঘটনাগুলোর সূত্র ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর থেকে প্যারিস-নিউ ইয়র্ক পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং এখনো আছে।

এই অনুসন্ধানে তিনি মুখোমুখি হন দক্ষিণ এশিয়ার আফিমের ব্যবসায়ের। এই সূত্রে তিনি সাবেক ফরাসি ও মার্কিন সেনা অফিসারদের সাক্ষাৎকার নেন। তখন লাওসে মার্কিন কৌশল ও অবস্থান অসুবিধার মধ্যে পড়েছিল, দক্ষিণ ভিয়েতনামে মার্কিন সৈন্যরা সুবিধা করতে পারছিল না। এ দিকে মার্কিন সৈন্যরা আফিমে আসক্ত হয়ে পড়ে। এক জরিপে দেখা যায়, ৩৫ শতাংশ মার্কিন সৈন্য তখন আফিমে আসক্ত। মার্কিন জেনারেলরা রয়্যাল লাওস আর্মি কমান্ডারের সহায়তায় বিশ্বের বৃহত্তম আফিম ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনা করত এবং সিআইএ’র উড়োজাহাজ এয়ার আমেরিকা পুরো আফিমের চালান বহন করত। ১৯৭২-এ এক জরিপে হোয়াইট হাউস জানতে পারে, লাওসের পুরো আফিমের ব্যবসায় তারা নিয়ন্ত্রণ করছে। ম্যাককয় লিখেছেন, কেমন করে লাওসের পপি মাঠ থেকে সিআইএ’র হেলিকপ্টারগুলো আফিমের চালান নিয়ে আসে তার চিত্র তার সামনে চলে আসে।
তিনি লিখেছেন, লাওস-সাউথ ভিয়েতনামসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তার অনুসন্ধানের পর বুঝতে পারলেন, বিশ্বের এই সবচেয়ে বড় গোয়েন্দা সংস্থা কেমনভাবে বিশ্বের প্রতিটি স্থানে বিরাজ করছে, কেউ তাদের কর্মকাণ্ডের খবর রাখুক তা তারা চায় না এবং তাদের উপস্থিতি যেন কোনো মানুষের দৃষ্টিতে না আসে সে সম্পর্কে তারা খুবই সজাগ।

তিনি আরেকটি তথ্য চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন। সিআইএ বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সাথে নিবিড় সম্পর্ক রাখে। এমন অনেক দেশের গোয়েন্দা সংস্থা তাদের জন্য কাজ করে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। কেমন করে কিউবার ফিডেল ক্যাস্ট্রোকে ক্ষমতাচ্যুত করার কর্মকাণ্ড হয় তার উল্লেখ করেছেন। ম্যাককয় আর একটি বই লিখেছেন এই হিরোইন ও আফিম ব্যবসায়ের ওপর। এবং এর সাথে সিআইএর সম্পর্ক। বইটি হলো ‘দ্য পলিটিকস অব হিরোইন ইন সাউথইস্ট এশিয়া’। সেখানে এই নিষিদ্ধ ব্যবসায় কেমন করে রাষ্ট্রীয়নীতি নিয়ন্ত্রণ করে তার বর্ণনা আছে।

তার নিবন্ধের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আলোচনা হলো- সংবাদপত্র ও সিআইএ’র সম্পর্ক। এ সংস্থায় আছে নামীদামি ব্যক্তিত্ব; যারা বুদ্ধিবৃত্তিক জগৎ ও সংবাদপত্রকে পরিচালনা করেন বা সেখানে নিয়োজিত আছেন। এলেন ডালেস সিআইএ-কে তাদের কর্মকাণ্ডের তুঙ্গে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার সাথে যোগ দেন কর্ড মেয়ার ডেপুটি ডাইরেক্টর হিসেবে। মেয়ার সিআইএর ইন্টারন্যাশনাল অরগ্যানাইজেশন ডিভিশন এমনভাবে সাজালেন যেন এটা বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম প্রচার এবং গোপন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারক-বাহক-প্রস্তুতকারক হতে পারে। উল্লেখযোগ্য, মেয়ার জাতিসঙ্ঘ চার্টার লেখক দলের একজন ছিলেন। এই কর্মকাণ্ড সিআইএর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। যেমন তাদের একটি গোপন কর্মকাণ্ডের নাম ‘অপারেশন মকিংবার্ড’। এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সিআইএ বিশ্বের সব দেশের খবর কাগজে ভুয়া-ভুল বানানো খবর অতি কৌশলে প্রতিস্থাপন করে। ম্যাককয় লিখেছেন, তার এই সংস্থার ওপর লিখিত এই বইটির প্রতিটি পাতা ছাপা হওয়ার আগেই সিআইএর কাছে পৌঁছে যেত।

মাদকের ব্যবসায়ের সাথে সিআইএ কেন এত ওতপ্রোতভাবে জড়িত? প্রশ্ন করেছেন অনেকেই। জবাবে ম্যাককয় লিখেছেন, এই ব্যবসায়ের যে বিশাল আয় হয় তা দিয়ে সংস্থার বিশ্বব্যাপী কর্মকাণ্ড পরিচালনা সহজ হয়। তবে এই চিত্রটি অত্যন্ত গোপনীয়। এ দিকে সংস্থা সজাগ দৃষ্টি রাখে। আফগানিস্তান ও লাওসসহ বিভিন্ন স্থানের ড্রাগ এখন আগের চেয়ে ১০ গুণ বেগে প্রবাহিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ম্যাককয় তার বইতে।

একটি মজার তথ্য হলো, মার্কিন সিনেট বা কংগ্রেস বিভিন্ন সময়ে এ সংস্থার নানা অভিযোগ বহু কমিটিতে আলোচনা করলেও কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি, বরং যখন আফগানিস্তানে মুজাহিদিনরা আফিমের ওপর ট্যাক্স বসায় সিআইএ তাতে সম্মতি দেয়। তেমনি পাকিস্তানের সীমান্তে তারা যখন হিরোইন ল্যাবরেটরি স্থাপন করে বিশ্বে এই মাদক দ্রব্য বিতরণের জন্য, তখনো সিআইএর সম্মতি ছিল বলে দাবি করেন ম্যাককয় তার এই অনুসন্ধানী বইতে।

এ ছাড়া এ সংস্থার নির্যাতনপদ্ধতির উদ্ভব ঘটে ১৯৫০ সালের ঠাণ্ডা লড়াইয়ের (কোল্ড ওয়ার) শুরুতেই। এ সংস্থা বর্তমান সময়ের সর্বাধিক ব্যবহৃত নজরদারির জন্ম দেয় ভিয়েতনামে, যুদ্ধের সময়। সিআইএ বিভিন্ন প্রযুক্তির পরীক্ষা এখানে চালায় এবং নজরদারিকে সুসংহত করে।
এই নজরদারির ব্যাপকতা সাধারণ মানুষের ধারণার বাইরে। এর শুরু ১৮৯৮ সালে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফিলিপাইন দখল করে। দ্বীপটি দখলের পর মার্কিন বাহিনী ক্রমাগত স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মুখে পড়ে। এ অবস্থা মোকাবেলার নামে তারা তথাকথিত ‘প্যাসিফিকেশন প্রোগ্রাম’ চালু করে। এই প্রোগ্রাম নানা বীভৎস যন্ত্রণা এবং কড়া নজরদারিপদ্ধতি তৈরি করে। ‘সামরিক গোয়েন্দাগিরির জনক’ (ফাদার অব মিলিটারি ইনটেলিজেন্স) বলে পরিচিত জেনারেল র‌্যালফ ভান ডিমান ফিলিপাইনে তার এক হাজার ৭০০ সৈন্য এবং তিন লাখ ৫০ হাজার গোয়েন্দা প্রহরী দিয়ে সে দেশের প্রতিবাদীদের যেভাবে যন্ত্রণা-চাপ-নজরদারি দিয়ে ঠাণ্ডা রেখেছিলেন, সে অভিজ্ঞতা থেকে এখন সারা বিশ্বে বিশেষ করে স্বৈরাচারী শাসক-শাসিত দেশগুলোতে ব্যবহৃত নজরদারি প্রোগ্রাম তৈরি করেন। পরে এডগার হুডারের আমলে এই নজরদারির আকার ও প্রকারে বিশাল বিস্তৃতি ঘটে। তা বিশ্বের সব দেশে পৌঁছে যায় বলে মন্তব্য করেন ম্যাককয়। তখন থেকে টেলিফোনে আড়িপাতা সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। সিআইএ প্রযুক্তির উৎপাদন, ব্যবহার ও প্রসারের ওপরও সজাগ দৃষ্টি রাখে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ সংস্থাই এর প্রথম এবং একক ব্যবহারকারী। সম্প্রতি প্রকাশিত এফবিআই-এর গোপন ফাইলগুলো থেকে এই নজরদারির বিশালতা আন্দাজ করা যায়। এখান থেকে জানা যায়, বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের গোয়েন্দা বাহিনীকে এরা প্রশিক্ষণ দেয় এবং নজরদারিপদ্ধতি শেয়ার করে।

২০০১ এর সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর সিআইএসহ সব মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনী (এমনকি অন্যান্য দেশের এমন বাহিনীগুলো) সব আইনগত বাধানিষেধ অমান্য করতে থাকে। যেমন তথ্য আদায়ের জন্য যন্ত্রণাপদ্ধতির ব্যবহারের আগে আদালতের হুকুমের বিধানকে আর মানা হয় না। উল্লেখ্য, যন্ত্রণা দিয়ে তথ্য আদায়ের বিভিন্ন পদ্ধতি মার্কিন বাহিনীগুলো তাদের মধ্যপ্রাচ্য অভিযান ও দখলের সময় পরীক্ষা করে। এর ফলাফল অনুসারে তা তারা অন্যান্য দেশের অভিযানে ব্যবহার করে।
এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে সিআইএ অবশেষে তিন অস্ত্রকেই ব্যবহার করতে থাকে। প্রথম পদ্ধতি অর্থাৎ ডিজিটাল সারভেইলেন্স এখন সবচেয়ে ব্যাপক এবং বিশ্বের প্রতিটি মানুষ এর আওতায়। অবাধ্য দেশ বা প্রতিবাদী জনগণকে ঠাণ্ডা ও নীরব করতে হাজার মাইল দূর থেকে নজরদারি থেকে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করে ড্রোন দিয়ে আঘাত করছে। সর্বশেষ নজরদারি হলো বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ। প্রতিটি দেশকে বাধ্য করা হয়েছে অথবা উদ্বুদ্ধ করা হয়ে এ পদ্ধতিটি ব্যবহার করতে। এ পদ্ধতিতে কোনো নাগরিকই এক মুহূর্তের জন্যও নজরদারির বাইরে থাকবে না। যেমন ওয়াশিংটন ইচ্ছে করলেই কোনো একজন কোন দেশে কী করছে তার হিসাব নিতে পারবে। আর সে দেশের সরকারও এর ব্যবহার করে প্রচুর।

ম্যাককয়ের সবচেয়ে মারাত্মক মন্তব্য হলো- সিআইএসহ সব গোয়েন্দাদের তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সরকারের সাথে শেয়ার করে না। সরকার মাত্র একাংশ ব্যবহার করে। এর ব্যবহার তারা নিজেরাই (সিআইএ) করে থাকে তাদের ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য এবং সর্বদা তথ্যসমৃদ্ধ থাকার জন্য।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫