ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

এখন সিদ্ধান্ত জনগণের

মিনা ফারাহ

০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:৩৪ | আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:৪৫


মিনা ফারাহ

মিনা ফারাহ

প্রিন্ট

বর্তমান ক্ষমতার প্রশ্ন তুলে ইসিকে বর্জন ছাড়া আর কোনো অস্ত্র বুঝি হাতে থাকবে না। সর্বসম্মতিক্রমে রায়টি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ‘আগুনে ঘি’। বৈধ ও পরিপক্ব সংসদ ছাড়া কোনো দেশ চলতে পারে না। এখন সিদ্ধান্ত জনগণের। লেখাটি তাদের জন্য, যারা জেগে ঘুমায়, যারা হাত-পা বাঁধা বিএনপিকে সাঁতার প্রতিযোগিতায় নামতে বাধ্য করতে চায়।

সংসদ অবৈধ হলে আইনের যুক্তি তুলে তর্কবিতর্ক করে কী লাভ? বিশেষ করে জোর করে যখন কেউ ক্ষমতায় থাকতে বদ্ধপরিকর। সরকারপ্রধান নিজপদে থেকেই নির্বাচন দিতে অনড়। সংবিধানকে বারবার ক্ষতবিক্ষত করেও আইনের শাসনের পরোয়া করা হয় না। সুতরাং সবিধানের ১৫তম সংশোধনীর উদ্দেশ্য পরিষ্কার। নিজের মতো করে ক্ষমতার রাস্তা বানানো। এই কাজে যাদের ব্যবহার করা হয়েছে, অন্যতম প্রতিষ্ঠান জুডিশিয়ারি, যাদের মধ্যে খায়রুল হকের নাম সবার আগে। তাকে ব্যবহার করে, পরবর্তী সময়ে নানান সুবিধা দিয়ে আইনের যে ব্যত্যয় ঘটানো হলো- এই রায়কেও ব্যর্থ হতে দিলে দেশ থেকে গণতন্ত্রের চিহ্ন মুছে যেতে পারে। যত দিন না ৫ জানুয়ারির কারসাজির বিচার হবে, ভবিষ্যতে আর একটিও নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব।

রায়ে পাকিস্তান প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, বাক্যগুলো নাকি এতই জঘন্য যে উচ্চারণ করতেও ঘৃণা হয়। দেখা যাক, প্রধান বিচারপতিকে মতিয়ার উপদেশ। সাবেক বিচারপতি মানিকের ঘোষণা, তাকে শুধু পদত্যাগই নয়, দেশ ছাড়াও করা হবে। শিল্পমন্ত্রী আমু তার রক্ত পরীক্ষা করতে চেয়ে বলেছেনÑ ফাজলামির একটা সীমা আছে, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস আপনাকে কে দিলো? এর পরও প্রধান বিচারপতিকে অপরিপক্ব বলা অপরিপক্ব সংসদের প্রমাণ। বাস্তবে সর্বসম্মতিক্রমে প্রদত্ত রায়টি বৈধ, সংসদ অবৈধ।

বিডিআর থেকে ১৬তম সংশোধনী, প্রতিটি রায়কেই বিতর্কিত করা কারো কারো কাজ। মিডিয়া ট্রায়াল ও জুডিশিয়ারিকে আক্রমণ করে যে প্রমাণ দেয়া হলো, সর্বসম্মতিক্রমে দেয়া রায়কেই তা আরো বেশি বৈধতা দিলো। দুদক আর এনবিআরের মতো সংস্থাগুলোকে আবারো লেলিয়ে দিয়ে প্রমাণ করা হলো, খায়রুল হক মহামারীতে আক্রান্ত লীগ। এই মহামারী থাকলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কথা ভুলে যেতে হবে। এতকাল সন্দেহাতীত বিচার নিয়ে প্রশ্ন ছিল না, কিন্তু তীর যখন আওয়ামী লীগের দিকে, তখন তিনি আইএসআইয়ের লোক! এর পরও যারা ইসির সাথে সংলাপে যান, তাদের কাণ্ডজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন। নির্বাহীর কৃপাধন্য সিনহার বিবেক জাগলে সুশীলসমাজ জাগবে কবে?
‘বাংলাদেশ এখন আর জনগণের প্রজাতন্ত্র নয় বরং বিচারকদের প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়েছে’- মন্তব্য খায়রুল হকের। অথচ ১৫তম সংশোধনীকে কেন্দ্র করে ভয়ানক সাংবিধানিক ক্রাইসিসের সৃষ্টি হলে, এ ধরনের একটি বক্তব্যও দেননি। (প্রথম আলো ১২ আগস্ট, ৬ মাসেই উল্টো কথা) সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে পার্লামেন্ট আইন প্রণয়ন করে এবং তা দেখার দায়িত্ব বিচারকদের ওপর ন্যস্ত, যারা জনপ্রতিনিধি নন। যদি নির্বাহী বিভাগ অবৈধ আদেশ দেয়, আদালত তা সংশোধন করতে পারে। জাতীয় সংসদ যদি সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক আইন প্রণয়ন করে, তাও সুপ্রিম কোর্ট বেআইনি ঘোষণা করতে পারেন। ...এখানেই আইনের শাসনকে অর্থবহ করে মহিমান্বিত করার দায়দায়িত্ব বিচার বিভাগের ওপর ন্যস্ত। ...কখনো এক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করা ঠিক নয়। তা যত মহান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হোক না কেন।’ দু’মুখো কুশীলবরাই কিন্তু নির্বাচনের সময় আরো ভয়ঙ্কর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন।

প্রথমে দুই হাত ভেঙে দিয়ে বলা হলো, সাঁতারে যাওয়া নিষেধ। পরবর্তীকালে দুই পা এবং কোমর ভেঙে দিয়ে বলা হলো, সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ না নিলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। মনে হয়, খালেদাকে হয় নির্বাসনে নতুবা জেলে পাঠিয়ে আরেকটা ৫ জানুয়ারির ব্লুপ্রিন্ট তৈরি। এবার জুডিশিয়ারির বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ঘোষণা প্রমাণ করল, রাষ্ট্রের কোনো অঙ্গই থাবা থেকে নিস্তার পাবে না।
এ দিকে পাকিস্তানের পর থাইল্যান্ডও প্রমাণ করল জুডিশিয়ারির সম্মান আর শক্তি। রায়ের পরই নওয়াজ শরিফের পদত্যাগ এবং রায়ের আগেই গ্রেফতার এড়াতে দুবাই পালিয়ে গেলেন ইংলাক। অথচ কারোরই সমর্থকের সংখ্যা কম নয়। তা সত্ত্বেও কেউই আওয়ামী লীগের দৃষ্টান্ত নয়। ২০০৬ সালেও ক্ষমতাচ্যুত হয়ে এভাবেই নির্বাসনে যান ইংলাকের ভাই থাকসিন। পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের রেফারেন্সগুলো আমরা কেন মানতে পারলাম না? তোফায়েল আহমেদের দাবি, বঙ্গবন্ধুর ‘আমি’ থেকেই সংবিধানে ‘আমরা’। এসবই অপরিপক্ব ও ভেজাল সংসদের প্রমাণ।

এমনকি হাইকমান্ডের প্রথম সারির সমর্থক আগাচৌ পর্যন্ত মিডিয়া ট্রায়ালের নিন্দা করে ৭১ টেলিভিশনের কুৎসিত প্রচারণার বিরুদ্ধে লিখেছেন। প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুদকের হটলাইনে তিন শতাধিক অভিযোগ জমা। মিডিয়া ট্রায়ালে প্রবাসী জিয়াউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য হলে, উল্টা আওয়ামী লীগই প্রমাণ দিলো কয়েকটা জুডিশিয়ারি কিলিংয়ের সাথে জড়িত কারা। বোমা ফেললেন সাংবাদিক স্বদেশ কর। লিখেছেন, বিচারপতি নাকি গোলাম আযমের সৈনিক, কোলাবরেটর, অনুচর, পাকিস্তানের দাস! আমরা শোকাহত। বহুলালোচিত মানিক চড়ালেন সাম্প্রদায়িকতার রঙ। ৭১-এর শান্তিবাহিনীর সদস্য ঘোষণা। ৪৬ বছর পর স্মৃতিশক্তি ফিরল?
তবে উলঙ্গ করে ছাড়ল সোশ্যাল মিডিয়া। দ্বৈত নাগরিকত্বের খবর লুকিয়ে রেখেছেন। বিচারক থাকা অবস্থায় তিনি নাকি লন্ডনে ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট? এই বিচারকই সাঈদীর ফাঁসির একমাত্র রায় লেখক বলে প্রকাশ করছেন। এ দিকে ৬০টি রায় না লেখা পর্যন্ত তার অর্থনৈতিক সুবিধা বন্ধ রেখেছিলেন প্রধান বিচারপতি।

পাকিস্তান নিয়ে মন্তব্যে উত্তপ্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই। হাইকমান্ডের নানান খবর তো মিডিয়ায় তারাই দিচ্ছেন। ঘটনা কি অন্য কিছু? অবশ্যই। রায়টি তাদের আরেকটা ৫ জানুয়ারির ষড়যন্ত্র ভাঙার হাতিয়ার হিসেবে অবতীর্ণ।

দ্য টেলিগ্রাফ (ইনকিলাব, ২৬ আগস্ট), পাকিস্তানের সাথে তুলনা করে নাকি শেখ হাসিনাকে হুমকি দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। সুতরাং তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে অথবা ক্ষমতা থেকে অপসারিত করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। আদালত দীর্ঘ ছুটিতে গেলে সেটাই হতে পারে। প্রথম আলো, ২৬ আগস্ট দ্য হিন্দু বিজনেস লাইনের প্রবন্ধে লিখেছে, শেখ হাসিনা বিরোধী দলবিহীন নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছেন। ২০১৪-এর নির্বাচনের আগে সুষমা স্বরাজের ঢাকা সফরের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রদূত শ্রিংলার দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও উল্লেখিত। নির্বাচন আমাদের কিন্তু মাথাব্যথা কাদের? এসব ব্যক্তির হাতেই কি ২০১৯-এর নির্বাচন থাকবে?

ক্ষমতাসীনদের কৌশলটি এ রকম বলে প্রতীয়মান। প্রতিটি ইস্যুকেই প্রথমে বিতর্কিত করবে, এরপর জিতে যাবে। বিডিআর থেকে অভিশংসন রায়... প্রতিটি সঙ্কটকেই বিতর্কিত করার মাধ্যমে বছরের পর বছর ক্ষমতায়। শুধুই কি রায় বিতর্কিত করা! সংবিধানকেও বারবার তুরুপের তাস বানিয়ে সঙ্কট পার করা হচ্ছে। ১৫তম সংশোধনীকে একটি বড় সাংবিধানিক ক্রাইম বলতে হয়। আর এটাকেই শনাক্ত করলেন সর্বোচ্চ আদালত।

যে যাই ভাবুক, রায় বিনা কারণে নয়। নওয়াজ শরিফের রেফারেন্সও কথার কথা নয়, সেটি যে দেশ থেকেই আসুক। ‘১৩তম সংশোধনীতে হাত দিলে হাত পুড়ে যাবে’ এই বক্তব্যে প্রতীয়মান নির্বাহীর হস্তক্ষেপেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল। ১৫ ও ১৬তম সংশোধনী- দুটোই তাদের ব্রেন চাইল্ড। তারপরও ইসির ওপরে আস্থা রাখা যায়?

কী না করেছেন বিচারপতি সিনহা! সুতরাং আক্রমণের বদলে তার তো প্রশংসা পাওয়ার কথা। তাহলে? উদাহরণস্বরূপ জুডিশিয়ারিতে থেকেও উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা। ১৩তম সংশোধনী বাতিলে একমত হওয়া তিন বিচারকের একজন তিনি। তার অ্যাক্টিভিজম পূর্ণ জুডিশিয়ারিতেই ট্রাইব্যুনালের বৈতরণী পার। স্কাইপ কেলেঙ্কারিতে বিচারপতি নিজামুল হক সিনহার রেফারেন্স দিয়ে প্রবাসী জিয়াউদ্দিনকে বলেছিলেন, তিনডারে দিয়া লন, তারপর আপনেরে এইখানে নিয়া আমু...।
কাদের মোল্লা মামলার একমাত্র বিতর্কিত সাক্ষী মোমেনার তিন কিসিমের বক্তব্যের পরও সিনহার মনে হয়েছিল, একটি বক্তব্যকে আমলে নিয়ে যাবজ্জীবনের রায় বদলে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যেতে পারে। গণজাগরণ মঞ্চের ভরা বসন্তকালে সংসদে জুডিশিয়ারির ন্যায়বিচারের প্রশংসায় মুখে খৈ ফোটাত হাইকমান্ড। সংসদে শোনা গেল, বিচার বিভাগ স্বাধীন ও সুষ্ঠুভাবে কাজ করছে... আমাদের করার কিছু নেই... আদালত যে রায় দেবেন, সেটাই মানতে হবে। মনে আছে? তখন কিন্তু এই প্রধান বিচারপতিকেই দারুণ সুবিচারক মনে হয়েছিল। তারা অনেকগুলো ফাঁসির রায় লিখেছেন, রিভিউতে যথারীতি খারিজ করেছেন। আদালত অবমাননার দায়ে অনেকেই হেনস্তা হয়েছেন। ঘটনা যাই হোক, পর্দার অন্তরালে কিছু একটা ঘটছে বলে জনগণ মনে করছে। সেসব রুখতেই মন্ত্রী কামরুলের হুঙ্কার- ‘সিনহার নিয়োগ ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত’। আমরাও জানি, সংশ্লিষ্ট সব বিচারকই তাদের হাতে নিয়োগপ্রাপ্ত। তাহলে এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে?

২০০৬ সালের একটি রায়ে খায়রুল হকের মন্তব্য, ‘৭০ অনুচ্ছেদের বিধিনিষেধ একজন এমপিকে দলীয় বন্দীতে পরিণত করেছে।’ -ডেইলি স্টার, ২৫ মে ২০১৭। এখন কী বলছেন? ‘সাংসদেরা স্বাধীন নন, এটা আদালতের ভুল ধারণা।’ - প্রথম আলো, ১০ আগস্ট ২০১৭। নিজের ভোট কাস্ট করে ১৩তম সংশোধনী বাতিলের মেজরিটি। এর পরই হাইকমান্ডের ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা অনুদান গ্রহণ এবং আইন কমিশনারের চাকরি কিসের ইঙ্গিত? যে মন্তব্য করেছিলেন এই বছরের ফেব্র“য়ারিতে, সেটাই কি ১৬তম সংশোধনী বাতিলের রায়ের বক্তব্য নয়? এমন ব্যক্তি থাকলে কখনোই নওয়াজ শরিফ আর ইংলাকের দৃষ্টান্ত হতে পারবে না আওয়ামী লীগ।
‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে কেন তুলনা করবে, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে দেয়া হবে না। যদি কেউ সেই অপচেষ্টা চালায় তাকে সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের মুখোমুখি হতে হবে’ Ñমন্তব্য হাইকমান্ডের। সব বিচারপতি স্বাধীন মতামত দিয়েছেন কি না সেটা নিয়েও সংশয়! এখানে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি প্রসঙ্গ : ১) ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি জোটের জন্য কোথায় জায়গা রাখা হয়েছিল, প্রমাণ দেখাতে হবে। ২) পাকিস্তানের সাথে তুলনা নয়, বরং পাকিস্তানকে উল্লেখ করে ন্যায়বিচারের রেফারেন্সই আসল। গুরুত্ব পেয়েছে নওয়াজ শরিফ বনাম আদালত। পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, আমেরিকা- যেকোনো জুডিশিয়ারির বেলায় সেটা হতেই পারে।

ঘটনা যাই হোক, সর্বসম্মতিক্রমে দেয়া রায়টি ১৫তম সংশোধনীর মতো নয়। ১৫তম সংশোধনীকে আইন বানানোর ভোটাভুটিতে ২৯১ পক্ষে, মাত্র একটি বিপক্ষে। রায়ে বলা হয়েছে, পার্লামেন্ট ও নির্বাচনপ্রক্রিয়া এখনো শৈশবে, কোনোটাই বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নয়।
১৬ কোটি মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার মতো অপরিপক্ব পার্লামেন্টের একটি নমুনা; রানা প্লাজার লাশের ওপর দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্য হওয়া এনামের বক্তব্য- ‘পাঁচটাকে ক্রসফায়ারে দিয়েছি; ১৪ জনের লিস্টি হাতে।’

দেশবাসী মনে করে, খায়রুল হকের ওপরও চাপ ছিল, আছে বর্তমান ইসির ওপরও। কৃতজ্ঞতার প্রতিদান সবাই পান, প্রমাণও আছে। উদাহরণস্বরূপ তাৎক্ষণিক রায়ে আরো দুইবার তত্ত্বাবধায়কের কথা বললেও পূর্ণাঙ্গ রায়ে তা অনুপস্থিত এবং এরপরই তিনি আইন কমিশনার। সুতরাং গণতন্ত্রের পথে সব বাধা তাড়াতে হলে রায় কার্যকর করার বিকল্প নেই।

সহজ জবাব দিলেন সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাক্টিভিস্ট। ‘...এবার এনবিআর জেগে উঠেছে, দুদক সক্রিয় হয়েছে, হোল্ডিং ট্যাক্সওয়ালা সক্রিয় হয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জেগে উঠেছে, ব্যাংকগুলোও সচেতন হয়েছে, অতীতে এস কে সিনহা ঋণখেলাপি ছিলেন কি না ইত্যাদি।’ এ অবস্থায় ইসিকে উপযুক্ত বার্তা দিয়েই সংসদীয় গণতন্ত্রের রাস্তা পরিষ্কার করা শুরু হোক।
ই-মেইল: farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫