ঢাকা, বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭

তুরস্ক

কোরিয়া যুদ্ধে ট্রাম্পের অস্ত্র বাণিজ্য!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৫:৩৫


প্রিন্ট
কোরিয়া যুদ্ধে ট্রাম্পের অস্ত্র বাণিজ্য!

কোরিয়া যুদ্ধে ট্রাম্পের অস্ত্র বাণিজ্য!

যুদ্ধের হুঙ্কার ছেড়েছে উত্তর কোরিয়া। আর সেই সূত্র ধরে দক্ষিণ কোরিয়াকে মজবুত করতে উদ্যোগী হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দু’‌দেশের যৌথ সামরিক ক্ষমতা বাড়াতে রাজি হয়েছেন তিনি। সোমবার সেদেশের প্রেসিডেন্ট মুন জে–ইনের সঙ্গে ফোনে কথা হয় তার। তাতে দক্ষিণ কোরিয়াকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থেকে অস্ত্রশস্ত্র কেনার অনুমতি দিয়েছেন ট্রাম্প। যার দাম পড়বে প্রায় কয়েক শ' কোটি টাকা।

এছাড়াও, ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করেছেন। বর্তমানে দু’‌দেশের মধ্যে যে ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি রয়েছে, তাতে সাবমেরিন বিধ্বংসী টরপেডো ৫০০ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে পারে। বিস্ফোরকের ওজন বাড়াতে সম্মতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দুই দেশের ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তিটি ২০১২ সালে শেষবার সংশোধন করা হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে উত্তর কোরিয়া লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করায় ফের চুক্তিটি সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ বছর মে মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন মুন জে–ইন। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত দু’‌টি আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপন করেছে পিয়ংইয়ং।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনের সঙ্গেও সোমবার কথা হয় মুন জে–ইনের। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা চাপাতে ইতিমধ্যেই জাতিসঙ্ঘে প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। খুব শিগগির তার একটি খসড়া জমা দেবেন তিনি। তাদের সমর্থন করছে সিওল।

 

আরো নিষেধাজ্ঞা!‌
বেপরোয়া হয়ে উঠেছে উত্তর কোরিয়া। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষা করেছে। তাদের জব্দ করতে তাই একবার ফের মাঠে নামছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আরও কড়া নিষেধাজ্ঞা চাপানোর প্রস্তাব আনতে চলেছে। শিগগির জাতিসঙ্ঘে তার একটি খসড়া জমা দেবে তারা। জানালেন রাষ্ট্রপুঞ্জে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি।

তিনি বলেছেন, ‘আগ্রাসন বন্ধ করতে আর্জি জানিয়েছিল আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী। কিন্তু কথা কানে তোলেনি উত্তর কোরিয়া। উল্টে হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষা করে সপাটে চড় কষিয়েছে। আসলে যুদ্ধে নামার জন্য ছটফট করছেন কিম জঙ উন। যথেষ্ট হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কখনো যুদ্ধ চায় না। এই মুহূর্তে তো একেবারেই নয়। কিন্তু আমাদের অসীম ধৈর্য্য নেই। তাই অবিলম্বে আরও কড়া নিষেধাজ্ঞা চাপানো উচিত।’‌

চলতি সপ্তাহেই তার একটি খসড়া পেশ করবেন বলে জানিয়েছেন নিকি। তারপর সোমবার ভোটাভুটির জন্য সেটি তুলবেন। তবে নিষেধাজ্ঞা চাপালেই সমস্যার সমাধান হবে বলে নিশ্চিত নন রাষ্ট্রপুঞ্জে রুশ রাষ্ট্রদূত বাসিলি নেবেনজিয়া। তার মতে, ‘‌নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সন্ধি স্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার।’‌ রবিবার সকালে হাইড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষার কথা ঘোষণা করে উত্তর কোরিয়া। তদের পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করে জাতিসঙ্ঘ। তারপরই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা চাপার প্রস্তাবে একমত জাপান এবং ফ্রান্স। জাপানের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ায় গত মাসেই উত্তর কোরিয়ার ওপর একডজন নতুন নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল জাতিসঙ্ঘ।

বিশ্বের ভয়াবহতম কিছু পারমাণবিক বিস্ফোরণ
উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষা করা বোমাটি যদি হাইড্রোজেন বোমা হয়ও, তার পরেও এখন পর্যন্ত বিশ্বে ভয়াবহ যেসব পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা হয়েছে, সেগুলোর সাথে এটির তুলনা কতটা করা যায়? এখন পর্যন্ত পৃথিবীর বুকে মানুষের সৃষ্ট সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ হয়েছিল ১৯৬১ সালে যখন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ‘জার বোমবা’ বা ‘বোমার রাজা’ নামে একটি পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা করে। ওই হাইড্রোজেন বোমার শক্তি ছিল ৫০ হাজার কিলোটন।


আর্কটিক অঞ্চলে নোভায়া জেমলিয়া নামে দ্বীপপুঞ্জের যে জায়গায় ওই দানবীয় বোমাটি পরীক্ষা করা হয়েছিল, তার ৩৫ মাইলের মধ্যে সব ভবন, স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এমনকি শত শত কিলোমিটার দূরেও ভবনে ক্ষতি হয়েছিল। ফিনল্যান্ড, নরওয়ের মতো অনেক দূরের দেশেও বহু বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে পড়েছিল। তবে বিশ্বের প্রথমবারের মতো হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৫২ সালে, প্রশান্ত মহাসাগরের মার্শাল দ্বীপে। সেটির শক্তি ছিল ১০ হাজার কিলোটন।

৫০ কিলোমিটার দূরে একটি জাহাজে বসে সেই পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন মার্কিন পদার্থ বিজ্ঞানী হ্যারল্ড অ্যাগনিউ। তিনি পরে বলেছিলেন, ‘অত দূরে বসে যে তাপ সে দিন বোধ করেছিলাম তা জীবনেও ভুলব না। ক্রমাগত তাপ আসছিল। ভীতিকর এক অভিজ্ঞতা ছিল সেটি।’
পরীক্ষার পর ধোঁয়ার কুণ্ডুলি ৫০ কিলোমিটার উপরে উঠে গিয়েছিল, ছড়িয়ে পড়েছিল ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক পরীক্ষা ছিল ১৯৫৪ সালে ওই মার্শাল দ্বীপেরই বিকিনি অ্যাটল এলাকায়। শক্তি ছিল ১৫ হাজার কিলোটন। পরীক্ষার পর ১১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছিল। শত শত বহু মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল, যারা আর কখনই বাড়িতে ফিরতে পারেনি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫