ঢাকা, শনিবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

স্বাস্থ্য

করোনারি হৃদরোগীদের জন্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট

ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস

০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৫:১৯


প্রিন্ট
করোনারি হৃদরোগীদের জন্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট

করোনারি হৃদরোগীদের জন্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট

 

 

সুপার-পোষকগুলো বর্তমানে মেডিক্যাল আর বৈজ্ঞানিক রিসার্চের মনোযোগ আকৃষ্ট করেছে। এগুলো হচ্ছে- ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি আর ভিটামিন-ই’র অগ্রদূত। এই সব পোষক একসাথে মিলে এমন শক্তিশালী জোট তৈরি করে, যেটা শরীরকে বেশ কিছু রোগের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে, আর বয়স বাড়ার ক্রিয়াকেও কম করতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিহত করে হৃদরোগ। লিখেছেন ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশ কয়েক ধরনের খাদ্য দ্রব্যের পাওয়া যায়, আর প্রাকৃতিক রূপে ফল আর সবজির মধ্যে পাওয়া যায়, যেগুলো আমরা বেশি পরিমাণে খেতে পারি। বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন-সি আর ভিটামিন-ই’র অদ্ভুত শক্তির ব্যাপারে প্রচুর অধ্যয়ন করা হয়েছে। স্বাধীনভাবে ভিটামিন-এ ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ই সেবন করা ব্যক্তিদের মধ্যে ক্যান্সার, অ্যাঞ্জাইনা আর হৃদয়রোগ কম দেখতে পাওয়া যায়, আর তাদের আয়ুও লম্বা হয়।

শরীরকে চালানোর জন্য ভোজন থেকে প্রাপ্ত অক্সিজেনের সঞ্চার হিমোগ্লোবিনের লাল রঙয়ের কণাগুলো দ্বারা হয়, যাতে লৌহ থাকে। রক্ত-প্রবাহে অক্সিজেন কোশিকাগুলোকে জীবিত রাখার জন্য গ্রহণ করা হয়। এই ক্রিয়াকে অক্সিডেশন বলা হয়। যদিও এই অক্সিজেন মুক্ত কণার নির্মাণও করে, যেটা অধিক পরিমাণে হয়ে পড়লে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

মুক্ত কণা অক্সিডেশনের ক্রিয়ার সময় সৃষ্টি হয়। যখন শরীর অক্সিজেনের ব্যবহার করে, তখন সেটা এনার্জি তৈরি করার জন্য ভোজনকে বিঘটিত করে। এটা কীটানু, ওজন আর কার্বন মনো-অক্সাইডের মতো বিষাক্ত তত্ত্বগুলোকেও নষ্ট করে দেয়। এই প্রক্রিয়ায় মুক্ত কণাও সৃষ্টি হয়। এসব কণা কোশিকাগুলোর ঝিল্লিকে নষ্ট করে দেয়, আর ক্রোমোসোন্স এবং জৈবীয় সামগ্রীগুলোর ক্ষতিসাধন করে। এটা মূল্যবান এনজাইমগুলোকেও নষ্ট করে ফেলে। যার কারণে পুরো শরীরে নষ্ট হয়ে পড়ার এক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে পরে। এভাবে মুক্ত কণা করোনারি হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ, কয়েক ধরনের ক্যান্সার, চোখের ছানি, আর্থারাইটিস, পার্কংসন্স রোগ আর বার্ধক্যের মতো কমপক্ষে ৫০ শতাংশ রোগের এক বড় কারণ হয়ে ওঠে।

মুক্ত কণা থেকে হওয়া ক্ষতিকে আমরা দু’ভাবে কম করতে পারি। প্রথম, আমাদের এমন তত্ত্ব আর গতিবিধির হাত থেকে বাঁচতে হবে, যেগুলো মুক্ত কণা সৃষ্টি হতে সহায়তা করে, যেমন- সিগারেট, দূষণ আর সূর্যের আলট্রাভায়োলেট কিরণ।

দ্বিতীয়ত: এটা সুনিশ্চিত করতে হবে, আমরা নিজেদের দৈনিক আহারে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি আর মিটামিন-ই সেবন করে, বেশিমাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গ্রহণ করব।

যদিও ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি আর ভিটামিন-ই মুক্ত কণা থেকে হওয়া ক্ষতির সাথে লড়তে সহায়তা করে, বায়ু দূষণও এসব গুরুত্বপূর্ণ পোষকগুলোর সাপ্লাইকে কম করে তোলে। অধ্যয়ন থেকে এটা জানতে পারা গেছে যে, শহরে বাস করা ব্যক্তিদের মধ্যে, যারা দূষিত হাওয়ায় শ্বাস নেন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের স্তর কম থাকে। এর ফলে শরীরে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি আর ভিটামিন-ই-র আপুর্তি বিপজ্জনকভাবে কমে আসে। এমনটা হলে এগুলোর জায়গা মুক্ত কণা নিয়ে আর অক্সিডেটিভ চাপের সৃষ্টি হয়ে পড়ে। আমাদের ভোজনে মুক্ত কণা থাকাটা আমাদের পক্ষে বিপজ্জনক হয়। এর মুখ্য উৎস হচ্ছে- ফ্যাট (যেমন বেশি তাপমাত্রায় গরম করা রান্না করার তেল) ফ্যাটকে যে মুহূর্তে গরম করা হয়, তার রাসায়নিক রচনা ভেঙে বিপজ্জনক হাইড্রোলিক্স কণা তৈরি করে। কোশিকাগুলোর আর ডিএনএয়ের প্রচণ্ড ক্ষতি করে। (সূর্যমুখীর তেলের মতো পোলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি তাপমাত্রায় কম স্থায়ী থাকে। এটা জইতুনের তেলের মতো মোনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটয়ের তুলনায় দ্রুত অক্সিডেটেড হয়ে পড়ে।) মেডিক্যাল সায়েন্স সবসময় ভিটামিনের লাভের প্রচার করে এসেছে আর বৈজ্ঞানিকেরাও এই জাদু তত্ত্বের সার্থকতা প্রমাণ করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসের বিচার সম্বন্ধিত রূপে কিছুটা নতুন।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস প্যাথোলোজিক্যাল পরিস্থিতিগুলোয় চিকিৎসায় নতুন পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছে যেমন-
১) কার্ডিয়োভাস্কুলার রোগ- সিএইচডি, উচ্চ রক্তচাপ।
২) সেরিব্রোভাস্কুলার রোগ।
৩) মেটাবোলিজম রোগ-ডায়াবেটিস মেলিটাস।
৪) শিরার রোগ- এলেজমিট রোগ, মৃগী।
৫) বিপোষক রোগ- চোখের ছানি, আর্থারাইটিস, বার্ধক্য।
৬) ক্যান্সার।
ভিটামিন-এ
ভিটামিন-এ দুই প্রকারের হয়। প্রথম, পশুদের থেকে প্রাপ্ত উৎপাদন। যেমনÑ গোশত আর দুধে পাওয়া যায়। একে রেটিনল বলা হয় এবং দ্বিতীয় ফল আর সবজীতে পাওয়া যায়, যাকে- ক্যারোটিন বলা হয়। বিটা-ক্যারেটিনই অ্যান্টি- অক্সিডেন্টের রূপে কাজ করে।

শরীরের বিকাশ আর তন্ত্রগুলোকে সুস্থ রাখার জন্য ভিটামিন-‘এ’র প্রয়োজন হয়। এর অভাব হলে ত্বক আর চোখ অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে, আর সুস্থ হাড় আর ভালো দাঁত তৈরি হতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি এর অভাবের চিকিৎসা সময় থাকতে না করানো হয়, তাহলে ব্যক্তি পুরোপুরি অন্ধও হয়ে পড়তে পারেন। ভারতে অন্ধত্বের কারণগুলোর মধ্যে সব থেকে সাধারণ কারণ হচ্ছে ভিটামিন- ‘এ’-র অভাব। বিটা-ক্যারোটিন বেশ কিছু ফল আর সবজীতে পাওয়া যায়, যেমন- পালং শাক, ধনেপাতা, বাঁধাকপি, গাজর, আম, টমাটো ইত্যাদি। শরীরে এই ক্যারোটিন, ভিটামিন-‘এ’তে পরিবর্তিত হয়ে পড়ে। বিটা-ক্যারোটিন রান্না করলে বা আলট্রাভায়োলেট কিরণের ফলে নষ্ট হয় না।

একজন বয়স্ক ব্যক্তির প্রতিদিন ৬০০ মিলিগ্রাম রেটিনল বা ২৪ মিলিগ্রাম বিটা-ক্যারোটিনয়ের প্রয়োজন হয়। বাড়ন্ত শিশু, গর্ভবতী মহিলা আর অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ প্রয়োজনটা আরো বেশি হয়। এক মিলিগ্রাম বিটা-ক্যারোটিন= ০.২৫ মিলিগ্রাম রেটিনল।

বিটা-ক্যারোটিন দুভাবে কাজ করে। প্রথমে এর কিছু অংশ ভিটামিন-এ তে পরিবর্তিত হয়, আর অবশিষ্ট বিটা-ক্যারটিন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রূপে কাজ করে। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, বিটা-ক্যারোটিন আর ভিটামিন-এ-র মধ্যে যেন ভ্রমের সৃষ্টি না হয়ে পড়ে, কারণ এই দুটো হচ্ছে আলাদা আলাদা তত্ত্ব। আমাদের শরীর বিটা-ক্যারোটিনকে ভিটামিন-এ-তে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়।

যদিও, দীর্ঘ সময় ধরে বেশি পরিমাণে ভিটামিন-এ সেবন করাটা ক্ষতিকারক লক্ষণ সৃষ্টি করতে পারে। যেমন- মাথা যন্ত্রণা, গা গোলানো, বমি, আলস্য, শুষ্ক ত্বক, ঠোঁট ফাটা ইত্যাদি।

ভিটামিন-এ-র প্রয়োজন শরীরের বিকাশ আর তার তন্ত্রগুলোকে সুস্থ রাখার জন্য হয়। এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাগুলোর মধ্যে একটা হচ্ছে- আমাদের কোশিকাগুলোকে স্বরক্ষাত্মক কবচ বা ঝিল্লি প্রদান করা। এটা মিউকাস ঝিল্লিকেও সুরক্ষিত রাখে। এটা ফ্যাটে গলে যায়। মাছের লিভারের তেল হচ্ছে ভিটামিন-এ-র সব থেকে ভালো প্রাকৃতিক উৎস।

বিটা-ক্যারোটিন হচ্ছে গাছের মধ্যে পাওয়া এক প্রাকৃতিক পদার্থ, আর সবার আগে এটাকে গাজরের মধ্যে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল... এ জন্য পুরো পরিবারকে ক্যারোটেনয়েডস্ নাম প্রদান করা হয়েছিল। ক্রারোটেনয়েডস্ নাম প্রদান করা হয়েছিল। ক্রারোটেনয়েডস্ বেশ কিছু রঙ্গীন পদার্থ রয়েছে, যেগুলো প্রকৃতিতে দেখতে পাওয়া বেশ কিছু রঙয়ের ভাণ্ডার। বিটা-ক্যারোটিন গাঢ় লাল-কমলা রঙয়ের হয় এবং হলুদ আর কমলা গাঢ় সবুজ রঙয়ের সবজীতেও ক্যারোটিন থাকে, কিন্তু ক্লোরোফিলের কারণে হলুদ আর কমলা রঙ চাপা পড়ে যায়... কিন্তু অনেকবার এটা বেশি চাপা পড়তে পারে না. .. যেমন- লাউতে।

বিটা-ক্যারোটিন হচ্ছে সব থেকে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসগুলোর অন্যতম, যেটা গাছকে সূর্যের আলট্রাভায়োলেট কিরণে পুড়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। এটা হচ্ছে প্রকৃতির সঠিক রক্ষক। তরমুজ, বেদানা, আডু, আম আর গাজর, আলু, পালং শাক, টমাটো, আজওয়াইন, জলকুম্ভি আর ফুলকপির মতো ফল আর সবজীতে বিটা-ক্যারোটিন থাকে।

ভিটামিন-সি (এস্কোর্বিক অ্যাসিড)
অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের রূপে কাজ করা ছাড়াও ভিটামিন-সি’র আরো বেশ কিছু গুণ রয়েছে। এটা শরীরের বিকাশ আর শরীরের তন্ত্রগুলো, মাড়ি, দাঁত, রক্তের নাড়ি আর হাড়ে হয়ে পড়া ক্ষতিকে পুরণ করতেও সহায়তা করে। এটা শারীরিক ব্যবস্থায় শামিল থেকে ব্যাকটেরিয়া আর ভাইরাস সংক্রমণের সাথে লড়তেও সহায়তা করে। ভিটামিন-সি’র অভাবের কারণে হেমারেজ ক্ষতস্থান শুকোতে সময় নেয়া, স্কার্বি রোগ, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, হাড়ের ধীর গতিতে নির্মাণ ইত্যাদি লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায়। ভিটামিন-সি আমলাতে পাওয়া যায়। ভিটামিন-সি’র ভালো উৎস হচ্ছে রসযুক্ত ফল। যেমন- পাতি লেবু, মুসম্বি লেবু, কমলালেবু, পেয়ারা আর সবুজ পাতাওয়ালা সবজী, যেমন- পালং শাক ইত্যাদি।

কাটা আর রান্না একে নষ্ট করে দেয়। একজন বয়স্ক ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন এর প্রয়োজন হচ্ছে ৪০ মিলিগ্রাম। এটা শরীরে জমা হয়ে থাকে না, অতিরিক্ত মাত্রা প্রস্রাবের সাথে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।

ভিটামিন-ই
ভিটামিন-ই’ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে আর ঝিল্লির ওপরে জমা হয়। যার কারণে সেটাকে প্যারক্সাইডসয়ের ক্রিয়া থেকে রক্ষা করে। বাঁচায় আর অক্সিজেনের বিষাক্ত প্রভাবকেও আটকায়...এই প্রকার এটা অক্সিজেন মুক্ত কাণাগুলোকে মজবুত করে তুলে শরীরের রোগগুলোর সাথে লড়ার শক্তি প্রদান করে, আর হৃদরোগ থেকেও সুরক্ষা দেয়।

ভিটামিন-ই গম, অঙ্কুরিত আনাজ, গোটা আনাজ, স্যালাড ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। এ ছাড়া আরো কিছু তত্ত্বও আমাদের শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের কাজ করে। যেমন- সেলেনিয়াম, মেলিডেনম ইত্যাদি। আমরা অবশ্য এখানে সেগুলোর সম্বন্ধে আলোচনা করব না।

লেখক : অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, করোনারি আর্টারি ডিজিস প্রিভেনশান এন্ড রিগ্রেশান সিএডিপিআর সেন্টার, ৫৭/১৫ পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা। ফোন : ০১৯২১৮৪৯৬৯৯


অ্যাসিডিটি কমাবেন কিভাবে?

হঠাৎ হঠাৎ গলা বা বুক জ্বলতে থাকা। কখনো টক জাতীয় খাবারে মুখ বা গলা ভরে আসে। জিভ তেঁতো লাগে। কমবেশি সবাই এই সমস্যায় ভোগেন। পাকস্থলী থেকে তৈরি অ্যাসিড বা অম্ল উপরের দিকে উঠে এলে এমন হয়।

কয়েকটা অভ্যাস বদলালে এই সমস্যার সমাধান করা যায় সহজেই। একনজরে সেগুলো দেখে নেওয়া যাক—
১)‌ ভরপেট খেলে এই সমস্যা বেশি হয়। যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তারা সারাদিনে অল্প অল্প পরিমাণে খেতে পারেন। পেট খানিকটা খালি রেখেই খাওয়া শেষ করা ভালো। খাওয়ার সময় তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়। ধীরেসুস্থে ভালো করে চিবিয়ে খাওয়া ভালো। এতে হজমের সুবিধা হয়।

২)‌ খেয়েই শুয়ে পড়া ঠিক নয়। খাওয়ার পরপরই চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লে অ্যাসিড উপরের দিকে ঠেলে উঠতে পারে। ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নেয়াই সবচেয়ে ভালো। খাওয়ার পর বসে বই পড়ুন। কিংবা টিভি দেখুন। কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটিও করা যেতে পারে।
৩)‌ কিছু কিছু খাবার অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়ায়। যেমন ফ্যাটজাতীয় খাবার, মশলাদার খাবার, বেশি পেঁয়াজ, রসুন, পুদিনা, চা–কফি, চকোলেট। বুক জ্বালার সমস্যা থাকলে এইধরণের খাবার এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
৪)‌‌ অ্যাসিডিট কমাতে অনেকে সেভেন আপ বা পেপসি খান। এতে অ্যাসিডিটি সাময়িক কমে। তবে এইধরণের পানীয় থেকে ভবিষ্যতে আরও অ্যাসিডিটি হতে পারে। তাই বেশি পরিমাণে শুধু পানি খাওয়াই ভাল।
৫)‌‌ যাদের ওজন বেশি তাদের বুক বা গলা জ্বলার সমস্যা বেশি দেখা যায়। ওজন কমাতে পারলে সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
৬)‌ ধূমপান অ্যাসিডিটি বাড়িয়ে দেয়। তাই ধূমপান বন্ধ করলে অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

৭)‌‌ খাওয়ার পর ভারী কাজ বা পরিশ্রম না করাই ভালো। হালকা হাঁটাহাঁটি চলতে পারে। কিন্তু ভারী ব্যায়াম একদমই নয়।

৮)‌‌ রাতে ঘুমের মধ্যে অনেকের গলা জ্বলতে থাকে। মনে হবে, অ্যাসিড উপরে উঠে আসছে। মাথা একটু উঁচু করে শুলে স্বস্তি মিলবে। দুটি বালিশ ব্যবহার করা ভালো।
৯‌)‌‌ নানা ধরণের ওষুধ খেলেও অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে। ব্যথা কমানোর ওষুধে সমস্যা বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খাওয়াই ভালো।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫