ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

গবেষণা

গোপন মার্কিন সেনাঘাঁটিতে রহস্যময় পরীক্ষা!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭,রবিবার, ১৯:২৪


প্রিন্ট
গোপন মার্কিন সেনাঘাঁটিতে রহস্যময় পরীক্ষা!

গোপন মার্কিন সেনাঘাঁটিতে রহস্যময় পরীক্ষা!

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের আকাশে একাধিকবার ভিনগ্রহের উড়ন্ত যান দেখতে পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন একাধিক ব্যক্তি। কিন্তু কোনও দেশেরই প্রশাসন সেই দাবির সত্যতা স্বীকার করেনি। কিন্তু এবার এক গোপন মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ভিনগ্রহের প্রাণীদের এনে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় বলে দাবি তুললেন এক ইঞ্জিনিয়ার। যিনি নিজে ওই প্রকল্পের সঙ্গে ৩৯ বছর যুক্ত ছিলেন। এই বিষয়ে একটি বইও লিখছেন তিনি।

মার্কিন বিমানবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার রেমন্ড সিমানস্কি দাবি করেছেন, আমেরিকার বুকে যখনই কোনো ভিনগ্রহের মহাকাশযান ভেঙে পড়েছে, তখনই অত্যন্ত গোপনে মার্কিন গোয়েন্দারা সেই ধ্বংসাবশেষ সযত্নে তুলে এনে ওহাইওতে রাইট-প্যাটারসন বিমানবাহিনী ঘাঁটিতে রেখেছেন। বাইরে থেকে ওই ঘাঁটি দেখতে যে কোনও সাধারণ বাড়ির মতোই। কিন্তু বাড়ির নিচে রয়েছে অজস্র টানেল। সেই টানেলগুলি গিয়ে মেশে একটি গবেষণাগারে, যেখানে ভিনগ্রহের রহস্যময় প্রাণীদের নিয়ে কাটাছেঁড়া চলে। কেউ বাড়িটি খুঁজে পেলেও ওই টানেলের ম্যাপ না জানলে সারাজীবন দেখানেই ঘুরে মরে যাবেন! রেমন্ড দাবি করেছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি এলিয়েনদের বিষয়ে জানতে চাইলে, তাঁরা স্পষ্ট করে কিছুই জানাননি।


কাজে যোগ দেয়ার প্রথম সপ্তাহেই রেমন্ডকে এমন কিছু বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম পরীক্ষা করে দেখতে বলা হয়, যেগুলি এর আগে পৃথিবীর বুকে কোথাও দেখা যায়নি। ১৯৪৭-এর ২ জুলাই নিউ মেক্সিকোর রসওয়েল টাউনে একটি রহস্যজনক উড়ন্ত যান ভেঙে পড়ার ঘটনায় বিশেষ চাঞ্চল্য ছড়ায় সংবাদমাধ্যমে। রেমন্ড দাবি করেছেন, ওই দুর্ঘটনাস্থল থেকেও বেশ কয়েকটি ভিনগ্রহের প্রাণীর দেহ, তাদের মহাকাশযানের ভাঙা টুকরো উদ্ধার হয়। দেহগুলি মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে এনে ময়নাতদন্ত করা হয়। যানটি পরীক্ষা করে দেখেন মার্কিন বৈজ্ঞানিকরা। ওই যানের নমুনা সংগ্রহ করে আমেরিকাও নতুন মহাকাশযান তৈরির কাজ শুরু করে দেয়। যদিও মার্কিন প্রশাসন সুকৌশলে গোটা ঘটনাটাই ধামাচাপা দিয়ে দেন। সত্তরের দশকে ধীরে ধীরে ওই ঘটনার কথা মানুষ ভুলে যান।

কিন্তু ২০১২-য় এক প্রাক্তন সিআইএ এজেন্টের বিস্ফোরক মন্তব্যে ফের শিরোনামে উঠে আসে রসওয়েল। ওই মার্কিন গোয়েন্দা বলেন, ‘রসওয়েল একটি সত্যি ঘটনা। আমেরিকার মাটিতে ইউএফও (অজানা উড়ন্ত যান) সত্যি ভেঙে পড়েছিল। তার উল্লেখ আমি নিজে সিআইএ-র ফাইলে দেখেছি।।’ অতুৎসাহীরা বলেন, মার্কিন গোয়েন্দারা সেদিনের দুর্ঘটনাস্থল থেকে ভিনগ্রহের যে প্রাণীদের দেহ উদ্ধার করে এনেছিলেন, সেগুলি কাটাছেঁড়া করে বেশ কিছু নতুন প্রযুক্তির সন্ধান মেলে। যার সাহায্যে মার্কিন প্রশাসন অত্যন্ত গোপনে ভিনগ্রহের প্রাণীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকারী ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু করে। সিআইএ-র সদর দপ্তর ল্যাংগলেতে ওই ভিনগ্রহের যানের ধ্বংসাবশেষ গবেষণার জন্য রাখাও রয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।


রেকর্ড গড়লেন উইটসন
সবচেয়ে বেশি দিন মহাকাশে থাকার রেকর্ড গড়ে পৃথিবীতে ফিরলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশচারী পেগি উইটসন। তিনিই প্রথম মহিলা, যিনি দুবার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে বা আইএসএসের কমান্ডার হিসেবে কাজ করেছেন।

এর আগে মহাকাশে ৫৩৪ দিন থাকার রেকর্ড ছিল মার্কিন নভোচর জেফ উইলিয়ামসের। ৫৩৫ দিন মহাকাশে অবস্থান করে সেই রেকর্ড ভাঙলেন উইটসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার মেয়ে ইভানকা ট্রাম্প উইটসনকে ফোন করে অভিনন্দন জানান। আইএসএসের অফিসিয়াল টু্ইটার পেজে পেগি উইটসনকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। টুইটে বলা হয়, ‘২৪ এপ্রিল প্রথম প্রহরে রাত ১টা ২৭ মিনিটে জেফের ৫৩৪ দিন মহাকাশে থাকার রেকর্ড ভেঙেছেন মহাকাশচারী পেগি। তাকে শুভেচ্ছাও জানানো হয়।

আগস্ট মাসের শুরুতে নাসার শান কিমবরা আইএসএসের দায়িত্ব তুলে দেন ড. পেগি উইটসনের হাতে। ওই সময় কিমবরা আশা প্রকাশ করে বলেন, উইটসন এবার নতুন রেকর্ড গড়বেন।’

ড. উইটসনের বয়স এখন ৫৭ বছর। সবচেয়ে বেশি দিন মহাকাশে থাকার পাশাপাশি, সবচেয়ে বেশি বয়সি মহিলা মহাকাশচারী হিসেবেও মহাকাশ স্টেশনে থাকার রেকর্ড গড়লেন তিনি। তা ছাড়া এর আগেই মহিলা মহাকাশচারী হিসেবে বেশি দিন আইএসএসে থাকার রেকর্ড করেছেন তিনি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়ার বাসিন্দা উইটসন নাসায় যোগ দেওয়ার আগে রসায়নের ছাত্রী হিসেবে ডিগ্রি পান। নাসার সঙ্গে মেডিক্যাল ও গবেষণা নিয়ে এর আগে কাজ করেছেন তিনি। ১৯৯৬ সালে নাসায় যোগ দেন। ২০০২ সালে তিনি প্রথমবার আইএসএসে যান। ২০০৭ সালে তিনি প্রথমবার আইএসএসের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫