ঢাকা, শনিবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

ইউরোপ

পরমাণু বোমারু বিমান টিইউ-১৬০’য়ের আধুনিকায়ন রাশিয়ার

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০১ সেপ্টেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ১৬:৪৩


প্রিন্ট
পরমাণু বোমারু বিমান টিইউ-১৬০’য়ের আধুনিকায়ন রাশিয়ার

পরমাণু বোমারু বিমান টিইউ-১৬০’য়ের আধুনিকায়ন রাশিয়ার

রাশিয়া পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম দূরপাল্লার বোমারু বিমান তুপোলেভ –টিইউ-১৬০’য়ের আধুনিকায়ন সম্পন্ন করেছে। রুশ কৌশলগত বোমারু বিমান বহরকে নতুন করে শক্তিশালী করার জন্য চলতি বছরের গোড়ার দিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেয়া নির্দেশের ভিত্তিতে এটি করা হয়।

রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের উদ্ধৃতি দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ আধুনিকায়নের প্রথম পর্ব শেষ করার পর বিমানটি গ্রহণ করেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ন্যাটোর কাছে এ বিমান ব্ল্যাকজেট সাংকেতিক নামে পরিচিত।

এ ছাড়া, আধুনিকায়ন শেষ করার পর দুইটি টিইউ-৯৫(বিয়ার) বোমারু বিমানসহ শব্দের চেয়ে গতিশীল টিইউ-২২এম বিমানও রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভূমি এবং আকাশে এ সব বিমানের পুরো পরীক্ষা শেষ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

২০১৫ সাল থেকে সিরিয়ায় সন্ত্রাসী অবস্থানে অভিযান চালাতে তিন বোমারু বিমানের বহর ব্যবহার করেছে রাশিয়া। দামেস্কের আমন্ত্রণে এ অভিযান শুরু করছিল রাশিয়া।

টিইউ-১৬০ এবং টিইউ-২২এম সোভিয়েত আমলে তৈরি পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম বোমারু বিমান। এ ছাড়া, এ দুই বিমানই বসানো আছে পরমাণু অস্ত্রবাহী ক্রুজ ক্ষেপণান্ত্র। টিইউ-১৬০কে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং ভারি যুদ্ধ বিমান হিসেবে গণ্য করা হয়। এ ছাড়া, বর্তমানে যে সব বোমারু বিমান ব্যবহার হচ্ছে তার মধ্যে এটাই সবচেয়ে দ্রুতগামী।


রুশ-মার্কিন সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি, ট্রাম্প অসহায়
ট্রাম্প প্রশাসনের অস্বস্তি বাড়িয়ে মূলত কংগ্রেসের উদ্যোগে রুশ-মার্কিন সম্পর্কের অবনতি ঘটে চলেছে৷ এবার সান ফ্রানসিস্কো শহরে রুশ কনসালেট ও আরো দু'টি রুশ দপ্তর বন্ধ করে দেয়া হলো৷

গত প্রায় আট মাস ধরে অ্যামেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সংঘাতের চক্র এবার নতুন এক মাত্রা পেল৷ সান ফ্রানসিস্কো শহরে রুশ কনসালেট তথা ওয়াশিংটন ও নিউ ইয়র্কে রুশ বাণিজ্য দপ্তর বন্ধ করে দিলো মার্কিন প্রশাসন৷ উল্লেখ্য, সান ফ্রানসিস্কো শহরেই মার্কিন ভূখণ্ডে সবচেয়ে পুরানো রুশ কনসালেট অবস্থিত৷ এই তিনটি দপ্তর বন্ধ করা হলেও সেখানে কর্মরত কূটনীতিকদের বহিষ্কার করা হচ্ছে না৷ তারা দেশের অন্যান্য রুশ দূতাবাস বা দপ্তরে কাজ করতে পারবেন৷ এমনকি বন্ধ হয়ে যাওয়া দপ্তরগুলির মালিকানা রাশিয়ার হাতেই থাকবে৷

বর্তমান এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে৷ গত ডিসেম্বর মাসে মেরিল্যান্ড ও নিউ ইয়র্কে দু'টি রুশ অবসরযাপন কেন্দ্র বন্ধ করে দেয় মার্কিন প্রশাসন৷ ওবামা প্রশাসনের অভিযোগ, সেখানে গুপ্তচরবৃত্তির কাজ চলছিল৷ সে সময়ে ৩৫ জন রুশ নাগরিককে গুপ্তচর অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়৷ সাইবার যুদ্ধ চালিয়ে তারা ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল৷

এরপর মার্কিন কংগ্রেস ২০১৬ সালে মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ও ২০১৪ সালে ক্রাইমিয়া দখলের শাস্তি হিসেবে রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল৷ তার জবাবে রাশিয়া মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলির কর্মীসংখ্যা অর্ধেকের বেশি কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়৷ ফলে মাত্র ৪৫৫ জন অবশিষ্ট থাকে৷ অ্যামেরিকায়ও রুশ দপ্তর, কূটনীতিক ও কর্মীর সংখ্যা সেই মাত্রায় কমিয়ে আনতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো৷

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই রাশিয়া ও সে দেশের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির পক্ষে বক্তব্য রেখে এসেছেন৷ এমনকি তাঁর নির্বাচনের পেছনে রাশিয়ার ‘অবদান' নিয়েও একাধিক তদন্ত চলছে৷ অথচ তারই আমলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এতটাই অবনতি হয়েছে, যেমনটা শীতল যুদ্ধ শেষ হবার পর আর দেখা যায়নি৷

রাশিয়ার বিরুদ্ধে মূলত সংসদ সদস্যদের এই সব পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনকে চরম অস্বস্তির মধ্যে ফেলছে৷ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিবার এই সব সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিতে কার্যত বাধ্য হচ্ছেন৷

পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন রুশ প্রেসিডেন্ট সের্গেই লাভরভকে টেলিফোনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান৷ সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন তাঁদের সাক্ষাৎ হবার কথা৷

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫