ঢাকা, বুধবার,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭

অন্যান্য

আজ পবিত্র হজ

খালিদ সাইফুল্লাহ

৩১ আগস্ট ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১২:০৭ | আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৮:৫৯


প্রিন্ট
আজ পবিত্র হজ

আজ পবিত্র হজ

আজ পবিত্র হজ। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা, ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক লা শারিকা লাকা’। আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার। এ মধুর ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে আজ মুখর হবে পাহাড়ঘেরা পবিত্র আরাফাতের ময়দান। উচ্চকণ্ঠে তালবিয়ায় মহান আল্লøাহ তায়ালার একত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্বের কথা বিঘোষিত করবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। 
বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন পবিত্র হজ। আদিগন্ত মরুপ্রান্তর এক অলৌকিক পুণ্যময় শুভ্রতায় ভরে উঠেছে। সফেদ দুই খণ্ড কাপড়ের এহরাম পরিহিত হাজীদের অবস্থানের কারণে পবিত্রতার স্মারক শুভ্রতায় একাকার। গুনাহ মাফি আর আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ এ পবিত্র হজ পালন করছেন।

সৌদি আরবে হিজরি মাস গণনা অনুযায়ী গতকাল ৮ জিলহজ বুধবার সকাল থেকেই ইহরাম বেঁধে হাজীরা মক্কা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে মিনা নামক স্থানে গিয়ে তাঁবুতে অবস্থান নেন। সারা বিশ্বের লাখ লাখ হাজীর সমাগমে মিনা যেন পরিণত হয়েছে তঁাঁবুর শহরে। যে দিকে চোখ যায়, তাঁবু আর তাঁবু। এসব তাঁবুতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফোম, বালিশ, কম্বল বরাদ্দ। ফোমের নিচে বালু। মিনায় অবস্থান করা হজের অংশ। হজযাত্রীরা নিজ নিজ তাঁবুতে নামাজ আদায় ও অন্যান্য ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। মূলত এ স্থানে তাঁবুতে অবস্থান করেই হজের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা সুন্নাত। এর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী হজের কার্যক্রমও শুরু হয়। মিনায় অবস্থানের দিনকে হজের প্রথম দিন বলা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার ৯ জিলহজ মিনার তাঁবুতে ফজরের নামাজের পর সেখান থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান নেবেন। তবে অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে গতকাল সন্ধ্যা থেকেই হাজীরা আরাফাতের ময়দান অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। ৮ জিলহজ মিনায় অবস্থান থেকে শুরু করে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাতসহ হাজীদের বেশ কিছু করণীয় বিষয় থাকলেও মূলত আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের দিনকেই হজ বলা হয়। এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের অন্যতম ফরজ। কেউ এ অবস্থান বাদ দিলে তার হজই হবে না। আরাফাতের ময়দানে মসজিদে নামিরাহ থেকে খুতবা দেয়া হবে। খুতবা পাঠ করবেন মক্কার গ্র্যান্ড ইমাম। খুতবা পাঠ শেষে জোহর ও আসরের ওয়াক্তের মাঝামাঝি সময়ে হাজিরা জামাতের সাথে কসর (চার রাকাতের নামাজ দুই রাকাত) নামাজ আদায় করবেন।

আরাফাহ ও আরাফাত এ দুটো শব্দই আরবিতে প্রচলিত। দৈর্ঘ্যে দুই মাইল, প্রস্থেও দুই মাইল। এ বিরাট সমতল ময়দানের নাম আরাফাত। ময়দানের তিন দিক পাহাড়বেষ্টিত। জাবাল মানে পাহাড়। জাবালে রহমত হলো রহমতের পাহাড়। হজরত মুহাম্মাদ সা: এ পাহাড়ের কাছে দাঁড়িয়ে বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। এ পাহাড়ে একটি উঁচু পিলার আছে। একে কেউ কেউ দোয়ার পাহাড়ও বলেন। পিলারের কাছে যাওয়ার জন্য পাহাড়ের গায়ে সিঁড়ি আছে।

আজ সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজ না পড়েই হাজীরা আরাফাতের ময়দান ও মিনার মধ্যবর্তী স্থান মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে পৌঁছে এশার ওয়াক্তে এক আজান ও এক একামতে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন। মুজদালিফা থেকে শয়তানকে নিেেপর জন্য (৭০টি) কংকর সংগ্রহ করবেন হাজীরা। এখানে রাত যাপন করে আগামীকাল ১০ জিলহজ শুক্রবার ফজরের নামাজ পড়ে আকাশ লাল হয়ে ওঠা পর্যন্ত সেখানে হাজীরা অপো করবেন। এরপর মিনায় গিয়ে জামারাতে বড় শয়তানকে সাতটি কংকর নিপে করবেন। ১১ জিলহজ শনিবার সুবহে সাদিক পর্যন্ত বড় শয়তানকে কংকর নিপে করা যাবে। কংকর নিক্ষেপ করে হাজীদের কোরবানি করতে হবে। তারপর মাথার চুল কামিয়ে বা ছোট করে ইহরাম ভাঙবেন হাজীরা।

শুক্রবার সৌদি আরবে ঈদুল আজহা। এ দিন তাওয়াফে জিয়ারতের জন্য মক্কায় যাবেন। এ তাওয়াফ ফরজ। তাওয়াফ পরেও করা যায়। একই সাথে সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ে সায়ি করবেন তারা। এটা ওয়াজিব। তাওয়াফ শেষে আবার মিনার তাঁবুতে ফিরে এসে রাত্রি যাপন করবেন। ১১ জিলহজ শনিবার সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ার পর থেকে জামারাতে গিয়ে প্রথমে ছোট তারপর মেঝো এবং সর্বশেষ বড় শয়তানকে কংকর নিপে করবেন। এরপর মিনায় রাত যাপন করা সুন্নাত। ১২ জিলহজও একই নিয়মে জামারাতে গিয়ে হাজীদের কংকর নিপে করতে হবে। ওই দিন কংকর নিপে করে হাজীরা চাইলে মক্কায় ফিরে যাবেন। যদি কেউ সূর্যাস্তের আগে মক্কায় না ফেরেন তাহলে মিনায় রাত্রি যাপন করে ১৩ জিলহজ আরেক দফা জামারাতে কংকর নিপে করে হাজীরা মক্কায় ফিরে আসবেন। এভাবে হজের মূল কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটবে। এরপর মক্কা ত্যাগ করার সময় হাজীরা বিদায়ী তাওয়াফ করবেন।

স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ী তাওয়াফ অর্থাৎ কাবা শরিফে আবার সাতবার চক্কর দেয়ার মাধ্যমে হাজীরা সম্পন্ন করবেন পবিত্র হজ।

সৌদি সরকারের হিসাব অনুযায়ী এবার প্রায় ২০ লাখ মানুষ হজ পালন করবেন। তার মধ্যে ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সৌদি আরব গেছেন ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪০ জন। অভ্যন্তরীণ হাজী রয়েছেন দুই লাখ। এ বছর বাংলাদেশ থেকে হজ পালন করছেন এক লাখ ২৭ হাজার ২২৯ জন। বেসরকারি হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাবের কার্যনির্বাহী সদস্য ড. আব্দুল্লাহ আল নাসের সৌদি থেকে নয়া দিগন্তকে জানান, বাংলাদেশের হাজীরা ভালো আছেন। তারা আজ আরাফাতের ময়দানে হজ পালনের জন্য জড়ো হচ্ছেন।

পবিত্র হজ উপলে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি সরকার। এ কাজে মোতায়েন রয়েছে এক লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী। হাজীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে মিনায় কিছু দূর পরপর রয়েছে হাসপাতাল। রয়েছেন মোয়াচ্ছাসা, দমকলবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্য। হাজীরা পথ হারিয়ে ফেললে স্বেচ্ছাসেবক, স্কাউট ও হজকর্মীরা তাদের নির্দিষ্ট তাঁবু বা গন্তব্যে পৌঁছে দেন। সৌদি হজ মন্ত্রণালয় ও মোয়াচ্ছাসা কার্যালয় সূত্র জানায়, মক্কা, মিনা ও আরাফাতের ময়দানে সৌদি সরকারের প থেকে সব হাজীকে বিনা মূল্যে খাবার, বিশুদ্ধ পানিসহ সব সুবিধা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান হাজীদের নানা উপহার দিচ্ছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫