ঢাকা, শনিবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

চট্টলা সংবাদ

চট্টগ্রামে ক্রেতা-বিক্রেতায় জমজমাট পশুর হাট

ওমর ফারুক চট্টগ্রাম ব্যুরো

৩১ আগস্ট ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আর দুই দিন পর ঈদুল আজহা। শেষ মুহূর্তে চট্টগ্রামে গরুর বাজারে চলছে উৎসবের আমেজ। ক্রেতারা ব্যাপক আমেজ নিয়েই পশু কিনছেন। নগরীর আটটি পশুহাটে মাঝে মধ্যে মাইকে ভেসে আসছে মজার ঘোষণা। গরিবের গরু ২৫ হাজার থেকে শুরু হয়ে ধনীর ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকা হচ্ছে। স্বস্তির নিঃশ্বাস সবার মধ্যে। কখনো কখনো বিপত্তি গরু কেনার আনন্দে তেমন ছাপ ফেলছে না। জমজমাট হাটে উৎসবের আবহ। বিকিকিনি করে ক্রেতা-বিক্রেতার মুখে বিশ্বজয়ের হাসি।
কর্ণফুলী মজ্জ্যারটেক বাজার থেকে মাঝারি আকারের একটি গরু কিনলেন ব্যবসায়ী নওশাদ আলম। ৯০ হাজার টাকা দিয়ে কেনা গরুর দাম মেটালেন আনন্দ নিয়েই। তার কাছে গরুটি বিক্রি করা সাতকানিয়ার ওহিদুল আলম বললেন, ‘দাম মোটামুটি পেয়েছেন। এবার গরুর সরবরাহ কম থাকায় গতবারের চেয়ে দাম একটু বেশিই।’
বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বড় বা ছোট নয়, মাঝারি আকারের গরুর দিকেই ক্রেতাদের ঝোঁক বেশি। এ ধরনের গরু হাটভেদে ৪৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর চেয়ে সামান্য বড় গরু ৭০ থেকে ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
কর্ণফুলী বাজারের ইজারাদার সোলায়মান জানান, রোববার থেকে মানুষ বাজারমুখী হয়েছেন। তবে তেমন বিক্রি হয়নি। শুধু দাম শুনে উল্টো দিকে হেঁটেছেন। তবে মঙ্গলবার থেকে গরু বিক্রি বেড়েছে।
একই কথা বলেছেন সাগরিকা গরুর বাজারের ইজারাদার সাইফুল হুদা জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রায় এক হাজারের মতো গরু বিক্রি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকিকিনি আরো বাড়বে।
চট্টগ্রামের বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা সানন্দে পশু কিনছেন। হাটের প্রবেশপথে পুলিশ-র‌্যাবের পাহারা। তবে ভাঙাচোরা রাস্তায় তীব্র যানজটের কারণে ক্রেতারা-বিক্রেতাদের কষ্টের অন্ত নেই। এ ছাড়া বাজারে পশু আনতে পথে পথে চাঁদাবাজি হচ্ছে বলে বিক্রেতাদের অভিযোগ। চট্টগ্রাম গবাদি পশু ব্যবসায়ী সমিতির অফিস সেক্রেটারি কাজী আমিনুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘গত বছর সাগরিকা বাজারে এক লাখের বেশি গরু বিক্রি হয়েছিল। এ বছর তার চেয়ে বেশি গরু বিক্রির টার্গেট আছে।’
সাগরিকা হাটে গরুর পাশাপাশি ছাগল, দুম্বা, উটও বিক্রি হচ্ছে। হাটহাজারীর আবদুল মালেক পাঁচটি ছাগল বিক্রি করতে এসেছেন। জানালেন, চার বছর ধরে লালন-পালন করা ছাগল পাঁচটি বিক্রি করতে চান ৫০ হাজার টাকা। অপো করছেন কাক্সিক্ষত ক্রেতার।
সাগরিকা বাজারের পাশে আকবর মামার বাজারে সবচেয়ে দামি গরু উঠেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছে এখানে গরু। আকবর মামা এ প্রসঙ্গে নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘দূর-দূরান্ত থেকে এবার গরু এসেছে বেশি। বেচাকেনাও ভালো। বাজারের সার্বিক পরিবেশ ভালো থাকায় গরুর বিক্রেতাও খুশি।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরে স্থায়ী দু’টি হল সাগরিকা ও বিবিরহাট। অস্থায়ী হাটগুলো হলো সাগরিকা রোডের বশর মামার গরুর বাজার। গতকাল দেখা গেছে, এ বাজারে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, কুমারখালী, বালিয়াপাড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, কুড়িগ্রামসহ নাগেশ্বরীর বিখ্যাত গরুর সমাগম ঘটেছে। দূর থেকে এখানে ব্যবসায়ীরা মুনাফা লাভের আশায় এসব গরু নিয়ে এসেছেন। এ দিকে কর্ণফুলী গরুর বাজার, স্টিল মিল বাজার, পতেঙ্গা সিটি করপোরেশন উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, সল্টগোলা রেলক্রসিং মাঠ, কমল মহাজন হাট ও পোস্তারপাড় বিদ্যালয় মাঠেও অস্থায়ী গরুর বাজার বসানো হয়েছে।
গবাদি পশু ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিতে এবার ব্যাপক বিক্রির কারণে হাটে হাটে উৎসবের আমেজ চলছে।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫