ঢাকা, বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭

সংগঠন

ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা পর্যাপ্ত নয় : জাতীয় কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ আগস্ট ২০১৭,বুধবার, ১৭:৫৪


প্রিন্ট

ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতকরণে সরকার বেশকিছু পদক্ষেপ নিলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করেছে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি (এনসিপিএসআরআর)।

বাসযাত্রীরা সহজে ঢাকা ছাড়তে পারলেও দূরপাল্লার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ও ফেরিঘাটে মারাত্মক যানজটে পড়ছেন। এছাড়া দূরপাল্লার বিলাসবহুল বাসগুলো যথাসময়ে যাত্রা করলেও অনেক ট্রেন ও লঞ্চের সময়সূচিতে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে বলে দাবি করেছে বেসরকারি সংগঠনটি।

ঈদ-পূর্ববর্তী এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ করা এনসিপিএসআরআরের পক্ষ থেকে।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবার ঈদুল আজহায় ট্রেন ও বাসের টিকিট কালোবাজারি কম হলেও অনেক বাস ও লঞ্চ সার্ভিস অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। গুরুত্বপূর্ণ দুটি ফেরিঘাট মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া (মাওয়া) ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে ‘ভিআইপি সেবা’র নামে পদ্মার শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে যাত্রীবাহী যানবাহন পারাপারে সিরিয়াল ভঙ্গসহ নানা অনিয়ম হচ্ছে। ফলে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার বাসগুলো নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। এছাড়া দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকলেও আইন লঙ্ঘন করে ট্রেন ও লঞ্চের ছাদে যাত্রী বোঝাই করা হচ্ছে। এসব কারণে শেষ মুহূর্তে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ-দুর্দশা ও শংকা মাথায় নিয়েই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

সড়কে প্রধান বিড়ম্বনা যানজট ও প্রধান শংকা দুর্ঘটনা উল্লেখ করে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বিভিন্ন স্থানে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর সরব পদচারণা সত্ত্বেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট এবং শিমুলিয়া ও পাটুরিয়া ফেরিঘাটে তীব্র গাড়িজট নিরসন করা যেমন সম্ভব হয়নি, তেমনি দিন-রাত মেরামত করেও ৫০ শতাংশেরও বেশি সড়ক নির্বিঘ্ন যান চলাচলের উপযোগী করা যায়নি। এ কারণে বিড়ম্বনা ও দুর্ঘটনার শংকা মাথায় নিয়েই চলতে হচ্ছে সড়কপথের যাত্রীদের। একইভাবে ট্রেন চলাচল যানজটমুক্ত হলেও ছাদে যাত্রী বহন করায় সেখানেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।

নৌপথও দুর্ঘটনার ঝুঁকিমুক্ত নয় দাবি করে জাতীয় কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, নৌ মন্ত্রণালয় দুর্ঘটনা এড়াতে রাতে বিভিন্ন নৌপথে বালু ও সিমেন্টবাহী নৌযান, ইঞ্জিনচালিত যাত্রীবাহী ট্রলারসহ অনিবন্ধিত ও ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিলেও সে ঘোষণা কার্যকর হয়নি।

অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলে জাতীয় কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ঈদে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকে তা জানা সত্ত্বেও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-পথে নিয়মিত চলাচলরত ১৯টি ফেরির তিনটি দীর্ঘদিনেও মেরামত না করায় সেগুলো অকেজো রয়েছে। একইভাবে শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌপথে ১৯টির স্থলে ১৮টি ফেরি চলাচল করছে। এছাড়া যাত্রী পরিবহনের জন্য বিআইডব্লিউটিসির বহরে সাতটি স্টিমার (রকেট) থাকলেও তার মধ্যে দুটি দীর্ঘদিন বিকল রয়েছে। ফলে চারটি ফেরি ও দু’টি স্টিমার ঈদ সেবা দিতে পারছে না। পদ্মার বিভিন্ন নৌ-পথে ত্রুটিপূর্ণ অনেক লঞ্চ ও স্পিডবোটে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে। তবে এবার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশনসহ রাজধানীর অন্যান্য বাস টার্মিনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক বলে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫