ঢাকা, শুক্রবার,২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

ধর্ম-দর্শন

কোরবানির সার্বজনীন গুরুত্ব

মঈনুল আহসান

৩০ আগস্ট ২০১৭,বুধবার, ১৭:৪৫


প্রিন্ট
কোরবানির সার্বজনীন গুরুত্ব

কোরবানির সার্বজনীন গুরুত্ব

পরম স্রষ্টা মহান আল্লাহ পাক তাঁর পবিত্র কালামে স্পষ্ট করে বলেছেন, এই মহাবিশ্বের সব বস্তুই সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের কল্যাণে ও প্রয়োজনে এবং জগতের সবকিছুই আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে মানুষের জন্য বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত (২:২৯, ১৬৪; ১৪:৩২৩৪; ৪৫:১২১৩ দ্রষ্টব্য)। এর মধ্যে মানুষের ক্ষুণিœবৃত্তিতে গাছপালা, পশু-পাখিদের অকাতরে জীবন দেয়া উল্লেখ করার মতো বিষয়।
সৃষ্টির সেরা জীব হওয়ার পরও বিশ্বের বেশির ভাগ পশু-পাখিই আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, ইচ্ছামতো কাজেও লাগাতে পারি না। বাঘ, সিংহ, ভল্লুক, বন্য মহিষ মানুষের জন্য আতঙ্ক বিশেষ। হরিণ এতটাই ক্ষিপ্র যে, তার নাগাল পাওয়া কঠিন। হাতি, ঘোড়া, গাধা, জেবরা, জিরাফ মানুষের জন্য কোনো সুখাদ্য নয়। তাই গরু, ছাগল, উট, ভেড়ার মতো চতুষ্পদ জন্তুগুলো যে আমাদের বশীভূত ও ব্যবহার উপযোগী এবং খাদ্যবস্তু হিসেবেও বিশেষ উপাদেয় সেটা বস্তুত মানুষের প্রতি বিশ্ব স্রষ্টার পরম দয়া বৈ আর কিছু নয়।

সেই পরম দয়াময় স্রষ্টাই যখন তাঁর ওই একান্ত দয়ার দান পশুগুলোর মধ্য থেকে তাঁরই নামে ও উদ্দেশ্যে কোরবানি করতে বলেন এবং সেই কোরবানির গোশত নিজের জন্য একাংশ রেখে বাকি দুই অংশ বিলিয়ে দিতে নির্দেশ দেন আত্মীয়-স্বজন ও গরিব-দুঃখীদের মধ্যে (২২:২৮,৩৬ দ্রষ্টব্য), তখন এর কথিত যৌক্তিকতা খুঁজে বেড়ানো অথবা সেই কাজে দ্বিধা করা কোনো অবস্থাতেই কোনো কৃতজ্ঞ ও বিবেকবান ব্যক্তির কাজ হতে পারে না। বলাই বাহুল্য, সেই কৃতজ্ঞতা বোধের পরীক্ষা ও সমীক্ষার উপলক্ষ হলো বার্ষিক কোরবানির দিন।

যারা আজও কোরবানিকে ‘নির্বিচার পশু হত্যা’ ও ‘বর্বরতা’ বলে দাবি করেন তাদের উচিত তাদের সেই গলাবাজির জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক সামর্থ্যরে উৎসের কথা চিন্তা করা। তাদের ওই গলাসহ দেহের যাবতীয় শক্তি-সামর্থ্যরে জন্য তারা প্রাণীর ওপরই নির্ভরশীল। এমনকি এসব বক্তব্যজীবীদের সভা-সেমিনারের আগে পরে যে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়, তাতেও প্রাণীর গোশতের দু-একটা আইটেম থেকে থাকে প্রায় নিশ্চিতভাবেই। তাদের সব ক্ষোভ কোরবানির ‘পশু হত্যা’ কেন্দ্রিক হলেও ‘স্বাস্থ্যময় সুখী জীবনের’ নিশ্চয়তা বিধানে প্রতিদিন বিশ্বের আনাচে-কানাচে কিভাবে যে কত শত কোটি গাছপালা, পশু-পাখি কাতারে কাতারে অকাতরে প্রাণ দিতে চলেছে তা বাধ্য হয়ে তারা জানতেও যেন আগ্রহী নন মোটেও। এসব ‘বিদগ্ধজন’দের দৃষ্টি খুলে দেয়ার যথার্থ দিন হলো এই কোরবানির দিন।

বস্তুত পৃথিবীর বুকে মানুষের জীবনযাপনকে সহজ করতে দয়াময় আল্লাহ তাঁর সৃষ্ট কত শত কোটি প্রাণকে যে কতভাবে নিয়োজিত রেখেছেন আর কত সহস্র কোটি প্রাণের বিনিময়ে যে চালু রেখেছেন মানুষের জীবন ও সভ্যতাকে, তা অতি প্রকট ও চাক্ষুষভাবে উপলব্ধি করা যায় পবিত্র কোরবানির দিনে।

যেকোনো রক্তপাতই হৃদয়বিদারক। কোরবানির সময়ে সৃষ্ট বেদনার্ত দুর্বলতার মুহূর্তে তাই অনেক মুসলমানও হয়ে পড়েন বিভ্রান্ত। বুঝতে ভুল করেন এই ইবাদতের তাৎপর্য এবং কেউবা নিজের অজান্তেই কোরবানির মধ্যে আবিষ্কার করেন ‘বর্বরতা’। আগ্রহী হয়ে ওঠেন ‘পশু জবাই’-এর বিকল্প অনুসন্ধানে। এরাই সাহিত্যে, মিডিয়ায় আর টকশোতে পশুর মূল্য পরিমাণ অর্থ দান করে দেয়াকে কোরবানির সমতুল্য উৎসর্গ হিসেবে দাঁড় করানোর ব্যর্থ চেষ্টা করেন।

কেউ কেউ হজের সময় লাখ লাখ হাজীদের খাওয়া-দাওয়ার জোগান দিতে শুধু মিনাতেই কোরবানিকে করণীয় এবং বিশ্বের অন্যত্র অপ্রয়োজনীয় বলে ভুল ধারণা করে থাকেন। ভাবটা এমন, মানুষ যেন জীবন বাজি রেখে হজে যায় মিনাতে বসে খাওয়া-দাওয়া করার জন্য। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, হজের মহাব্যস্ততাময় দিনগুলোতে হাজীদের হাতে নাওয়া-খাওয়ার বাস্তবে কোনো সময়ই থাকে না। তাদের খাওয়া সারতে হয় চলতি পথে, দৌড়ের ওপর। কোরবানির গোশত যে কখন কোথায় থাকে এবং কোথা থেকে যে কোথায় যায়, তার কোনো খোঁজ পাওয়াই সম্ভব নয় হাজীদের পক্ষে, সেখানে গোশত খাওয়ার চিন্তা তো সুদূর পরাহত।

বিশ্বস্রষ্টা সর্বজ্ঞানী আল্লাহ পাক খুব ভালোভাবেই জানেন মানুষের মন ও চিন্তার এহেন বিক্ষিপ্ত বিভ্রান্তির কথা। তাই কোরবানিতে পশু জবাইয়ের প্রত্যক্ষ উদাহরণ সৃষ্টি করে রেখেছেন তাঁর প্রিয় দুই বন্ধু হজরত ইব্রাহিম আ: ও নবী করিম সা:-এর মাধ্যমে। তিনি ইব্রাহিম আ:-কে কোরবানির আদেশ করেছিলেন স্বপ্নের মধ্যে (৩৭:১০২, ১০৭ দ্রষ্টব্য) আর শেষ নবী সা:-কে সরাসরি ওহি নাজিল করে নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ার ও কোরবানি করার (১০৮: ২ দ্রষ্টব্য)।

এটা স্পষ্টভাবেই পশু কোরবানির আদেশ। এখানে কোনো সমতুল্য নির্ধারণ বা বিকল্পের সুযোগ রাখা হয়নি। তেমন ভ্রান্ত ধ্যান-ধারণার পথ চিরতরে বন্ধ করতে নবীজী সা: সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘কোরবানির দিনে পশুর রক্তপাতই আল্লাহর কাছে সবচাইতে কাক্সিক্ষত ইবাদত’ (তিরমিজি ও ইবনে মাজা’হ শরিফ)। কোরবানির সীমাহীন গুরুত্বকে তুলে ধরতে তিনি আরো বলেছেন, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানির সময় যে ইচ্ছাকৃতভাবে কোরবানি দেবে না সে যেন ঈদগাহের ধারেকাছেও না আসে (ইবনে মাজা’হ)। মদিনার জীবনের প্রতিটি বছর তিনি কোরবানি করেছেন (তিরমিজি শরিফ)। এমনকি আর্থিক শর্তের বিবেচনায় তাঁর ওপর কোরবানি ওয়াজিব না হলেও তিনি কোরবানি দিয়েছেন।

শুধু তাই-ই নয় বিদায় হজের সময় জীবনের শেষ কোরবানিতে নবীজী সা: আল্লাহর নামে উৎসর্গ করেছিলেন এক শ’টি উট যার মধ্যে নিজের বয়সের সমসংখ্যক পশু জবাই করেছিলেন নিজের হাতে আর বাকিগুলো তাঁর হয়ে জবাই করেছিলেন হজরত আলী রা:। এসব প্রত্যক্ষ উদাহরণের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সা: বিশ্ববাসীর কাছে এই সত্যটাই প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন যে, কোরবানির দিন আল্লাহর নামে ‘পশুর রক্তপাত’-এর কোনো বিকল্প কোনো অবস্থাতেই সম্ভব নয়। তাই পশু জবাই বাদ দিয়ে অন্য কোনো উপায়ে কোরবানির মূল্য বা পুণ্য আদায়ের যেকোনো চেষ্টা একেবারেই অর্থহীন, তাৎপর্যহীন এবং কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট পরিপন্থী।

কিন্তু কেন এই রক্তপাত? নিজ হাতে কোরবানির পশু জবাই করা কেন এতটা তাৎপর্যপূর্ণ? একটু লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, আল্লাহ কর্তৃক মানুষের জন্য নির্ধারিত ইবাদতগুলোর মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষের অন্তরে পার্থিব এই জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বকে দৃশ্যমান করে তাকে ইহজগতের মোহমুক্ত রাখা এবং মুহূর্তের নোটিশে এই জগৎ ছেড়ে যাওয়ার জন্য তৈরি করা। যেমন প্রতিটি নামাজের সময় সবকিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে দৃঢ়চিত্তে আল্লাহর সামনে, আল্লাহর নামে মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে আমরা নিজেকে এটাই বলে থাকি যে, সারা দিনমান যত কিছুই করি না কেন, সেসবে আমার কোনোই কৃতিত্ব নেই। বরং সেগুলো সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ পাকের নিতান্ত অনুগ্রহ মাত্র এবং সেসব ছেড়ে মুহূর্তের নোটিশে নামাজে দাঁড়িয়ে পড়ার মতোই আমি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে যেকোনো মুহূর্তে এই নশ্বর ভুবন ত্যাগেও সদা প্রস্তুত।

রোজা রাখা অবস্থায় হাতের কাছে থাকা সব সুখভোগ থেকে নিজেদের বিরত রেখে আমরা এই সত্যকেই প্রতিষ্ঠিত করি যে, আমাদের খাদ্যদ্রব্য বা দৈহিক শান্তির কোনোটাই বস্তুত আমাদের নয়। আল্লাহ পাক দয়া ও অনুগ্রহ না করা পর্যন্ত এসবের কোনোটাই আমরা ভোগ করতে সক্ষম নই। আল্লাহ যদি চান, তাহলে আমাদের খাদ্যের এই সুবন্দোবস্ত লুপ্ত হতে পারে এক লহমায়। এমনকি, আল্লাহ পাক চাইলে এসব উপাদেয় খাদ্য যেকোনো সময় হতে পারে আমাদের মৃত্যুরও কারণ। তাই, যে আল্লাহ পাকের অপার করুণায় আমাদের এই সুখভোগ সেই তিনিই যখন আমাদের বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষণিকের জন্য সেসব সুখ পরিহারের নির্দেশ দেন তখন তা অবিশ্বাস করা অথবা তা পালনে গাফিলতি করার কোনো কারণই থাকতে পারে না।

জাকাতের অবস্থাও তাই। নিজের উপার্জন নিজ হাতে বিলিয়ে দিয়ে আমরা আমাদের অন্তরকে এটাই বলে থাকি যে, এসব অর্থ-কড়ি যা কিছু এই মুহূর্তে আমার, তা বস্তুত গতকাল পর্যন্ত ছিল অন্যের এবং নিশ্চিতভাবেই আগামীকালও তা হবে অন্য কারো, মাঝের এই সময়টুকু সেটা যে আমার পকেটে আছে, তা নিতান্তই মহা করুণাময় আল্লাহ পাকের পরম দয়া। তাই আল্লাহরই নির্দেশে আল্লাহরই ওয়াস্তে তা বিলিয়ে দিতে আমার আপত্তি বা কার্পণ্য করার কোনো সুযোগ নেই। অর্থ-সম্পদের এই নিঃসঙ্কোচ সম্প্রদানের মাধ্যমে বিশ্ব জগৎ ত্যাগের মুহূর্তে সব সম্পর্ক ও সম্পদের মায়া ছেড়ে চলে যাওয়ার যে বাস্তবতা, তার একটা অনুশীলনও যেন হয়ে যায় নিজের অজান্তেই।
আর হজ তো পুরোটাই কবর ও হাশরের এক দৃশ্যমান প্রতিচ্ছবি। দুনিয়ার যাবতীয় সম্পর্ক চুকিয়ে কাফনের কাপড় গায়ে জড়িয়ে আরাফাতের সুবিশাল ময়দানে হাজির হয়ে আল্লাহর দরবারে হৃদয়-মন উজাড় করে পানাহ চাওয়াটা শেষ বিচার দিবসেরই একটা সরাসরি ড্রেস রিহার্সাল যেন। একইভাবে কোরবানির অবস্থাও বস্তুত ভঙ্গুর এই পার্থিব জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের স্পষ্ট স্মারক যুক্ত এবং মৃত্যুকালীন ভয়াবহতার চাক্ষুষ নিদর্শনবহ।

লক্ষণীয়, কোরবানির জন্য হাঁস, মুরগি, খরগোশ, কবুতরের মতো সহজলভ্য পশু-পাখি কিংবা কোনো গাছ-গাছালি নয় বরং ব্যবহৃত হয়ে থাকে বয়ঃপ্রাপ্ত সুঠামদেহী চতুষ্পদ গৃহপালিত পশু, যাকে আল্লাহ পাক নিতান্তই দয়া করে আমাদের বশীভূত করে না দিলে আমাদের সাধ্য ছিল না সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা (২২:৩৭ দ্রষ্টব্য)। এই পশুগুলোকে কোনো না কোনো স্নেহময় মনিবের তত্ত্বাবধানে অনেক শ্রম আর যতেœর সাথে লালন-পালন করে তিল তিল করে গড়ে তুলতে হয় কোরবানির উপযুক্ত করে। অতঃপর শ্রেষ্ঠ সেই পশুটা কিনে নিজের করে নিতে কেউ কার্পণ্য করে না কষ্টার্জিত অর্থ ত্যাগ করতে। কিন্তু কোরবানির মুহূর্তে সেই সেরা পশুটা যখন প্রাণ হারায়, তখন কেউ বিবেচনা করে না তার অর্থ মূল্য, কর্ম ক্ষমতা বা সৌন্দর্য। তার শক্তিমত্ত দেহ কিংবা তার প্রতি ক্রেতার ভালো লাগা অথবা মনিবের মমতা কোনো কিছুই পারে না তাকে বাঁচাতে, পারে না তার মৃত্যুকে বিন্দুমাত্র বিলম্বিত করতে। মৃত্যুর অবশ্যম্ভাবী বিধান তাকে মেনে নিতে হয় নিতান্তই অসহায়ভাবে।

নিজে জবাই হয়ে সে বস্তুত তার জবাইকারীদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় জীবনের অনিবার্য পরিণতি। বলে দিয়ে যায়, মৃত্যুর সেই অবশ্যম্ভাবী পরোয়ানা তাদের মাথার ওপরও ঝুলছে একইভাবে। পার্থক্য শুধু সময়ের; দু’দণ্ড আগে আর পরে। কিন্তু নিয়তি এক, পরিণতিও এক। স্বজনদের ভাবাবেগ, প্রযুক্তির বেগ, ডিগ্রির দাপট কিংবা শক্তি-সামর্থ্য-সম্পদ কোনো কিছুই কাউকে রক্ষা করতে পারবে না মৃত্যুর হাত থেকে, এতটুকু বদলাতে পারবে না কারো মৃত্যুকালীন অবস্থা। চূড়ান্ত অসহায়ত্বের সাথে সবাইকে চেয়ে চেয়ে দেখতে হবে প্রিয়জনের মরণ যাত্রা। চরম সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে যেকোনো মুহূর্তে, চোখের পলকে এবং সম্পূর্ণ একাকী। ‘ওয়ান টু ওয়ান’ মোলাকাতের ওই অবস্থা ভালো কিছু হবে নাকি কোরবানির পশুর মতো অথবা তার চাইতেও ভয়াবহ হবে, তা শুধু তিনিই বলতে পারেন যিনি এই জীবন ও মরণের প্রকৃত মালিক, যার হাতে আছে সব জীবন আর মরণের লাগাম।

যে হৃদয় অনুধাবন করতে পারে পরম এই সত্যগুলোকে, তার পক্ষে কখনো সম্ভব নয় আল্লাহ পাকের প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়া। তার পক্ষে সম্ভব নয় আল্লাহর কোনো সৃষ্টির প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করা, নির্দয় হওয়া অথবা সেগুলোর প্রতি কোনো অবিচার করা। কোরবানি থেকে পাওয়া সত্য উপলব্ধির এই পরম শক্তিই পারে নিজের মাঝে বিরাজমান পশুত্বকে পরাভূত করে সেখানে শাশ্বত স্নেহ-মমতা আর পবিত্রতম প্রেম-ভালোবাসাকে প্রতিষ্ঠিত করতে। বান্দার এই আত্ম উপলব্ধিই সেই ‘তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতির’ মূল, যা কিনা কোরবানির দিনে পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহর দরবারে পৌঁছে থাকে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে পবিত্র আল-কুরআনে (২২:৩৭ দ্রষ্টব্য)।

এহেন মহান দর্শনময় যে কোরবানি, সেখানে গরু-খাসির গোশত-চামড়া-ঠ্যাং নিয়ে হুটোপুটি করা কিংবা রক্তাক্ত পোশাক আর শাণিত ছুরি হাতে ঔদ্ধত্যপনা করে ভয়ার্ত দৃশ্যপট সৃষ্টির সুযোগ কোথায়? মূল আদর্শচ্যুত এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনার সমালোচনা করতে গিয়ে সর্বস্রষ্টা ও সর্বদাতা এক আল্লাহ পাকের নামে উৎসর্গিত ঈমানদারদের কোরবানিকে কটু যুক্তিতে আক্রমণ করা অথবা অন্যান্য যেনতেন উৎসর্গের সাথে এর তুলনা করা খুবই অসঙ্গত। আর কারণে-অকারণে এর বিকল্প অনুসন্ধান করাটাও নিতান্তই অজ্ঞতাপ্রসূত গর্হিত কাজ। 

লেখক : লস অ্যাঞ্জেলস প্রবাসী

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫