ঢাকা, শনিবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

পাঠক গ্যালারি

অবক্ষয়ের সমাজ

নাজমুস সাকিব

২৯ আগস্ট ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৯:৪১


প্রিন্ট

একসময়ে দুরারোগ্য অনেক রোগেরই আমরা মুখোমুখি হয়েছি। যেমন কলেরা, যক্ষ্মা, এইডস এবং সর্বশেষ যার প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয়নি তা হলো ক্যান্সার। সমাজে আরো একটি মারাত্মক দুরারোগ্য রোগ দেখা দিয়েছে। আর তা হলো মনস্তাত্ত্বিক রোগ। এর ফলেই সমাজে আজ হানাহানি, রক্তপাত ও এত বিশৃঙ্খলা।
এই মনস্তাত্ত্বিক রোগটির ফলে পত্রিকার পাতায় ভেসে ওঠে বীভৎস সব কাহিনী।

বিশেষত ধর্ষণের কথাই বলছি। একসময়ে মানুষ এগুলোকে লোকচক্ষুর আড়ালেই রাখার চেষ্টা করত। তখন যা দু-একটা হতো তা কঠোর হস্তে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সমাধান করা হতো।
কিন্তু বর্তমানে যতই আমরা পত্রিকার পাতা উল্টাচ্ছি, ততই চোখে পড়ছে এই বীভৎস ও বিকৃত কাজটির সংবাদ। কিছু দিন আগেও যা বড়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে...? না-ই বললাম। তা আপনারা বাড্ডার সাড়ে তিন বছরের শিশুটির ওপর নির্যাতনের খবরের মাধ্যমেই জানতে পেরেছেন।

বর্তমানের এই সঙ্কটপূর্ণ মুহূর্তকে দেখে মনে পড়ে যায় হুমায়ূন আহমেদের ‘অপরাহ্ণের গল্প’ নামক গল্পটির কথা। যখন আমি কলেজে পড়ি, তখন আমাদের এই গল্পটি পাঠ্য ছিল। সেখানে হুমায়ূন আহমেদ লিখেছিলেন এইডস নামক ঘাতককে নিয়ে। আর সেখানে বলেছিলেন, আফ্রিকাতে এইডস সবচেয়ে বেশি। আর ভারতেও নিতান্ত কম নয়। বাংলাদেশে সেই তুলনায় খুবই কম। কিন্তু পাগলা ঘোড়া ছুটতে কতক্ষণ। হুমায়ূন বেঁচে থাকলে হয়তো ধর্ষণকে আরো বড় ব্যাধি হিসেবে উল্লেখ করে আর একটি গল্প লিখতেন। কিন্তু সেখানে আর অন্য দেশে তা বেশি দেখানোর খুব বেশি সুযোগ থাকত না।

কয়েক বছর আগেও ভারতে দেখতাম, এখানে-সেখানে ধর্ষণ হচ্ছে। চলন্ত বাসে, গাড়িতে, ট্রেনে ইত্যাদিতে। বছরখানেক না যেতেই আমাদের দেশেও একই অবস্থা দাঁড়িয়েছে। পাগলা ঘোড়ার লাগাম টানার দিনও যেন এখন আর নেই।
এর প্রতিষেধক কি এই জাতি আবিষ্কার করতে পারবে? নাকি মুখথুবড়ে পড়ে থাকবে এখানেই!
প্রশ্ন সবার কাছে ...

ঢাকা কলেজ, অনার্স তৃতীয় বর্ষ

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫