প্রযুক্তি খাতে হয়রানির শিকার নারীরা!
প্রযুক্তি খাতে হয়রানির শিকার নারীরা!

যেভাবে যৌন হয়রানির শিকার হন প্রযুক্তি খাতে নারীরা

আহমেদ ইফতেখার

যৌন হয়রানির বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নজির খুবই কম যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি হাব হিসেবে পরিচিত সিলিকন ভ্যালিতে। লিঙ্গবৈষম্য, অনুপযুক্ত আচরণ ও এমনকি নিপীড়নের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন নারী অভিযোগ করার পরও দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তি হয় না।

বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ক্লেইনার পার্কিনস কাওফিল্ড অ্যান্ড বায়ার্সের নামে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কর্মী এলেন পাও। যদিও এ মামলায় সফল হননি তিনি। চলতি বছরের শুরুতে উবার কর্মী সুসান ফাওলার হয়রানি আর বৈষম্যের অভিযোগ তুলে আলোচনার জন্ম দেন। এরপর বিভিন্ন নারী প্রতিষ্ঠাতা ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অংশীদাররা সিলিকন ভ্যালিতে হয়রানির বিষয়ে আওয়াজ তোলেন। সব মিলিয়ে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বাজে আচরণ নিয়ে অনেক বেশি নারী আওয়াজ তুলছেন চলতি বছরে। যদিও এই নারীরা মোট সংখ্যার একটি ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ মাত্র, এর কারণ হচ্ছে- বেশির ভাগ নারীর যৌন হয়রানির বিষয় নিয়ে কোনো অভিযোগ তোলা হয় না।

মার্কিন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান উইমেন হু টেক এমন নারীদের ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করেছে। এই জরিপে প্রযুক্তি খাতের পুরুষ ও নারী মিলিয়ে ৯৫০ জন কর্মী অংশগ্রহণ করে। শুরুর দিকে, মাত্র ১০ জন নারী তাদের কথা প্রকাশ করেন। কেন নারীরা তাদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে এসব বিষয়ে অভিযোগ না করার কারণ হলো- এতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিদ্বেষ আর বিষয়টির প্রচার হওয়া নিয়ে ভীত থাকেন নারীরা। তাদের পরিচালকরা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে কাজ থেকে বের করে দেয়া হয়।

নারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে কিছু বিষয়ে মিল পাওয়া গেছে। সেগুলো হচ্ছে- তারা মনে করেন, তাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই, বিষয়টি নিয়ে তারা হইচইয়ের জন্ম দিতে চান না, আর তাদের ওপর প্রতিশোধ নেয়া হতে পারে এমন ভয়। জরিপে ৫৩ শতাংশ নারী অংশগ্রহণকারী কোনো না কোনোভাবে কর্মক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হয়েছেন।

হয়রানির শিকার হওয়া বেশির ভাগ নারী বলেছেন, সহকর্মী বা তাদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এ কাজ করেছেন। ৭২ শতাংশ লিঙ্গবৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা বলেছেন, ৫১ শতাংশ মর্যাদাহানিকর মন্তব্য পাওয়ার কথা বলেছেন। যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ৪৫ শতাংশ। 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.