ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

রকমারি

কোরবানির পশুর হাট কয়টি?

কোরবানির পশুর হাট কয়টি?

২৮ আগস্ট ২০১৭,সোমবার, ১৪:৩০


প্রিন্ট
কোরবানির পশুর হাট কয়টি?

কোরবানির পশুর হাট কয়টি?

আর মাত্র চার দিন বাদেই পবিত্র ঈদুল আজহা। এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ঢুকতে শুরু করেছে কোরবানির গরু-ছাগল। ঢাকায় অনুমোদিত কোরবানির পশুর হাট ২২টি। তবে পুরো রাজধানীই যেন এখন হাটে পরিণত হয়েছে। পাড়ায়-মহল্লায় আর রাস্তার দু’পাশে যে যেখানে পারছেন পশুর হাট বসেছে। কিছু হাটে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। আর ক্রেতারাও হাজির কোরবানির পশু কিনতে। সবকিছু মিলিয়ে ঢাকার কোরবানির পশুর হাট নিয়ে লিখেছেন ফয়েজ হিমেল

বন্যার পরে মহাসড়কের বেহাল পরিস্থিতিসহ তীব্র যানজটের আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী আগে ভাগেই গরু বোঝাই ট্রাক নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। এবার গরুর তেমন দাম না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ গরু খামারিরা। কারণ উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে অনেকে পালন করা গবাদিপশু ঘরে তুলতে পারছেন না। চারণভূমি প্লাবিত হওয়ায় এবং খাবারের অভাবে অনেক গবাদিপশু মারা গেছে। তাই কোরবানির হাটের সুযোগে পালের সব গরু ন্যায্য দামে বিক্রির ব্যাপারে চিন্তায় আছেন দুর্যোগকবলিত খামারিরা। অন্যদিকে সাধারণ গরু বেপারিরা অভিযোগ করে বলছেন, মিয়ানমার থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে গবাদিপশু আমদানি করা হচ্ছে। ফলে নিজেদের পশুর প্রত্যাশিত দাম তারা পাবেন না।

ঢাকার গাবতলী গরুর হাটে প্রতিনিয়তই গরুর ট্রাক ঢুকেছে। একই চিত্র কমলাপুর ও মেরাদিয়া গরুর হাটেও। কমলাপুরের হাটে তোলার জন্য কুমিল্লা ও বরিশালের বেপারিরা সায়দাবাদ বাসস্ট্যান্ডের পাশে রেললাইন ঘেঁষে আগে ভাগেই জায়গা করে নিয়েছেন। হাট শুরুতেই ক্রেতা-বিক্রেতার উপচে পড়া ভিড়ে সবগুলো হাটে সৃষ্টি হচ্ছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ভিড়ের চাপে নির্ধারিত সীমানা অতিক্রম করে পার্শ্ববর্তী রাস্তা ও আবাসিক এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে হাটগুলো। প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যেও বিন্দুমাত্র ক্লান্তির ছাপ দেখা যায় না বিক্রেতাদের চোখে-মুখে।

ধোলাইখাল ও কমলাপুরের ইজারাদাররা জানান, যশোর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুষ্টিয়া, নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝিনাইদহ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও দিনাজপুর জেলা থেকে বেশি গরু আসছে। অনেক গরু ট্রাকে করে রওনা দিয়েছে। তবে এগুলোর বেশিরভাগই মহাসড়কে যানজটে আটকে আছে। এবার চাহিদার তুলনায় রংপুর ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলের ছোট-মাঝারি আকারের বেশি গরু আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে।

কুষ্টিয়া থেকে কমলাপুর হাটে গরু এনেছেন রবিউল আলম। তিনিসহ তার আরো দুই ভাই আগেভাগেই জায়গা নেওয়ার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। রবিউল জানান, গতবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনে ও দেওয়ানবাগী উটের খামারের মূল ফটকের একটু দক্ষিণ পাশে ১৫টি বড় গরু তুলেছিলেন। ঈদের আগের দিন প্রতিটি মোটামুটি ভালো দামে বিক্রি করেন। এবার গরুর হাটে তিনি ২২ টি গরু তুলবেন। কথা হয় পাবনার গরু বেপারি সামাদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি শনিবার ঢাকায় এসে সায়েদাবাদে একটি আবাসিক হোটেলে উঠেছেন। ছয় মাস ধরে কোরবানি উপলক্ষে তিনি ১৮ টি গরু পেলেছেন। হাট শুরু হলে তার লোকজন সেগুলো ধোলাইখাল হাটে তুলবেন। তিনি হাটে পূর্ব প্রস্তুতির জন্য আগেই এসেছেন।

যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরই হাটগুলোতে কোরবানির গরু ঢুকতে দেওয়া হবে। গত বছরের মতো এবারও নগরীর ১১টি প্রবেশ পথে গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষ মেডিক্যাল টিম গঠন করবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। সঙ্গে থাকবে র‌্যাব পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জাল টাকা শনাক্তকরণের বুথ স্থাপন করা হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫