ঢাকা, শনিবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

নারী

স্বামীর নির্যাতনে মৃতপ্রায় জোসনা

ওমর ফারুক

২৮ আগস্ট ২০১৭,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২৭ নম্বর বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছিল জোসনা আক্তার। অপরিচিত কাউকে দেখলে ভয়ে সে কেঁপে উঠছে। ঘুমের মধ্যেও মাঝে মধ্যে চিৎকার দিচ্ছেÑ আমাকে মেরে ফেলছে বাঁচাও, বাঁচাও। গত ৭ আগস্ট যৌতুকের জন্য পাষণ্ড স্বামী তাকে নির্মমভাবে মারধরে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে মৃত ভেবে স্বামী তার মুখে বিষ ঢেলে দেয়। সে বিষক্রিয়ায় এবং শারীরিক নির্যাতনের ক্ষত গত ১৪ দিনেও শুকায়নি।
দুই সন্তানের জননী জোসনা আক্তার বলেন, ১০ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী সাতকানিয়ার ছদাহা এলাকার আফজালনগর এলাকার মৃত মোস্তাকের ছেলে জহির যৌতুকের জন্য তার পরিবারের লোকজনকে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। এর মধ্যে জোসনার পরিবারের লোকজন চার লাখ টাকা খরচ করে জহিরকে বিদেশে পাঠায়। কিন্তু বেশি দিন সেখানে ছিল না। দেশে এসে মাদক কারবারি, ইয়াবা ব্যবসাসহ নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। প্রতিদিন সে মাদক সেবন করে আমার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাত।
জোসনা বলেন, তিন-চার মাস আগে তার অনুমতি ছাড়া এক নারীকে বিয়ে করে ঘরে নিয়ে আসেন তার স্বামী। এরপর বাড়তে থাকে তার নির্যাতনের মাত্রা। প্রায় সময় গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করে তার স্বামী। সর্বশেষ ৭ আগস্ট তার সাথে সংসার করতে চাইলে আরো চার লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন জহির। তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাতভর তাকে মারধর করে হাত-পা থেঁতলে দেয়। একপর্যায়ে বেহুঁশ হয়ে পড়লে আমি মরে গেছি ভেবে জহির আমার মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে আমাদের বাড়ির পাশে রেখে আসে। সকালে এলাকার লোকজন আমাকে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে লোহাগাড়া হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
জোসনা বলেন, স্বামী প্রতিদিনই নির্যাতন করলেও সন্তানদের কথা চিন্তা করে স্বামীর ঘর ছাড়েননি।
চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জোসনা জানান, হাসপাতালে ফোন করে মামলা না করার জন্য তার স্বামী তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। অব্যাহত হুমকির কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে জোসনা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫