ঢাকা, বুধবার,২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

নির্বাচন

নির্বাচন কমিশনের দৌড়ঝাঁপ : কী হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ আগস্ট ২০১৭,শনিবার, ১৭:২৮


প্রিন্ট
 নির্বাচন কমিশনের দৌড়ঝাঁপ

নির্বাচন কমিশনের দৌড়ঝাঁপ

সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটার সংখ্যা নাকি আয়তন এ বিষয়টি চূড়ান্ত করতে পারছে না। গত বুধবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আগামী ২৭ আগস্ট কমিশন সভা আহ্বান করে। কিন্তু সভার অন্যতম এজেন্ডা সীমানা নির্ধারণ বিষয়ে কোনো প্রস্তুতি নিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট শাখা। 

ইসি সূত্রে জানা গেছে, সীমানাসংক্রান্ত কমিটি এখন পর্যন্ত একটি সভা করতে পেরেছে এবং কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে এ মুহূর্তে খসড়া অনুমোদন সম্ভব হবে না। তাই ঘোষিত সভা থেকে সীমানাসংক্রান্ত বিষয়টি বাদ দেয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট শাখা।

ওই বৈঠকে পাঁচটি ইস্যুর একটি নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণের খসড়া অনুমোদন। বাকি এজেন্ডাগুলো হচ্ছেÑ বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্থগিত কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, ইউনিয়ন ও জেলা পরিষদের কয়েকটি নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ, স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ ও হালনাগাদ কার্যক্রম উপলে আইরিশ ও ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রদানের যন্ত্র ক্রয় ও মাঠপর্যায়ে বরাদ্দ প্রদান, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার শূন্য পদে উপনির্বাচন এবং একাদশ জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের লক ও সিল ক্রয়। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, সীমানা বিন্যাসের খসড়া কমিশন সভায় অনুমোদন করার পর তার আলোকে পরবর্তী পদপে নিয়ে কাজ করবÑ এটিই আমার দায়িত্ব। তবে কমিশন সভায় যেটাই অনুমোদন দিক না কেন, সরকার ও সংসদ আইনটি কার্যকর না করলে পুরনো আইনের আলোকে এটি প্রণয়ন করতে হবে।

আরেক নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম এ প্রসঙ্গে বলেন, পুরনো আইনে সংস্কার আনতে জনসংখ্যাকে অুণœ রেখে ভোটার সংখ্যার পাশাপাশি আয়তনকে অন্তর্ভুক্ত করে খসড়াটি প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু সিটি করপোরেশন এলাকায় কয়টি আসন থাকবে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব করা হয়নি প্রণীত খসড়ায়। এর জন্য একটি নয়, কয়েকটি বৈঠক করেছি। তবে আমাদের প্রস্তাবিত বিষয়গুলো আগামী ২৭ আগস্ট কমিশন সভায় উত্থাপন করা হবে এবং সেখানে আলোচনার পর খসড়া অনুমোদন করা হবে। সর্বোপরি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা শেষে ডিসেম্বরের পর এ-সংক্রান্ত খসড়াটি চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা আকারে পাঠানো হবে। আর সংসদে আইনটি পাস হলে বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের কাজটি সম্পন্ন করা হবে।

জানা গেছে, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস করে তা ঘটা করে বাস্তবায়ন করা কঠিন। এ ধরনের বেশ কিছু নতুন বিষয় সংযুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেখানে সীমানা পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত আইন প্রণয়ন হওয়ার পর পুরো বিধানই পাল্টে যাওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছিল। বর্তমানে আদমশুমারির প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর সংসদ নির্বাচনের আগে সীমানায় পরিবর্তন আনা বাধ্যতামূলক। সে েেত্র জনসংখ্যা, প্রশাসনিক অখণ্ডতা এবং ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সমুন্নত রেখে বিন্যাস করা হয়। এ কাজটি করতে ঘটা করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

২০১১ সালে সাবেক শামসুল হুদা কমিশনের রেখে যাওয়া সীমানাসংক্রান্ত খসড়া নিয়ে পর্যালোচনা এবং ওই খসড়ার ভোটার সংখ্যা, সিটির জন্য নির্দিষ্ট সিট নির্ধারণ ও আয়তন যোগ করে একটি বৈঠক করে কমিটি। পরে আরেকটি বৈঠক না করেই সীমানাসংক্রান্ত খসড়া অনুমোদনের জন্য কমিশন সভা আহ্বান করায় অনেকটা বিভ্রান্তিতে পড়ে যায় নির্বাচনসংক্রান্ত শাখা। আহ্বান করা সভা থেকে সীমানাসংক্রান্ত বিষয়টি বাদ রাখতে কমিশনের অতিরিক্ত সচিবকে অনুরোধ জানান কয়েকজন কর্মকর্তা। কমিশন প্রধানকে অনুরোধের আহ্বান জানালে অতিরিক্ত সচিব সরাসরি নাকচ করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি ওপর থেকে নির্ধারণ হয়েছে তাই এখন অনুরোধ করার সুযোগ নেই। এ সময় কর্মকর্তারা বলেন, এখন পর্যন্ত একটি বৈঠক হয়েছে। কোনো দিকনির্দেশনাও তাদের কাছে নেই গঠিত কমিটির। এমনকি রাজনৈতিক সংলাপ শুরু হচ্ছে এর মধ্যে স্পর্শকাতর এ বিষয়টি সঠিকভাবে কমিশন সভায় উপস্থাপন তাদের জন্য কঠিন হবে। ফলে আকস্মিক সভায় সীমানাসংক্রান্ত বিষয়টিকে রাখায় বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আর কাজটি কমিশন সভায় উপস্থাপনের উপযোগী করে তোলার বদলে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন কি না এ নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তারা।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বৈঠকে সীমানাসংক্রান্ত আইনটি সংশোধন করা হবে নাকি পুরনো আইনের আলোকে কাজ করা হবে সেটি চূড়ান্ত হবে ওই সভায়। এর মধ্যে নতুন আরেকটি বিষয় ভাবনায় ফেলেছে কমিশনকে। কারণ আদমশুমারির প্রতিবেদন ১০ বছর পর পর প্রকাশ করা হয়। আবার প্রতি দুই বছর পর জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। আগামীতে আইন সংশোধন না করা হলে সীমানা বিন্যাসের েেত্র বিবিএসের কোন প্রতিবেদনটি আমলে নেয়া হবে আসন্ন বৈঠকে সেটিও ফয়সালা হওয়ার কথা রয়েছে।

ইসির নির্ভরযোগ্য সূত্র বলেছে, সীমানা পুনর্বিন্যাস আইন আগের মতোই থাকছে। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মাত্র কয়েকটি আসনে বিন্যাসের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। এমনকি আইনে পরিবর্তন না এলে সীমানা সংশোধনে শতাধিক জমা হওয়া অভিযোগের বিষয়ে আবেদনকারীরা সুবিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিটি সংসদ নির্বাচনের আগে সংসদীয় আসনের সীমানাবিন্যাস একটি রুটিন ওয়ার্কে পরিণত হয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫