ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

প্রশাসন

কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার : ফাঁসির মঞ্চে ওঠা যায় না

হামিদ সরকার ও শামীম হাওলাদার কেরানীগঞ্জ থেকে

২৬ আগস্ট ২০১৭,শনিবার, ০৬:৩১


প্রিন্ট
কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার

কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার

ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ সামগ্রীর কারণে কেরানীগঞ্জে স্থাপিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দেয়ালের প্লাস্টার এখনই খসে পড়ছে। ভেঙে পড়ছে বিদ্যুতের খুঁটি। প্যারামিটার ওয়াল (সাইটের বড় ওয়াল) প্লাস্টার ঝরে পড়েছে। এখন সেখানে প্লাস্টার করে নতুন করে রঙ করা হচ্ছে। নি¤œমানের ইট দিয়ে দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। ভেতরের রাস্তায় ৩ নম্বর ইটের খোয়া ব্যবহার হয়েছে। ইটের খোয়াগুলো উঠে যাচ্ছে এবং ফাটল ধরেছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। কারাগার এরিয়ায় ট্রাক স্ট্যান্ড, দোকান ও ঝুপড়িঘর থাকায় নিরাপত্তা বিঘিœত হচ্ছে বলেও কারা কর্তৃপক্ষ অকপটে স্বীকার করেছে। 


গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে সরেজমিন দেখা যায়, প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতে হাতের ডান পাশে কারা কেন্টিনের উত্তর পাশে দুই একর জমিতে তার কাঁটার বেড়া। ওই জমিতে বাঁশের খুঁটি লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া জেলখানার দেয়ালের পূর্ব, উত্তর ও ভেতরের কর্ণফুলী ও যমুনা ভবনের পাশের দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়েছে। কয়েকদিন ধরে এসব খসে পড়া প্লাস্টারের জায়গায় প্রলেপ দেয়া হচ্ছে।


পরিকল্পনা কমিশনের এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, বন্দীদের দু’টি ভবনের জানালা-দরজা ঠিকমতো লাগানো যায় না। কিছু দরজা বাঁকা হয়ে গেছে। ফাঁসির মঞ্চে ওঠার সিঁড়ি এত খাড়া ও অপ্রশস্থ যে তার ওপরে ওঠা যায় না। বন্দীদের সাাৎকার ঘর খুবই অপ্রশস্ত। সেখানে একসাথে একাধিক ব্যক্তি কথা বলতে থাকলে তা ঠিকমতো শোনা যায় না। নিরাপত্তার জন্য কারাগার চত্বরে ২৬০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি আছে। এই বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো গ্যালভানাইজ সিট দিয়ে বানানোর কথা। সেগুলো নি¤œমানের এমএস শিট দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সঠিক নিয়মে কাজ করেনি। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, রূপসা বিল্ডিং (২ নম্বর বিল্ডিং)-এর গ্রিল, জানালার রডের ডায়া ঠিক নেই। যে রড ব্যবহার করা হয়েছে তা অত্যন্ত নি¤œমানের। ভবনের বারান্দার গ্রিল ২০ মিলি দেয়ার কথা। সেখানে ১৮ মিলি রড ব্যবহার করা হয়েছে। দরজা, জানালার গ্রিল ও স্টিলের সিট দেয়ার কথা ২৫ মিলি সেখানে আছে ২২ মিলি। সিটগুলো পাতলা দেয়া হয়েছে। 


জানা গেছে, এ ব্যাপারে ২০১৫ সালের ৭ জুলাই গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে অভিযোগকারীরপত্রে উল্লিখিত কাজগুলোর বিপরীতে ঠিকাদার কর্তৃক দাখিলকৃত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক যাচাইকৃত পারফরম্যান্স সিকিউরিটিসমূহের সত্যায়িত অনুলিপি সাত কার্যদিবসের মধ্যে একই দফতরে পাঠানোর জন্য বলা হয়। কিন্তু ঢাকা গণপূর্ত জোন, ঢাকা ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-২ ঢাকা এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে। 


গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৪০৬ কোটি টাকার এই স্থাপনা নির্মাণের দায়িত্বে ছিল গণপূর্ত অধিদফতর। নি¤œমানের নির্মাণকাজের অভিযোগ ওঠার পর গণপূর্ত অধিদফতর এই প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল কুমারকে প্রকল্প থেকে সরিয়ে নেয়। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নির্মাণে অনিয়ম-ত্রুটি ধরার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। ১৯ জুলাই তদন্ত কমিটির সদস্যরা কারাগারে যান। 


কারা অধিদফতরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, পরিদর্শনের সময় তদন্ত কমিটির সদস্যরা বন্দীদের একটি ভবনের দেয়ালে হাতুড়ি দিয়ে সামান্য আঘাত করেন। এ সময় পলেস্তারা খসে পড়তে থাকে। কমিটির সদস্যদের ধারণা, সিমেন্ট ও বালু নি¤œমানের।


উল্লেখ্য, পর্যালোচনা সভায় জানানো হয়, প্রকল্পটি জমি অধিগ্রহণের সময় মামলার জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ শুরু করতে দেরি হয়। ২০০৬ সালে অনুমোদনের পর ২০১০ সালে এসে প্রথম সংশোধন করা হয়। তাতে ব্যয় বৃদ্ধি পায় ১৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা এবং সময় বাড়ানো হয় তিন বছর বা ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত। তাতেও প্রকল্পটি শেষ হয় না। এরপর আবার এক বছর বাড়িয়ে ২০১৪ সাল নাগাদ মেয়াদ বাড়ানো হয়। এরপর আরো তিন বছর সময় বাড়িয়ে ব্যয় বাড়ানো হয় ৬৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা। আবার সময় বাড়ানো হয় এক বছর। ফলে এটির মেয়াদ দাঁড়ায় ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত। এখন আবার এটির মেয়াদ ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ফলে এই নিয়ে পাঁচ বছরের প্রকল্পের মেয়াদ বাড়বে ৯ বছর। 
এসব বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবির নয়া দিগন্তকে বলেন, জেলখানার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে এরই মধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির লোকজন এসে একাধিকবার পরিদর্শন করেছেন। দেয়ালের পলেস্তরা খসে পড়ায় ওই সব স্থান আবার ঠিক করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কারাগার এরিয়ায় ট্রাক স্ট্যান্ড, দোকান ও ঝুপড়িঘর থাকায় নিরাপত্তা বিঘিœত হচ্ছে। এসব উত্তরণে কর্তৃপ বিভিন্ন পদপে নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫