ঢাকা, বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭

বিবিধ

মুসলমানদের পুনরুত্থান ঠেকাতে পাশ্চাত্যের ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র

এ কে এম এনামুল হক

২৪ আগস্ট ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৫:১৩


প্রিন্ট
স্যামুয়েল হান্টিংটন

স্যামুয়েল হান্টিংটন

মানব ইতিহাসের আদিকাল থেকে মানুষে মানুষে, জাতিতে জাতিতে, গোত্রে গোত্রে সংঘর্ষ, হত্যা-নির্যাতনের সাথে মানবগোষ্ঠী পরিচিত। ধরাপৃষ্ঠে এসব অপরাধ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড কখন মানবসমাজে প্রবর্তিত হলো তা নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা কঠিন। কখন থেকে পৃথিবীতে মানুষ অত্যাচারীকে অত্যাচার করতে, সবলকে দুর্বলের ইজ্জত লুণ্ঠন করতে দেখেছে তা অজানা। অত্যাচার ও আধিপত্যের এ কাহিনী মানব ইতিহাসে কখনো সাম্রাজ্যবাদ, কখনো উপনিবেশবাদ আবার কখনো বিশ্বায়ন হিসেবে পৃথিবীতে প্রবর্তিত হয়। এটা Survival of the fittest-এর বাস্তবায়ন।

সাম্রাজ্যবাদ তা যেকোনো পরিমণ্ডলে হোক এবং যেকোনো আকৃতিতে হোক, জুলুম ও অত্যাচারের ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত। ভিন্ন জাতিকে গোলাম বানানোর পরিকল্পনা, দুনিয়াকে অধীন করার উচ্চাভিলাষ এবং অন্যের ওপর নিজ কৃষ্টিকালচার চাপিয়ে দেয়ার বাসনা, অর্থনৈতিক শোষণ ইত্যাদি প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে। মহাবীর আলেকজান্ডার প্রাচীন দুনিয়াকে পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত ‘গ্রিস বানানো’র সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। বিশ্বের কোণে কোণে গ্রিক সভ্যতার রাজত্ব চলবে, এ ছিল তার স্বপ্ন। আলেকজান্ডারের পর রোম সাম্রাজ্য, সামরিক শক্তির মাধ্যমে গোটা দুনিয়ায় নিজেদের সভ্যতা ও সংস্কৃতি চালু করতে চেয়েছিল। রোম ও পারস্যের মধ্যে দীর্ঘ যুদ্ধের মূল কারণ ছিল নিজেদের দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করা। তাদানীন্তন বিশ্বের এ দুই পরাশক্তি স্বীয় আধিপত্য, দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য পরস্পরের সাথে লড়াইরত ছিল।

কিন্তু ইসলামের আগমন এ দুই পরাশক্তির অহমিকা ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে পৃথিবীর বুকে এক নতুন আবহ সৃষ্টি করে। ফলে ইউরোপের বুকে রাষ্ট্রীয় ধর্মযাজকেরা এ নতুন সভ্যতার জোয়ারকে স্তিমিত করতে ক্রুসেড নামে ধর্মীয় উন্মাদনার সৃষ্টি করে। ইউরোপের রাজরাজড়া ও সামন্ত প্রভুরা এ ধর্ম যুদ্ধে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে প্রায় ৩০০ বছর ইউরোপ ও এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সঙ্ঘাতের মাধ্যমে হত্যাযজ্ঞ, রক্তপাত ও লুণ্ঠনের এক বীভৎস কাহিনী রচনা করে, যা ছিল খ্রিষ্টীয় ইউরোপের ধর্মান্ধতার ফল এবং সন্ত্রাসবাদের একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। ১৫০০ শতকের পরে ইউরোপে শিল্প বিপ্লব আরম্ভ হয়। নিত্যনতুন কারিগরি বিদ্যার প্রসারে নিত্যনতুন যন্ত্র উদ্ভাবিত এবং কলকারখানা প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। দেশে বিপুল পরিমাণে পণ্যদ্রব্য তৈরি হতে থাকে। এসব পণ্যের জন্য প্রয়োজন হয়ে পড়ে কাঁচামাল ও ফিনিশড গুডসের বাজার। ইতোমধ্যে স্টিমইঞ্জিন আবিষ্কার হওয়ায় মানুষের কর্মকাণ্ডের গতিবেগ বৃদ্ধি পায়।

জাহাজে এ ইঞ্জিন ব্যবহার করে ইউরোপের মানুষ দূর-দূরান্তে কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য এবং কারখানায় তৈরী পণ্যের বাজারের অনুসন্ধানে দিগি¦দিক ছুটতে থাকে। তাদের যান্ত্রিক প্রাধান্যের মাধ্যমে তারা দুনিয়ার বুকে উপনিবেশ স্থাপনে অনায়াসে কৃতকার্য হয়। ইংরেজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, বেলজিয়াম, ইতালি, জার্মানি, স্পেনীয় ও পর্তুগাল রাষ্ট্র ও জাতিগুলো সাম্রাজ্যবাদের পুরোধা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করে। আমেরিকা মহাদেশ আবিষ্কৃত হলে সে দেশের যারা ছিল আদিবাসিন্দা তাদের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা ও নির্যাতনের মাধ্যমে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয়। পাশ্চাত্যের এ নতুন উপনিবেশে কৃষিকাজ ও বসতি স্থাপনের জন্য আফ্রিকা মহাদেশ থেকে প্রায় ১৪ মিলিয়ন মানুষকে গোলাম বা দাস বানিয়ে আমেরিকায় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য করা হয়েছিল।

মোটকথা, সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, পশ্চিম এশিয়া, পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো সাম্রাজ্যবাদের শিকার হয়। ঊনবিংশ শতাব্দী সাম্রাজ্যবাদী শক্তির উত্থানের কাল। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে সাম্রাজ্যবাদের সূর্য অস্তগামী হতে শুরু করে। প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে তাদের উপনিবেশগুলোর ওপর তাদের হাতের মুঠো ঢিলে হতে থাকে। ইতোমধ্যে পুঁজিবাদী শোষণের বিরুদ্ধে এক নতুন আদর্শের আর্বিভাব হয়, যা কমিউনিজম বা সমাজতন্ত্র নামে খ্যাতি লাভ করে। প্রথম মহাযুদ্ধের সময়ে ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে রাশিয়ার জারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক বিপ্লব সফল হয়।


দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সমাপ্তিতে যখন অক্ষশক্তি সম্পূর্ণ পর্যুদস্ত এবং মিত্রশক্তির ইউরোপীয় অংশীদাররা রণকান্ত, তখন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র জাপানের নাগাসাকি হিরোশিমায় আণবিক ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে নিজেদের পৃথিবীর একমাত্র সুপার পাওয়ার হিসেবে জানান দিয়ে বিশ্বে আবির্ভূত হলো। তারা তখন থেকে নির্দ্বিধায় পৃথিবীর বুকে মোড়লিপনার ছড়ি ঘোরানো আরম্ভ করে। তখন প্রতিদ্বন্দ্বী কমিউনিস্ট রাশিয়া যুদ্ধের ধকলে ধুঁকছিল। কিন্তু এ অবস্থা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। অল্প দিনের ব্যবধানে সোভিয়েত রাশিয়া আণবিক বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের একক সুপার পাওয়ার হওয়ার দাবির প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়। তখন থেকে এ দুই পরাশক্তি বিশ্বে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তারা পরস্পরবিরোধী আদর্শের প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে ‘ঠাণ্ডা’ যুদ্ধের উষ্ণ আবহ সৃষ্টি করে।

এটা প্রায় ৪০ বছর পৃথিবীর বুকে এক অনিশ্চিত অবস্থার সৃষ্টি করেছিল। গত শতকের ’৯০-এর দশকের প্রারম্ভে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির পর যুক্তরাষ্ট্র একক পরাশক্তি হয়ে দাঁড়ায়। ইতোমধ্যে আমেরিকার চিন্তাবিদ হান্টিংটন এক নতুন ঠাণ্ডা যুদ্ধের বার্তা দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার এক নব্য মতবাদ প্রচার করেন। এটাকে তিনি Clash of Civilizaition নামকরণ করেছেন।


হান্টিংটন তার মূল বক্তব্যে বলতে চেয়েছেন, ঠাণ্ডাযুদ্ধের অবসানে নতুনভাবে যে প্রভাব বিস্তারের লড়াই শুরু হচ্ছে, তা হবে পাশ্চাত্য শক্তির সাথে প্রাচ্যের সভ্যতার লড়াই। যদিও আগামীতে পাশ্চাত্য বহু দিন প্রভাবশালী সভ্যতা হিসেবে টিকে থাকবে, তারা তাদের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি অন্য সভ্যতার কাছে হারাতে থাকবে। আর এ সময় মুসলিম সভ্যতা সর্বব্যাপী অগ্রসরমাণ থাকবে। এ সময় পাশ্চাত্যের নেতৃত্বে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র।’

তার এ বক্তব্যকে লুফে নেয় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীনেরা বিশেষ করে বুশ (সিনিয়র ও জুনিয়র) আমলে। তারা মুসলমানদের প্রধান টার্গেট বানিয়ে তাদের ‘শায়েস্তা’ করার প্রোগ্রাম গ্রহণ করে। এর প্রতিফলন দেখা যায় ইরাক-ইরান যুদ্ধে এবং এরপর ইরাক ও আফগানিস্তানে ধ্বংসযজ্ঞ পরিচালনায়। অপর দিকে ইহুদি ইসরাইলের রাষ্ট্রের আণবিক বোমা এবং তাদের মুসলিম ফিলিস্তিনিদের ওপর অকথ্য অত্যাচারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মৌন সম্মতি মধ্যপ্রাচ্যে এক ভারসাম্যহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তারা ওয়ার অন টেরর ও বিশ্বায়নের নামে প্রাচ্যে তাদের আগ্রাসী তৎপরতা শুরু করে। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্ব তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। পাশ্চাত্যের খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের হিংসাত্মক সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অত্যাচার, রক্তপাতের ইতিহাস বিকৃত করে মুসলিম সভ্যতার বিরুদ্ধে অসত্য কথনে লিপ্ত হয়। যেমন তারা অতীতে নানা স্লোগানের সৃষ্টি করেছিল, তেমনি এবারো স্লোগান দিয়ে ষড়যন্ত্র কার্যকর করা আরম্ভ করে। All muslims are not terrorists, but most of the terrorists are muslims, war on terror ইত্যাদি স্লোগানের দ্বারা পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রগুলো বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র মুসলমানদের টেররিস্ট হিসেবে চিহ্নিত করতে চাচ্ছে। প্রবাদবাক্যে বলা হয়ে থাকেÑ Give the dog a name and kill it.’৮০-এর দশকের শেষের দিকে কমিউনিস্ট সাম্রাজ্যের পতন ঘটতে লাগল এবং মার্কিনিরা বিশ্বমোড়ল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে থাকে।

তখন পৃথিবীর বুকে তিনটি শক্তি কাজ করছিল : (১) পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদ (২) কমিউনিস্ট ব্লক ও (৩) তৃতীয় বিশ্ব। কমিউনিস্ট ব্লকের মূলোৎপাটনের পর মানবজাতির বিভক্তির ভিত্তি আর আদর্শ, রাজনীতি বা অর্থনীতি রইল না। বরং মানবজাতি সভ্যতা সংস্কৃতির নিরিখে নিজেদের পরিচিত করা আরম্ভ করল। জাতিগুলো পূর্বপুরুষদের পরিচয়ে নিজেদের প্রকাশ করতে শুরু করল। তাদের ধর্ম, ভাষা, মূল্যবোধ, রীতিনীতি, প্রতিষ্ঠানাদি এবং সভ্যতা তাদের পরিচিতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে থাকে। আগের মতো রাষ্ট্রের জোটবদ্ধতা তিনটি ব্লকে সীমাবদ্ধ রইল না; বরং তা পৃথিবীর সাত-আটটি সভ্যতায় বিভক্ত হয়ে যায়। অপশ্চিমা দেশগুলো অর্থনৈতিক উন্নতি করতে লাগল, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। তারা পাশ্চাত্যের পতিত সাংস্কৃতিক মূল্যবোধগুলো প্রত্যাখ্যান করতে লাগল।


বর্তমানের নতুন পৃথিবীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মানবগোষ্ঠীর সঙ্ঘাত সামাজিক শ্রেণী-বিভাজনের জন্য হচ্ছে না। অর্থাৎ ধনী দরিদ্র অথবা অন্যান্য অর্থনৈতিকভাবে চিহ্নিত বিভাজন মানুষের মধ্যে হচ্ছে না। বরং তা হচ্ছে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে বিভাজিত মানুষের মধ্যে। স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময় পৃথিবী তিনটি ব্লকের পরিবর্তে সাতটি সভ্যতা এবং বিভিন্ন ধরনের স্বার্থের অনুকূলে বিভক্ত হয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো বিভিন্ন সভ্যতার অংশ।


প্রতিটি সভ্যতা প্রধানত একে অপর থেকে ভিন্ন; তাই প্রতিটি সভ্যতা একে অপর থেকে প্রধানত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থানে ভিন্ন। ক্ষমতার বলয়ও আবার পশ্চিমা দেশগুলো থেকে অপশ্চিমা দেশগুলোতে সরে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি মাল্টিপোলার থেকে মাল্টি-সিভিলাইজেশনাল হয়ে যাচ্ছে।


প্রায় সব আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ স্বীকার করেন, ইসলামি সভ্যতা অপর সব সভ্যতা থেকে ভিন্ন। সপ্তম শতকে আরব উপদ্বীপে হজরত মুহাম্মদ সা: ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করেন। সাম্য, মৈত্রী ও তৌহিদের ধর্ম ইসলাম অতি দ্রুত উত্তর আফ্রিকা থেকে শুরু করে সাইবেরীয় উপদ্বীপ এবং পূর্ব দিকে মধ্যএশিয়া, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত প্রসার লাভ করে।
দীর্ঘকাল ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনস্থ থাকার পর এসব মুসলিম দেশ তাদের উপনিবেশবাদী শাসকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে থাকে। এ দিকে দলে দলে মানুষ বিভিন্ন দেশে ইসলামে দীক্ষিত হতে থাকে। ইসলামের এ পুনরুত্থানে মুসলিম সমাজে নবদীক্ষিতদের ইসলামি জীবন বিধানের প্রতি আকর্ষণ এবং মুসলিম দেশগুলোতে যুবকদের সংখ্যা বৃদ্ধি মুসলমানদের মধ্যে নব জাগরণ সৃষ্টি করে।

১৯৭০-এর দশক থেকে মুসলমানেরা তাদের ইসলামি প্রতীক ব্যবহার, বিশ্বাসজাত ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলাম প্রচার প্রভৃতি লক্ষণীয়। ১.৫ বিলিয়ন মুসলমান রয়েছে সুদূর মরক্কো থেকে ইন্দোনেশিয়া আর নাইজেরিয়া থেকে কাজাখস্তান পর্যন্ত। একবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে অপরাপর সভ্যসমাজ মুসলমানদের পুনরুত্থানকে বিস্মিত নয়নে দেখছে। এটাই অধ্যাপক হান্টিংটন তার ক্যাশ অব সিভিলাইজেশন অ্যান্ড দ্য মেকিং অব ওয়ার্ল্ড অর্ডার নামক বইতে উপস্থাপন করেছেন। তার এই সাবধানবাণীর কারণে আমেরিকা আজ মুসলিম দেশগুলোতে হামলে পড়ছে। ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া, মিসর ও সিরিয়া, মার্কিন সন্ত্রাসে পর্যুদস্ত এবং পাকিস্তান, লেবানন, ফিলিস্তিন খণ্ড-বিখণ্ড হওয়ার আশঙ্কা জেগেছে।


প্রফেসর হান্টিংটনের ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে, মুসলিম মিল্লাতের পুনর্জাগরণ ও পুনরুত্থানের সম্ভাব্য সব সম্ভাবনা অঙ্কুরে ধ্বংস করে দেয়ার প্রচেষ্টায় পশ্চিমা বিশ্ব যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে, মুসলিম বিশ্বে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রুসেড শুরু করেছে। এ ধ্বংসযজ্ঞ কখন শেষ হবে, আর কত লোক যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী কূটকৌশলের শিকার হবে; তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আবির্ভাবের পর বলা কঠিন।
লেখক :অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াড্রন লিডার, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫