ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

অনলাইন জগৎ

অনলাইনে হয়রানির শিকার মুসলিম নারীরা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২৪ আগস্ট ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১২:২১


প্রিন্ট
বিশ্বের সবখানেই অনলাইনে যে মেয়েরা হয়রানির শিকার হয় তা গোপন কিছু নয়

বিশ্বের সবখানেই অনলাইনে যে মেয়েরা হয়রানির শিকার হয় তা গোপন কিছু নয়

চলতি বছরের শুরুর দিকে ১৫ বছর বয়সী মালয়েশিয়ার এক কিশোরী টুইটারে লিখেছিলেন, দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

এরপরই অনলাইনে ব্যাপক সমালোচনা ও বিদ্রূপের মুখে পড়তে হয় ওই কিশোরীকে। তবে এর কারণ তার স্বপ্ন নয়, তার পোশাক। হিজাব পড়া ছিল না সে।

মালয়েশিয়ার মুসলিম নারীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন, আর তা কতটা ব্যাপক তার এখানে তুলে ধরা হচ্ছে।

বিশ্বের সবখানেই অনলাইনে যে মেয়েরা হয়রানির শিকার হয় তা গোপন কিছু নয়।

মালয়েশিয়াতেও সব ধর্মের মেয়েরা হয়রানির শিকার হয়।

তবে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, দেশটিতে মুসলিম নারীদের লক্ষ্য করে হয়রানি করা হচ্ছে এবং সামাজিক প্রত্যাশা থেকে এ হয়রানির শিকার হচ্ছেন বেশিরভাগ নারী।

তিনি নারীদের অধিকার আদায়ে লড়াই করা জুয়ানা জাফর বলেন, "আমরা একটা ট্রেন্ড দেখতে পাচ্ছি যে মুসলিম নারীদের (মালয়-মুসলিম) ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে টার্গেট করা হচ্ছে। বিশেষ করে তারা কিভাবে নিজেদের প্রকাশ করছে, তাদের পোশাক-আশাক কী, সেই বিষয়টা লক্ষ্য করছে"- বলেন ।

১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীর মামলাও লড়ছেন জুয়ানা জাফর।

তিনি বলছেন, ওই কিশোরীকে লক্ষ্য করে যেসব বক্তব্য এসেছে তা খুবই নির্মম। শেষ পর্যন্ত সে তার অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলতে বাধ্য হয়েছে এবং অফলাইনে থেকে সাহায্য চেয়েছে।

"আপনার যদি মালয়দের মতো নাম হয় তাহলে আপনাকে দৃশ্যমান দেখাবে"।

অনেক রক্ষণশীল সমাজে কে কী করলো না করলো, প্রতিবেশীর কাজ বা ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করার সংস্কৃতি রয়েছে।

আর অনলাইনে এখন এটি ব্যাপকভাবে হচ্ছে। মালয় ভাষার যেসব ট্যাবলয়েড আছে সেখানে এসব 'পরচর্চার' বিষয়টি বেশ চলছে।

জাফর বলছেন, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যখন দেখা হয় তখন এটি আরো বেশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইস্যু হয়ে দাড়ায়।

"ধর্ম কিন্তু এসব পরচর্চাকে উৎসাহ দেয় না। হাদিসেও আছে সবার প্রতি শ্রদ্ধা নিয়ে কথা বলো, কারো গোপন বিষয়ের প্রতিও শ্রদ্ধা রাখো" বলছেন তিনি।

'তারা অবশ্যই আমার শরীরে ত্রুটি খুঁজবে'

"বিশ্বব্যাপী এমনটা ঘটছে। তবে মালয়েশিয়ায় এটা যেন আলাদা একটা রূপে আসছে। ধর্মের বিষয়কে টেনে এনে খুবই নীচু মনমানসিকতার প্রকাশ ঘটাচ্ছে এখানকার মানুষ" বলেন ড: আলিশিয়া ইজহারউদ্দিন, ইউনিভার্সটি অব মালয় এর জেন্ডার স্টাডিসের প্রভাষক তিনি।

'সোশ্যাল মিডিয়া ঘৃণামূলক বক্তব্য ও সাইবার বুলিং নিয়ে মন্তব্য করার জন্য তা ভালো না মন্দ তা বিচার করার জন্য এখানকার মানুষ এখন নিজের পরিচয় গোপন রাখে।"

মালয়েশিয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় দিনে দিনে তরুণীদের উপস্থিতি বেড়েছে, বিশেষ করে টুইটারে এবং সেই সাথে অনলাইনে হয়রানির ঘটনাও বেড়েছে।

নিয়মিত টুইটার ব্যবহার করেন মারিয়াম লি, তার বয়স ২৫ বছর। সম্প্রতি হয়রানির শিকার হয়েছেন তিনি। শারিরীকভাবেও তার নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।

"এটা শুধু এমন না যে মানুষ আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পছন্দ করছে না। আপনার শরীরে ত্রুটি খুঁজে বেড়াবে। আপনি যে মানুষ, আপনার যে ব্যক্তিত্ব -পুরোটার ওপরেই তারা শাসন করবে, ভয় দেখাবে" বলেন তিনি।

বহুদিন ধরেই অনলাইনে হয়রানির শিকার হচ্ছেন তিনি। লি জানালেন, হয়রানি তীব্র হলো যখন প্রকাশ্যে তাকে নারীবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা হলো।

"আপনি যখন সমাজের কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন, আপনার মতামত জানাবেন। তখন তারা আরো বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে" বলেন তিনি।

ডায়ানা সোফিয়া, ডিএপি সোশ্যালিস্ট ইয়োথ পার্টির একজন নির্বাহী সদস্য। কিন্তু তাকে নিয়ে স্থানীয় সাইটগুলোতে বিভিন্ন আলোচনা হয়, অনেক 'গসিপ নিউজ'ও হয়েছে তাকে নিয়ে, তার পোশাক নিয়ে।

সোফিয়ার মতে, তাকে যেসব আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়তে হয়, তার পুরুষ সহকর্মীদের এরকম কোনো ঘটনার মুখে পড়তে হয় না।

"নারীর শরীরটা যেন একটা যুদ্ধক্ষেত্র, পুরুষের যুক্তিতর্কের একটা প্রধান বিষয়। একজন নারী হয়তো পা থেকে মাথা পর্যন্ত পুরোটাই ঢেকে রাখছে- কিন্তু দেখা যাবে কেউ হয়তো তারপরও তার পোশাক নিয়ে কথা বলবে। হয়তো বলবে-যেভাবে সে পোশাক পরেছে তা সঠিক হয়নি বা তার পোশাকটা আরো লম্বা হলে ভালো হতো" এক ই-মেইলের মাধ্যমে একথা বলেন সোফিয়া।

বেশিরভাগ নারীই বলেছেন যে, মালয়েশিয়ায় মুসলিম পুরুষরাই মূলত অনলাইনে এরকম হয়রানি করে থাকেন।

হয়রানির শিকার বেশিরভাগ নারী শারিরীকভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, কিন্তু অনলাইনে সহিংসতা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরেও বিরাট আঘাত হানছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন নারীরা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫