ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

থেরাপি

বৃষ্টির দিনের প্রেমগুলো

তারেকুর রহমান

২৪ আগস্ট ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টি হলেই পানি থৈ থৈ করে। বৃষ্টির সময় যেভাবে প্রেম হতে পারে তা থেরাপির অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। আর তাই জানাচ্ছি লেখাটিতে।
কেস স্টাডি-১ : কাসের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে মৌটুসি। তাকে পছন্দ করে না এমন ছেলে পাওয়া কঠিন। একই কাসের ছাত্র ফাহিম ও মৌটুসিকে খুব পছন্দ করে; কিন্তু ভয়ে বলতে পারছে না। তা ছাড়া মৌটুসি কাউকে পাত্তাও দেয় না। কাস শেষে ঝুম বৃষ্টি নামলো। ফাহিম জুতা হাতে নিয়ে। প্যান্ট কোমর পরিমাণ উঠিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। তার পাশ দিয়ে গলা সমান পানিতে রিকশায় করে যাচ্ছে মৌটুসি। ফাহিমকে মৌটুসির রিকশা অতিক্রম করে যাওয়ার সময় খানাখন্দে পড়ে রিকশা উল্টে যায়। মৌটুসি গিয়ে ফাহিমের গায়ের ওপর পড়ে। ফাহিমের গায়ে মনে হয় আলুর বস্তা পড়েছে। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলেও ফাহিমের চোখেমুখে হাসির ঝিলিক। বাংলা সিনেমার মতো ধাক্কা থেকে যেভাবে প্রেম হয় ঠিক রিকশা উল্টিয়ে পড়েও একইভাবে প্রেম হতে লাগল। মৌটুসি লাজুক ভঙ্গিতে বলল, স্যরি, অনেক লেগেছে বুঝি? ফাহিম মৃদু হাসি দিয়ে বলল, আরে না। আপনি ঠিক আছেন তো?
ঠিক আর থাকে কেমনে? পরের ঘটনা তো ইতিহাস। এখন টক অব দ্য কাস হলো ফাহিম মৌটুসির প্রেমকাহিনীর।
কেস স্টাডি ২ : বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে মুমু। তার সামনের ডেস্কে বসে মতি ভাই। মুমু আর মতি ভাইয়ের প্রায়ই চোখাচোখি হয়। দু’জনেই ফেসবুক ফ্রেন্ড হওয়া সত্ত্বেও তাদের চ্যাট হয় না। মুমুর দিকে তাকালে মতি ভাইয়ের কলিজা মোচড় দিয়ে ওঠে। মুমু হাসলে মতি ভাইয়ের গলা শুকিয়ে যায়। এত ভালোবাসা থাকার পরও মতি ভাই ভালোবাসি বলার সাহস পায়নি।
এক বৃষ্টির দিনে মতি ভাই যাচ্ছে। তারই পাশ দিয়ে মুমু ছাতা মাথায় দিয়ে যাচ্ছিল। মতি ভাইয়ের খুব ইচ্ছা হয় মুমুর ছাতার নিচে করে ফিরতে। কিন্তু মুমু না ডাকলে সে কিভাবে যাবে? মতি ভাই বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে যাচ্ছেন। কিছুণ পরপর পিছু ফিরে মুমুকে দেখেন। কিছু দূর যাওয়ার পর বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার কানে আসে মতি ভাইয়ের। এ যে মুমুর কণ্ঠ। এই পানির মধ্যে দৌড়ে গিয়ে হাজির মতি ভাই। মুমু ম্যানহোলে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। মতি ভাই গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। মতি ভাই না থাকলে আজ মুমুর কী হতো? যা হোক, এখন মুমু আর মতি ভাই পাশাপাশি ডেস্কে বসে অফিস করে।
কেস স্টাডি-৩ : খালাতো বোন ফারুকে পছন্দ করে রুদ্র। দু’জনের প্রেম-ভালোবাসা অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়েছে। হঠাৎ এক ঝড়ে সব এলোমেলো হয়ে যায়। এক টাকাওয়ালাকে পেয়ে ফারু রুদ্রকে ভুলে যায়। দু’জন এখন দু’জনের ছায়াও দেখতে পারে না। কিন্তু রুদ্র ঠিকই ফারুকে ভালোবাসে।
কাস শেষ করে বাসায় যাচ্ছে ফারু। মালিবাগ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। এ তো বৃষ্টি না ঝড়। চার দিকে অন্ধকার নেমে এসেছে। মালিবাগে ইদানীং নৌকা সার্ভিস চালু হয়েছে। একটা নৌকাও নেই। নৌকা না পেয়ে একা একা দাঁড়িয়ে আছে ফারু। বেশ ভয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে। হঠাৎ দেখে একটা নৌকা নিয়ে যাচ্ছে রুদ্র। ফারুকে দেখে রুদ্র দাঁড়িয়ে যায়। দু’জন দু’জনের দিকে তাকিয়ে আছে। রুদ্রের বুকের ভেতর হাহাকার করে উঠছে। ফারুও কী করবে বুঝতে পারছে না। মেয়েমানুষ পল্টি নিতে বেশিণ লাগে না। ফারু রুদ্রকে বেশ করুণ সুরে বলল, আমারে নিবা মাঝি লগে? রুদ্র মনে মনে বলে,এটাই তো চাই।
অতঃপর তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগল।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫