ঢাকা, শনিবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

থেরাপি

সাধু সাবধান

মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন

২৪ আগস্ট ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

যারা আসন্ন ঈদে গরু কিনতে কোরবানির হাটে যাবেন তাদের জন্য কয়েকটি ফ্রি টিপস্
লুঙ্গি পরে গরুর হাটে যাবেন না : ভুলেও আপনি লুঙ্গি পরে গরুর হাটে যাবেন না। আপনি যেহেতু চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ী। অর্থাৎ প্যান্টপরুয়া তাই আপনার সঙ্গে লুঙ্গির সম্পর্ক এখনো ততটা আন্তরিক না-ও হতে পারে। গরুর হাটে কোন ষাঁড় আপনার দিকে তেড়ে এলে আপনি হেঁচকা দৌড় দেবেন নাÑ এই গ্যারান্টি কিন্তু আপনি নিজেও দিতে পারেন না, ঠিক এই সময়টায় দেখবেন লুঙ্গিটা আপনার সঙ্গে নেই। আবার ফুলপ্যান্ট পরলেও সমস্যা। গরুর গোবর লাফ দিয়ে আপনার প্যান্টে এসে জায়গা করে নেবে। এ ক্ষেত্রে আপনি থ্রি-কোয়ার্টার বা হাফপ্যান্ট পরতে পারেন। গরমে পাবেন আরাম। ঝুঁকি থেকে থাকবেন মুক্ত।
লাল রঙের জামা পরে হাটে যাবেন না :
আমার এক বন্ধু গত কোরবানি ঈদের আগে বিয়ে করল। শালা ও শ্বশুরকে নিয়ে গরুর বাজারে যাবে। তার বউ যতেœ লাল রঙের একখান শার্ট পরিয়ে দিলো। হাটে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই তিনখান ষাঁড় তার দিকে তেড়ে এলো। অবশেষে ঠেলাগাড়িতে শোয়ায়ে তাকে বাড়ি আনতে হয়েছিল। সেবার ঈদটা তাকে হাসপাতালে শুধু আলুভর্তা-ভাত খেয়ে কাটাতে হয়েছিল। গরুর গোশত খেলে শরীরে পানি এসে যেত যে। সুতরাং বোঝা গেল লাল জামা পরে গরুর হাটে গেলে আপনার পরিণতি আমার বন্ধুর মতো হতে পারে।
ষাঁড়ের পেছনে যেতে সাবধান হোন : একটা জবরদস্ত ষাঁড়ের লেজ ধরে নাড়বেন আর ষাঁড় আরামসে দাঁড়িয়ে থাকবে এমটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। আপানকে মনে করিয়ে দিচ্ছি যে, ষাঁড়ের লেজ ধরা আর সাপের লেজে পা দেয়া একই কথা। হয়তো সে আপনাকে এমন গুঁতো দেবে যে আপনি আস্ত দুই ঘণ্টা বউয়ের নাম স্মরণ করতে পারবেন না অথবা ষাঁড়ের এক লাথিতে আপনি গিয়ে পড়বেন হাসপাতালের বারান্দায়।
সাবধানে পা বাড়ান : গত ঈদের আরেকটা ঘটনা বলি, গরু কেনার এক্সপার্ট হিসেবে আমার এক দুলাভাইকে নিয়ে গেলাম গরু কিনতে। হন্যে হয়ে গরু মেলাতে পারছি না বলে মেজাজ খুব গরম ছিল। দুলাভাইয়ের সাড়াশব্দ না পেয়ে পেছন ফিরে দেখি দুলাভাই নেই। পেছনে গিয়ে দেখি দুলাভাই পাশের ড্রেনে কোমর পর্যন্ত ডুবিয়ে পড়ে আছে। টেনেহিঁচড়ে তুলে বললাম, কিভাবে পড়লেন? দুলাভাই বলল, গোবরে পা পেছলে ড্রেনে এসে পড়েছি। সাবধানে পা না বাড়ালে আপনার পরিণতি যে এ রকম হবে না তার গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি আপনি দিতে পারবেন না। এবার বুঝুন গরুর হাটে সাবধানে পা চালানো কতটা জরুরি।
পগেট সাপধান : ‘পগেট সাপধান!’ শব্দটা আপনার কাছে খটকা লাগছে? আপনার কাছে খটকা লাগলেও অনেকের কাছে কিন্তু খটকা লাগে না। হ্যাঁ, কিছু দিন আগে একটা পাবলিক বাসে লেখা দেখলাম বাক্যটি। দেখে আমিও কিছুক্ষণ ঝিম মেরে ছিলাম। বুঝতে সময় লেগেছিল। পরে বুঝলাম ওটা হবে ‘পকেট সাবধান’। সে যাই হোক। আপনি সদ্য হজ করে এসেছেন। তাই আপনার মনও সাদা। তাই বলে সাদা মনের মানুষ হয়ে পকেটে টাকার বান্ডেল নিয়ে নির্বিঘেœ গরুর হাটে ঘোরা হবে সম্পূর্ণ বোকামি। আপনার মনে রাখা প্রয়োজন, এই গরুর হাটে সব মানুষ আপনার মতো হাজী নয়, কেউ কেউ আছেন যারা বেজায় পাজিও। এসব পাজি লোক সুযোগ পেলেই পিক পকেট করতে সব সময় রাজি। সুতরাং পগেট সাপধান!

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫