আইন সভা ও বিচার বিভাগের দ্বন্দ্ব

আজহারুল ইসলাম

বাংলাদেশে বিচার বিভাগ ও আইন সভার মধ্যে দ্বন্দ্ব এখন তুঙ্গে। উল্লেখ্য, আইন সভার সাথে নির্বাহী বিভাগের সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কেননা, আইন সভার একটি অংশ নির্বাহী বিভাগেরই অংশ। এমতাবস্থায় এ দু’টি অঙ্গ অর্থাৎ আইন সভা ও নির্বাহী বিভাগ অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তবে সংবিধান বিচার বিভাগকে এমন কিছু ক্ষমতা দিয়েছে যে, বিচার বিভাগ শেষ পর্যন্ত সব কিছুরই আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে।

সংবিধানে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করে স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এটি থাকা দরকার; তা না হলে নির্বাহী বিভাগ স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, আইন সভার হাতে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা থাকলে বিচার বিভাগ কখনোই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। বাংলাদেশ সংবিধানে ১১৬ অনুচ্ছেদে অধস্তন আদালতের বিচারকমণ্ডলীর নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধির কথা বলা হয়েছে। তা কিছুতেই হাতছাড়া করতে চায় না নির্বাহী বিভাগ।

সমস্যা হলো দু’জায়গায়; এক. সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণ ও দুই. অধস্তন কোর্টের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা কার হাতে থাকবে? এ দুটো যখন স্বাভাবিক বিচার বিভাগের হাতে ন্যস্ত হওয়ার বিষয়টি এগোচ্ছিল, তখনই প্রধান বিচারপতি এ বিষয়ে আলোচিত রায় ও পর্যবেক্ষক দিলেন এতে ক্ষমতাসীনদের বাধা দেয়ার পথ প্রশস্ত হলো। ক্ষমতাবানদের যখন ক্ষমতা খর্ব হতে চলে উচিত না হলেও তারা অসন্তুষ্ট হন। প্রধান বিচারপতির (অন্য বিচারপতি যারা আছেন) উচিত বিষয়টি সুকৌশলে সম্পন্ন করা। তিনি শুধু সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণ ও অধস্তন বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিষয়ে রায় ও পর্যবেক্ষণ দিলে আজ এত বিতর্ক হতো না।

বিষয়টি কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মতো হয়েছে সরকারের জন্য। শেষে বলব, আইন সভা ও নির্বাহী বিভাগের এ ক্ষেত্রে কিছুই করার নেই। কিন্তু বিচার বিভাগের করার আছে। সংবিধান হলো সর্বোচ্চ আইন এবং আইনের ব্যাখ্যাদাতা। জনগণের দোহাই দিয়ে আর মানুষকে কষ্ট দেবেন না। মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে অভিনন্দন। যে কাজটি ছেচল্লিশ বছরে কেউ পারেননি; তিনি তা করার সৎ সাহস দেখিয়েছেন। দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের স্বার্থে, সাংবিধানিক সঙ্কট এড়ানোর স্বার্থে, দেশের জনগণের মঙ্গলের স্বার্থে এ রায়টি সবাই মেনে নিন।
বালুবাড়ি, দিনাজপুর।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.