ঢাকা, মঙ্গলবার,২১ নভেম্বর ২০১৭

শেষের পাতা

অ্যাটর্নি জেনারেলেরও পদত্যাগ চাইলেন তাপস

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ আগস্ট ২০১৭,বুধবার, ০১:০৬


প্রিন্ট

প্রধান বিচারপতির পর এবার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমেরও পদত্যাগ দাবি করেছেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্যসচিব সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি যখন পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের তুলনা করছেন, তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বিরোধিতা না করায় প্রধান বিচারপতির সাথে অ্যাটর্নি জেনারেলেরও পদত্যাগ করা উচতি।
সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বৃহত্তর ফরিদপুর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী কল্যাণ সমিতি এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। বৃহত্তর ফরিদপুর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী কল্যাণ সমিতির সভাপতি এস এম মুনীরের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল মতিন খসরু, আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন প্রমুখ।
অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আপনি প্রধানমন্ত্রীর নিয়োজিত থাকাকালে কিভাবে সেটা মাথা নত করে মেনে চলে আসলেন? ইউ শুড অলসো রিজাইন (আপনারও পদত্যাগ করা উচতি)। ...আপনাকে আগের মিটিংয়েও বলেছি, আমতা-আমতা করবেন না। কেন আমতা-আমতা করেন আপনি? আপনার কী ধরনের উইকনেস? প্রধান বিচারপতি যখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে অবৈধ করার কথা উল্লেখ করেছেন তখনি আপনার বলা উচতি ছিল যে, এটা আপনি (প্রধান বিচারপতি) প্রত্যাহার করেন। এটা প্রত্যাহার করতেই হবে এবং এটা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। কনস্টিটিউশনাল পোস্টে বসে আরেকটা কনস্টিটিউশনাল পোস্টের হেডকে উনি স্যাক (পদচ্যুৎ) করবেন এত বড় কথা উনি (প্রধান বিচারপতি) বলতে পারেন না।’
শেখ ফজলে নূর তাপস যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন অ্যাটর্নি জেনারেল তার পাশে বসে ছিলেন।
জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, ‘আপনারা জানেন না, এ মামলা যখন শুরু হয় আমার সাথে প্রধান বিচারপতির কী রকম ঝগড়া হয়েছে। বিভিন্ন সময় এটা কাগজেও (সংবাদপত্র) এসেছে। আমি এ কথাও বলেছি, আমি কোর্ট বর্জন করব। আর লাস্ট যে কথা, এটা মিডিয়ায় (গণমাধ্যম) এসেছে ভুলভাবে।
এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘কিছু মিডিয়া আছে ওঁৎ পেতে থাকে। কিভাবে বিকৃত করবে, ঘটনা অন্য রকমভাবে দেবে। সেই জন্য চুপ করে বসে থাকে এবং মিসকোট করে।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, একটা লোকের (প্রধান বিচারপতি) সম্বন্ধে এত কথা বলে তারে জাতীয় হিরো বানানো কোনো মতেই সমীচীন নয়।
তিনি বলেন, এই যে রায়টা উনি (প্রধান বিচারপতি) দিলেন, সেটা হয়তো উনি বুঝতে পারেন নাই যে এর রিঅ্যাকশনটা কী হবে। ওনার ধারণা যে পাকিস্তানে একটা রায় দিছে, আমিও একটা রায় দিয়ে বসি লোকজন বাহবা দিবে। তার তো এখন পিঠের চামড়া বাঁচে না। সুপ্রিম কোর্টের চিফ জাস্টিস, তার এখন চামড়া নিয়ে টানাটানি।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, উনি যতবার ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করবেন, ততবার আমরা পাস করব। দেখি উনি কতবার এটা বাতিল করতে পারেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫