ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

প্রশাসন

মন্ত্রিসভায় ঈদের ছুটি বাড়ানো নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি : সচিব

আন্তর্জাতিক সোলার অ্যালায়েন্স অনুসমর্থনের প্রস্তাব মন্ত্রীসভায় অনুমোদন

বিশেষ সংবাদদাতা

২১ আগস্ট ২০১৭,সোমবার, ২০:২৩


প্রিন্ট

সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে আন্তর্জাতিক একটি জোটের যুক্ত হওয়ার কাঠামোগত চুক্তিতে অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে ‘ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট ২০১৭’-এর খসড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পায়নি। এজেন্ডা হিসেবে এটি আইনের খসড়া উত্থাপন করা হলেও তা অধিকতর আলোচনা-পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটি বাড়ছে কিনা, তা নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও এ বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনাই হয়নি।

আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সংস্কার ও সমন্বয়) এম এন জিয়াউল আলম এসব তথ্য জানান।
নির্বাহী আদেশে ঈদের ছুটি বাড়ানো নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে সচিব জিয়াউল আলম বলেন, ঈদের ছুটির বিষয়টি মন্ত্রিসভায় বৈঠকে বিষয়টি এজেন্ডাতেই ছিল না। ফলে সরকারি ছুটি বাড়ানো-কমানোর নির্বাহী আদেশ নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও মন্ত্রী বা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে আলাদা কোনো নির্দেশনা দেননি বলে তিনি জানান।

আন্তর্জাতিক সোলার অ্যালায়েন্স অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন
সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে আন্তর্জাতিক একটি জোটের যুক্ত হওয়ার কাঠামোগত চুক্তিতে অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সভা শেষে সচিবালয়ে সভার ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সংস্কার ও সমন্বয়) এম এন জিয়াউল আলম বলেন, ‘ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য এস্টাবশিলমেন্ট অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স’ শীর্ষক প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে আন্তর্জাতিক এই জোট নিজেদের সদস্য দেশগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে এবং যেকোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে যেকোনো উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, সমমনা কয়েকটি রাষ্ট্র মিলে এই অ্যালায়েন্স গঠিত হবে। বাংলাদেশ এ অ্যালায়েন্সের অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহী বলেই এটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আন্তর্জাতিক জোট বা অ্যালায়েন্সের সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামো থাকবে। এই কাঠামোর আওতায় একটি অ্যাসেম্বলি ও একটি সচিবালয় থাকবে। অ্যালায়েন্সের সদস্য দেশগুলো এই অ্যাসেম্বলির সদস্য হবে। জোটের যেকোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে ভোটে। আর জোট সচিবালয়ের কাজ হবে এর গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন।

তিনি বলেন, অ্যালায়েন্সে থাকতে হলে এর সদস্য দেশগুলোকে কোনো চাঁদা দিতে হবে না। তবে যেকোনো সদস্য রাষ্ট্র চাইলে অনুদান দিতে পারবে। এছাড়া কোনো রাষ্ট্র অ্যালায়েন্স ছেড়ে যেতে চাইলে তিন মাসের নোটিশে সদস্যপদ প্রত্যাহার করতে পারবে।

ইনকাম ট্যাক্স আইন ফেরত
‘ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট ২০১৭’-এর খসড়া অনুমোদন পায়নি মন্ত্রিসভায়। এটি এজেন্ডা হিসেবে এই আইনের খসড়া উত্থাপন করা হলেও সেটিকে অধিকতর আলোচনা-পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

আজ মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সংস্কার ও সমন্বয়) এম এন জিয়াউল আলম বলেন, বৈঠকে এজেন্ডা হিসেবেই সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের জন্য ‘ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট ২০১৭’-এর খসড়া উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু এ আইনটি অনুমোদিত হয়নি। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে আরো গভীরভাবে আলোচনা-পর্যালোচনা করে তারপর পরবর্তী বৈঠকে এই আইন উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছে। তারাই আইনটি উত্থাপন করেছিল, তাদের কাছেই সেটি ফেরত পাঠানো হয়েছে।

উত্থাপিত ইনকাম ট্যাক্স আইনে কী কোনো ত্রুটি ছিল বা এতে কী ধরনের পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে, জানতে চাইলে সচিব বলেন, পুরো আইনকেই বিস্তারিত ও গভীরভাবে আলোচনা-পর্যালোচনা করে তারপর আইনটি উত্থাপন করতে বলা হয়েছে।

২১ আগস্টের শোক প্রস্তাব গৃহীত
মন্ত্রিসভা বৈঠকে ২১ আগস্টের শোক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। বৈঠকে ওই ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। এছাড়া যাদের মদদে নৃশংস এই হামলা সংগঠিত হয়েছিল, বৈঠকে তাদের প্রতি ঘৃণা, ধিক্কার ও নিন্দা জানানো হয়েছে। আজ বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সংস্কার ও সমন্বয়) এম এন জিয়াউল আলম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা বৈঠকে একুশে আগস্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং একটি শোক প্রস্তাব ও নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ শোক প্রস্তাবের বিস্তারিত তৈরি করছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং কয়েকশ’ মানুষ আহত হন। সন্ত্রাসবিরোধী ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়া মাত্র গ্রেনেড হামলা ও গুলি শুরু হয়। এতে শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫