ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

ফ্যাশন

ঈদে শরতের পরশ

এ কে রাসেল

২১ আগস্ট ২০১৭,সোমবার, ১৮:১০


প্রিন্ট
ঈদে শরতের পরশ

ঈদে শরতের পরশ

আসছে ঈদুল আজহা। শরৎকাল হওয়ায় ঈদ ফ্যাশনেও লেগেছে ঋতুবৈচিত্র্যের ছোঁয়া। এই ঈদে ফ্যাশন হাউজগুলোর আয়োজন নিয়ে লিখেছেন এ কে রাসেল

উৎসব বলে কথা। ঈদুল আজহায় ঈদুল ফিতরের মতো বাজেট না থাকলেও কেনাকাটা তো হয়ই। বছরের বিশেষ একটি দিন। আনন্দ-উৎসবের এমন দিনে নতুন একটি পোশাক হলে মন্দ হয় না। ফ্যাশন সব সময়ই ঋতু-দেশ-কাল ভেদে পরিবর্তিত হয়। এই মেঘ, এই রোদ, বৃষ্টি ছায়ায় পোশাকও হওয়া চাই ঋতুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে। তাই তো এবারের ঈদ ফ্যাশনে থাকছে শরতের পরশ। ফ্যাশন যে শরতের আকাশের মতো সদা পরিবর্তনশীল এ কথা তো সবার জানা। ফ্যাশনসচেতন মেয়েরা এখন বিপরীত রঙ ও বৈচিত্র্যময় নকশার ব্লাউজ বেছে নিচ্ছেন শাড়ির সাথে। সিঙ্গেল কুর্তির সাথে ওড়না ও কামিজ মিলিয়ে পরার ঝোঁক লক্ষ করা যাচ্ছে ইদানীং। থাকছে পালাজ্জো কিংবা ল্যাগিংস। হাল ফ্যাশনে সাধারণ কাটের ফতুয়া ও কামিজ না বানিয়ে সবাই একটু আলাদা করার চেষ্টাই যেন করছে।

পাশ্চাত্য ধাঁচের পোশাকের অনুকরণ করার যে প্রবণতা শুরু হয়েছিল তাতে অবশ্য খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। ফিটিংস প্যান্ট বা জেগিংসই এখন পছন্দ করছেন সবাই। এ ছাড়া সালোয়ার-কামিজ ও ওড়নার একই রঙ বা ছাপা নকশার ব্যবহার এখন আর ভালো দেখাচ্ছে না বেশির ভাগ ফ্যাশন সচেতনের কাছে।

ঘরের কাজে সুতি কোটা শাড়ি সব সময়ই আরামদায়ক। আগে কোটা কেবল সুতিতে হলেও এখন কোটা হচ্ছে সিল্ক এবং হাফ টপসিল্কেও। পাতলা পাড়ের ভরাট জমিন। আঁচলের কাজ ছোট কিন্তু বেশ ঘন। আর এখন এই ফিউশনের যুগে কোটায় যোগ হচ্ছে এপলিক, সুতা ও পুঁতির কাজ। রঙেও পরিবর্তন হয়েছে অনেকটাই। আগেকার দিনে হালকা রঙের কোটা হলেও এখন ফিকে লাল, গোলাপি, নীল, সাদা, আকাশি, হলুদ ও সবুজ রঙের কোটার প্রাধান্য থাকবে বলেই মত দেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা।

এবারের ঈদ আয়োজনে অনেকেই এনেছে শাড়ি, থ্রিপিস, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, কুর্তা ও টি-শার্ট। ঈদকে নিয়ে বিভিন্ন শ্লোকের মোটিফ নান্দনিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে ডিজাইনের অনুষঙ্গ হিসেবে। দৃষ্টিনন্দন এক্সক্লুসিভ এন্ডি, এন্ডি সিল্ক, সিল্ক, জামদানি, মসলিন, রেশমি কটন, ধুপিয়ান ও সুতি কাপড় দিয়ে পোশাকগুলো তৈরি হয়েছে। ব্লক, স্প্রে, টাইডাই, স্কিন-প্রিন্ট, এপ্লিক, হাতের ভরাট কাজ, লেস, চুমকি বিভিন্ন সিকোয়েন্সের কাজ করা হয়েছে পোশাকে। রঙ বৈচিত্র্যে লাল, কমলা, সাদা রঙের কম্বিনেশন ব্যবহৃত হয়েছে ঈদসম্ভারে।

এবার ফ্যাশন হান্টারদের জন্য থাকছে লং সালোয়ার-কামিজ-কুর্তা, ফ্লোরাল প্যাটার্নের কামিজ, শাড়ি, কলিদার পাঞ্জাবি, পোলোশার্টসহ বিবিধ ফ্যাশন অনুষঙ্গও। ঈদ কালেকশনে সালোয়ার-কামিজের কাটিং এবং প্যাটার্নে অনেক নতুনত্ব আনা হয়েছে। সালোয়ার-কামিজের ক্ষেত্রে ঝুল অনেকখানি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষভাবে পরিবর্তন হয়েছে সালোয়ারের কাটিংয়ে। খানিকটা লম্বা ঝুলের স্লিমফিট ট্রেন্ডি সালোয়ার-কামিজও এনেছে কোনো কোনো ফ্যাশন হাউজ। নেক লাইন ও ওড়ানাতে ভেরিয়েশন করা হয়েছে তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশন ভাবনা থেকে। ফেব্রিক্স ও পোশাকের রঙে ফেস্টিভমুড ও ডিজাইন ভেরিয়েশন করা হয়েছে গরমে স্বাচ্ছন্দ্যে পরার উপযোগী করে। আবর্তনে পাঞ্জাবি ও ছোটদের পোশাকের পাশাপাশি থাকছে মসলিন ও কটন শাড়ির বৈচিত্র্যময় কালেকশনস। বর্তমান আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে সম্পূর্ণ দেশীয় সুতি কাপড়ে তৈরি থ্রি পিস এনেছে অনেক নামীদামি ফ্যাশন হাউজ। প্রাধান্য দেয়া হয়েছে নীল-সাদা, লালসহ বিভিন্ন রঙ। প্রতিটি থ্রি পিসে ডিজাইনের ক্ষেত্রে রয়েছে দেশীয় ঐতিহ্য ও হাতের কাজ, স্কিন প্রিন্ট, এম্ব্রয়ডারি ও কারচুপির কাজ।

ফ্যাশনে তরুণেরাও পিছিয়ে নেই। আর ফ্যাশন সচেতন তরুণদের জন্য কালারফুল প্রিন্ট আর চেক নিয়ে ট্রেন্ডি লাইনআপ এনেছে ফ্যাশন হাউজগুলো। স্লিম ফিট এবং বডি ফিট প্যাটার্নের এসব পোশাকে থাকছে পাশ্চাত্যধর্মী ফিউশন। ক্যাজুয়াল ফ্যাশনের পাশাপাশি অ্যাক্সেসরিজ থাকছে ফরমাল লুকের জন্যও। নতুন ও ভিন্নধর্মী ডিজাইনের পাঞ্জাবি, পাজামা শার্ট, ডেনিম প্যান্ট, পোলো, টি-শার্ট ইত্যাদি রয়েছে অনেক দোকানে।

ঈদে ফ্যাশন সচেতন তরুণদেরও পোশাক ভাবনাতে বেশ খানিকটা জায়গাজুড়ে থাকে পাঞ্জাবি। লম্বা স্লিমফিটের পাঞ্জাবি এখন বেশি জনপ্রিয় বলে জানালেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা। এদিকে ইজির সব শোরুমে এখন পাওয়া যাচ্ছে সুতি পাঞ্জাবি, সিল্ক পাঞ্জাবি, খাদি পাঞ্জাবি, সেমি লং পাঞ্জাবি, লং পাঞ্জাবি, চেক পাঞ্জাবি, কালারফুল পাঞ্জাবি।

শিশুদের জন্য সুতি, ভয়েল, লিলেন, কটন কাপড়ের পোশাকই বেশি। ছেলেশিশুদের জন্য রয়েছে টি-শার্ট, বাটিকের ফতুয়া, শার্ট ও পাঞ্জাবি। ফতুয়া ও শার্টে রয়েছে বিভিন্ন প্রিন্ট আর টি-শার্টে থাকছে বিভিন্ন লেখা ও স্পাইডারম্যান, ব্যাটম্যান, ডোরেমনসহ জনপ্রিয় নানা কার্টুন চরিত্র। মেয়েশিশুদের পোশাকের ফ্যাব্রিকে ফুলেল মোটিফেরই ব্যবহার বেশি।

কোরবানির ঈদে যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা মার্কেটে রয়েছে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজে নানা ডিজাইন ও বাহারি কারুকার্যের পোশাক। এ ছাড়া নিউ মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড মার্কেট, মালিবাগ, মৌচাক, সদরঘাট, গুলিস্তানসহ সারা দেশের নানা ব্র্যান্ডের ফ্যাশন হাউসগুলোতে পছন্দসই ঈদ পোশাক কিনতে পারেন। তবে আজিজ সুপার মার্কেটে ৩০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে সব বয়সীদের পছন্দসই ঈদ পোশাক পেয়ে যাবেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫