নতুন মুখের ছড়াছড়ি আওয়ামী লীগে
নতুন মুখের ছড়াছড়ি আওয়ামী লীগে

ঢাকা-৫ আসন : নতুন মুখের ছড়াছড়ি আওয়ামী লীগে

মনিরুল ইসলাম রোহান

আগামী জাতীয় নির্বাচনের আমেজ শুরু হয়েছে ঢাকা-৫ আসনে। নির্বাচনের এক বছরের বেশি সময় বাকি থাকলেও আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা। নতুন-পুরনো মিলে মনোনয়ন দৌড়ে আছেন পাঁচজন প্রার্থী। এর মধ্যে চারজনই নতুন।

মনোনয়নপ্রত্যাশী তরুণ প্রার্থীদের পদচারণায় এখনই মুখর হয়ে উঠেছে এলাকা। মাঝে মধ্যে উঠোন বৈঠক, গণসংযোগ, ভবন উদ্বোধনসহ নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের কাছে আগামী নির্বাচনের জন্য নৌকায় ভোট চাচ্ছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। 


ঢাকা দক্ষিণ সিটির ডেমরা থানা, যাত্রাবাড়ী থানার ৪৮, ৪৯ ও ৫০ নম্বর ওয়ার্ড, মাতুয়াইল ইউনিয়ন, সারুলিয়া ও দনিয়া ইউনিয়ন এবং কদমতলী থানার একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-৫ আসন। এখানকার প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা সড়ক, যানজট, মাদকের থাবা। সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদেও ওই এলাকার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি। একটু বৃষ্টি হলেই কদমতলীর রায়ের বাগ, মাতুয়াইল দক্ষিণপাড়া, দনিয়াসহ বেশ কিছু এলাকায় হাঁটুপানি জমে। এতে এলাকাবাসীর চরম ভোগান্তি হয় বলে জানান দনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে খান জয়। মাতুয়াইল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার লাল বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। গত আট বছরে এ এলাকায় দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। এলাকার উন্নয়নের জন্য আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনিরুল ইসলাম মুন ভাইকে দেখতে চাই। 


এ আসন থেকে চারজন তরুণ ও নতুন প্রার্থী মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ দিচ্ছেন। এর মধ্যে বাবার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার তীব্র আকাক্সক্ষা নিয়ে মনোনয়ন পেতে সক্রিয় আছেন ঢাকা-৫ আসনের দু’বারের এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার ছেলে মশিউর রহমান মোল্লা সজল। তরুণ প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের কাছে নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করছেন। পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন দিয়ে এলাকা ছেয়ে ফেলেছেন। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, দলের যে কেউ মনোনয়ন চাইতেই পারেন- এটি স্বাভাবিক। তবে তার যোগ্যতা আছে কি না, শুধু তৃণমূলের সাথে নয়, দলের বাইরেও সমর্থন আছে কি না, এসব কিছু বিবেচনা করে মনোনয়ন দেয়া উচিত। অজনপ্রিয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলে এ আসন থেকে পাস করতে পারবে না। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রতিদিন নেতাকর্মীদের সাথে বৈঠক করছি। তৃণমূলে আমার গ্রহণযোগ্যতা আছে কি না আপনারা একটু যাচাই করলেই দেখতে পাবেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে একটি নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। শুধু দলে নয়, দলের বাইরেও একটি ইমেজ আছে। তবে বর্তমান এমপি হাবিবুর রহমান রহমান মোল্লাকে বাদ দিয়ে নয়, বয়স বিবেচনায় তাকে যদি এবার মনোনয়ন দেয়া না হয়, তাহলে সাংগঠনিক যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা ও একজন তরুণ নেতা হিসেবে যেন নেত্রী আমাকে একটিবার সুযোগ দেন। 


মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আরেক প্রার্থী যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশীদ মুন্না। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, বিগত চারটি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছি। এর মধ্যে দু’টিতে নিজেই আওয়ামী লীগের টিকিট পেয়েছিলাম। কিন্তু তা না নিয়ে সম্মান দেখিয়ে হাবিবুর রহমান মোল্লাকে মনোনয়ন দান করে নিজে নেতৃত্ব দিয়ে নির্বাচিত করেছি। বিনিময়ে তৃণমূল নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হয়েছেন এবং এমপিও তৃণমূল থেকে বিচ্ছিন্ন। তিনি বলেন, ঢাকা-৫ আসনে ত্যাগী ও বিপদের বন্ধু হিসেবে যারা আছেন তাদের মধ্যে থেকে মনোনয়ন দেয়া হোক। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় বসানোর জন্য শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও ঢাকা-৫ তাকে উপহার দেবো। 


এ আসনে আরেক তরুণ প্রার্থী হলেন ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনিও ঢাকা-৫ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, অতীতে সব আন্দোলন-সংগ্রামে, দলের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম। তৃণমূলকে সংগঠিত করার কাজ করছি। নেত্রী মনোনয়ন দিলে আগামীতে জাতীয় নির্বাচন করতে চাই। 


এ ছাড়াও মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ দিচ্ছেন যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু। নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য তিনি নেত্রীর মনোনয়নের দিকে তাকিয়ে আছেন। এ জন্য আগেভাগেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন তিনি। এর আগে তিনি যাত্রাবাড়ী এলাকায় তিনবার নির্বাচিত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বৃহত্তর ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ছিলেন দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। কাজী মনিরুল ইসলাম মনু নয়া দিগন্তকে বলেন, আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রত্যয় নিয়ে এলাকায় গণসংযোগ করছি। পাশাপাশি তৃণমূলকে গোছানোর কাজও করছি।

তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে পারলে আগামী নির্বাচনে ইতিবাচক ফল আসবে। তিনি বলেন, শুধু রাজনীতিতে ভালো করলে হবে না, জনগণের সাথে মিশতে পারার মতো গুণও থাকতে হয়। এ এলাকার মানুষের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক। দলের দুঃসময়ে এ এলাকার হাল ধরেছি। কখনো পিছপা হইনি। দলের সুনামের জন্য আজীবন কাজ করেছি। একজন স্বচ্ছ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী রাজনীতিবিদ হিসেবে আমি আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের দাবি রাখি। আশা করি সৎ, স্বচ্ছ ও সাংগঠনিকভাবে যোগ্য বিবেচনায় জননেত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা-৫ আসনে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী মনোনীত করবেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.