পাসপোর্ট সেবা নিয়ে টিআইবি : দালাল-পুলিশে হয়রানির শিকার মানুষ

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

পাসপোর্ট সেবায় প্রক্রিয়াগত জটিলতা, সেবার মান, দালালদের দৌরাত্ম্য, পুলিশী তদন্তে অনিয়ম ও দুর্নীতি, জনবলের ঘাটতি, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের দুর্নীতি এই খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিবন্ধক বলে ট্রান্সপারেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) জরিপে প্রকাশ করা হয়েছে। এই সব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দেশের সাধারন মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। ফলে তাদের বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতায় পড়তে হচ্ছে। ৫৫.২ শতাংশ বিভিন্ন ধরণের অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হচ্ছে সেবাগ্রহীতারা।

পাসপোর্ট সেবায় সুশাসন : চ্যালেঞ্জ ও করনীয় শীর্ষক টিআইবির এক গবেষণা জরিপে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ধানমন্ডিস্ত টিআইবি অফিসে আজ সোমবার এই প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি চেয়ারম্যান এডভোকেট সুলতানা কামাল, সাবেক চেয়ারম্যান ও ট্রাষ্টি এম. হাফিজউদ্দিন খান এবং নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন পাসপোর্ট আবেদনে সেবাগ্রহীতাদের ৭৬.২ শতাংশ পুলিশী তদন্তে অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হচ্ছে। ৭৫.৩ শতাংশ সেবাগ্রহীতাকে ঘুষ দিতে হয়েছে। গড়ে এই ঘুষের পরিমান ৭৯৭ টাকা। পুলিশী হয়রানির মধ্যে রয়েছে, অযথা ত্রুটি খুঁজে বের করা, 'জঙ্গি' বা অন্য রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ততার ভয় দেখানো, বাড়িতে না গিয়ে থানা বা চায়ের দোকানে ডেকে আনা এবং ঘুষ দাবি করা হচ্ছে।

টিআইবি বলছে, আবেদনকারীদের ৪১.৭ শতাংশ দালালদের সহযোগিতা নিচ্ছে। দালালদের একটি অংশের সাথে এসবি পুলিশ ও পাসপোর্ট কর্মকর্তা-কর্মচারিদের যোগসাজশ রয়েছে। দালালরা যে অর্থ নেয় তার একটি অংশ পুলিশ ও পাসপোর্ট কর্মকর্তাকর্মচারিদের প্রদান করা হচ্ছে। এই দালালদের একটি অংশের সাথে সত্যায়নের ক্ষেত্রে সরকারী কর্মকর্তাদের একটি অংশ জড়িত।

সুলতানা কামাল বলেন, পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে যে অনিয়ম দুর্নীতির কারণেই দালালরা সুযোগ পাচ্ছে। ভেতর থেকে কারা প্রশ্রয় দিচ্ছে সেটাকে আগে চিহ্নিত ও দমন করতে হবে।

ড. ইফতেখারুজ্জান বলেন, সত্যায়ন-প্রক্রিয়া এবং পুলিশি তদন্ত বন্ধ করে দেয়া উচিত। পাসপোর্ট অফিস এই পুলিশী তদন্ত বন্ধের দাবি করলেও পুলিশ কর্তৃপক্ষ এটা চাচ্ছেন না। তিনি বলেন, জনবলের সংকট মেটানো গেলে এটা কমিয়ে আনা সম্ভব। সরকার গড়ে বছরে ১ হাজার ১ শ' কোটি টাকা রাজস্ব পাচ্ছে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.