ঢাকা, মঙ্গলবার,২১ নভেম্বর ২০১৭

রাজনীতি

'খায়রুল হক অসৎ, অনৈতিক ও নির্লজ্জ'

নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ আগস্ট ২০১৭,সোমবার, ০৭:৩৫


প্রিন্ট
খায়রুল হক

খায়রুল হক

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফেরামের প্রািদসমাবেশে বক্তৃতা করছেন মওদুদ আহমদ : নয়া দিগন্ত
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি ও জাতীয় আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হক একজন অসৎ, অনৈতিক এবং নির্লজ্জ ব্যক্তি। তিনি বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে সরকারের মুখপাত্রের ভূমিকা নিয়েছেন। তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি ছিলেন, অথচ তিনি এত নিচে নেমেছেন, তার এহেন কর্মকাণ্ড দেখে আমাদের লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়। 


গতকাল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির উত্তর হলে ষোড়শ সংশোধনীর রায় ও বিচার বিভাগ নিয়ে অশালীন বক্তব্য দেয়ায় খায়রুল হকের গ্রেফতার ও অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নিতাই রায় চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন, তৈমূর আলম খন্দকার, আবেদ রাজা, বদরুদ্দোজা বাদল, রফিকুল ইসলাম মেহেদী, গাজী কামরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। 


ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক তারই ছেড়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানকে (সুপ্রিম কোর্ট) কিভাবে হেয় করছেন? এটি ভাবলে আমাদের মাথা হেঁট হয়ে যায়। আপনি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখুন। তিনি বলেন, বিচারপতি খায়রুল হক মুন সিনেমা হলের মামলার মাধ্যমে পঞ্চম সংশোধনীতে হাত দিয়ে তা বাতিল করলেন। অথচ তার রায়ে এখনো সেই হল মালিক হলের মালিকানা ফেরত পাননি। এই হলো বিচারপতি খায়রুল হক! 


তিনি আরো বলেন, পঞ্চম সংশোধনীর রায়ে খায়রুল হক সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বহাল রেখেছেন। তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রণয়ন করা গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও বহাল রেখেছেন। 


ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ অনতিবিলম্বে খায়রুল হককে জাতীয় আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণের দাবি জানান। 


জয়নুল আবেদীন বলেন, বিচারপতি খায়রুল হক দেশ জাতি ও জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। তিনি তার রায়ে জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে শপথ ভঙ্গ করেছিলেন। একজন মন্ত্রীও রায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্য করছেন, অথচ তিনি নিজেই শপথ ভঙ্গ করেছেন। রায়কে ঘিরে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা বিভক্তি সৃষ্টি করছে। অতীতেও অনেক রায় হয়েছে; কিন্তু এমনটা ঘটেনি। ইতিহাসও বলে না, এমনটা হয়েছে কখনো। তাই আমরা রায় নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাব।


ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, খায়রুল হক এ যুগের মীর জাফর। একটি রায় নিয়ে তিনি যে মন্তব্য করেছেন বিচার বিভাগকে হেয় করেছে। তিনি বলেন, সরকারের টার্গেট সুপ্রিম কোর্টকে আঘাত করা। সরকারের মন্ত্রীরা যেভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন তার জন্য আদালত অবমাননার মামলা করা যায় কিনা সে বিষয়ে চিন্তা করার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি। 


এত দিন পর সরকার সোজা পথে এসেছে

এদিকে অন্য এক অনুষ্ঠানে মওদুদ আহমদ বলেছেন, সরকার ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দাখিল করবে বলে পত্রিকায় বেরিয়েছে। এত দিন পর সরকার সোজা পথে এসেছে। এটা যদি সত্যি হয়, তাহলে এত দিন যাবৎ আন্দোলন এবং প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অশ্লীল বক্তব্য রেখে বিচার বিভাগের যে তি সাধন করা হলো তার পরিণতির জন্য সরকারই দায়ী থাকবে।


গতকাল বিকেলে জাতীয় প্রেস কাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘ফেনী আমার ফেনী’ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে মরহুম রাজনীতিক ও শিল্পপতি মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলে আয়োজিত আলোচনা সভায় মওদুদ এ কথা বলেন।


মওদুদ বলেন, রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের রাজনৈতিক অবস্থান বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর একটি চরম আঘাত। এ রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও উচ্চ আদালতের ভাবমর্যাদা, মান-সম্মান সরকার ধূলিসাৎ করেছে। পৃথিবীর কোথাও শুনিনি এরকম অবস্থা। যার জন্য আজকে (রোববার) প্রধান বিচারপতি ওপেন কোর্টে বলেছেন, পাকিস্তানের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে সুপ্রিম কোর্ট সরিয়ে দিয়েছে, সেখানে তো কোনো কিছু হয় নাই। আমার জীবনে কখনো শুনিনি, সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে সরকার এইভাবে আন্দোলনের ঘোষণা করে। কত নিচের দিকে নিয়ে গেছে তারা দেশকে। সরকারকে বলব, এসব বন্ধ করুন।


সংগঠনের সভাপতি ও বিএফইউজের একাংশের মহাসচিব এম আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রবীণ সাংবাদিক এরশাদ মজুদার, খোন্দকার মোজাম্মেল হক, দৈনিক সমকালের প্রধান প্রতিবেদক লোটন একরাম, ফেনীর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা বেলাল মিল্লাত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫