ঢাকা, শুক্রবার,২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

রকমারি

রাজধানীতে অবৈধ পশুহাট বসানোর পাঁয়তারা

খালিদ সাইফুল্লাহ

২১ আগস্ট ২০১৭,সোমবার, ০৬:২৭


প্রিন্ট
রাজধানীতে অবৈধ পশুহাট বসানোর পাঁয়তারা

রাজধানীতে অবৈধ পশুহাট বসানোর পাঁয়তারা

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ পশুহাট বসানোর পাঁয়তারা চলছে। স্থানীয় সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরেরা এ অপতৎপরতা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এতে বৈধ হাটগুলোতে প্রভাব পড়তে পারে। এ ছাড়া জুরাইনে হাট বসানোকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 


ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, এ বছর মোট ১৩টি অস্থায়ী কোরবানির পশুহাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এর মধ্যে ৯টি হাটের ইতোমধ্যে ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি চারটি হাটের ইজারা দিতে আজ তৃতীয় দফা টেন্ডার বাক্স খোলা হবে। ইজারা সম্পন্ন হওয়া হাটগুলো হলো- মেরাদিয়া বাজার, শাহজাহানপুর মৈত্রী সঙ্ঘের মাঠ, ঝিগাতলা হাজারিবাগ মাঠ, লালবাগের রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ, কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড়, পোস্তগোলা শশ্মানঘাট সংলগ্ন খালি জায়গা, দনিয়া কলেজ মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা, শ্যামপুর বালুর মাঠ এবং ধুপখোলা ইস্ট অ্যান্ড কাব। ইজারা সম্পন্ন না হওয়া হাটগুলো হলো- ব্রাদার্স ইউনিয়ন সংলগ্ন বালুর মাঠ, কমলাপুর স্টেডিয়ামের আশপাশের এলাকা, আরমানিটোলা খেলার মাঠ এবং সাদেক হোসেন খোকা মাঠসংলগ্ন ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল ও সংলগ্ন খালি জায়গা। 


তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৈধভাবে টেন্ডার আহ্বান করে দেয়া হাটের বাইরেও নগরীর কয়েকটি স্থানে অবৈধভাবে কোরবানির পশুহাট বসানোর পাঁয়তারা চলছে। এসব স্থানের মধ্যে জুরাইন বালুর মাঠ, গোলাপবাগ মাঠ, ডেমরা মৃধা বাড়ি ও ধানমন্ডির গ্রিনরোড সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের ২ নং ভবনের সামনের মাঠ অন্যতম। স্থানীয়দের অভিযোগ- সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলেরা এসব হাট বসানোর চেষ্টা করছেন। 


ডিএসসিসি এ বছর টেন্ডারের মাধ্যমে কদমতলির শ্যামপুর বালুর মাঠ এবং পোস্তগোলা শশ্মান ঘাট সংলগ্ন খালি জায়গায় দু’টি হাট ইজারা সম্পন্ন করেছে। শ্যামপুর মাঠ এক কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং পোস্তগোলা শশ্মানঘাট সংলগ্ন খালি জায়গার হাট ৩৫ লাখ ১৫ হাজার টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, এ দু’টি হাটের মাঝখানে ও খুব নিকটবর্তী জুরাইন বালুর মাঠে টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই অবৈধভাবে আরেকটি কোরবানির পশুরহাট বসানোর পাঁয়তারা করছেন কদমতলি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ৫২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ নাছিম মিয়া। এ ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে প্রচার-প্রচারণায় শুরু করেছেন তিনি। মেয়রের অনুমতি নিয়ে এ হাট বসানো হচ্ছে বলেও প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুরাইন রেলগেট সংলগ্ন বালুর মাঠ নামে যে জায়গাটিতে হাট বসানোর চেষ্টা চলছে সেখানে কোনো মাঠই নেই। এখানে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম হাসপাতাল আর দেড় শতাধিক দোকানপাট রয়েছে। এখানে হাট বসলে মূল রাস্তায় ছাড়া গরু-ছাগল রাখার তেমন বড় কোনো জায়গা নেই। ফলে এখানে পশুহাট বসালে জনগণের চিকিৎসাব্যবস্থায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এমনকি এখানে হাট বসালে বড় ধরনের সংঘর্ষেরও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, জুরাইনের এ এলাকাটি ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। এ ব্যাপারে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজী মো: মাসুদও কিছু জানেন না। তিনি বর্তমানে হজ পালনে সৌদি আরব রয়েছেন। বরং ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এখানে হাট বসানোর অপতৎপরতা চালানোয় তারা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। 


এ ব্যাপারে শ্যামপুর বালুর মাঠের ইজারাদার মাসুক রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা বৈধভাবে টেন্ডারে অংশ নিয়ে ভ্যাটসহ এক কোটি ৬৮ লাখ টাকা দিয়ে হাটটি ইজারা নিয়েছি। কিন্তু এ হাটের মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে জুরাইন বালুর মাঠে আরেকটি হাট বসানোর চেষ্টা হচ্ছে। পোস্তগোলা হাটটিও জুরাইন বালুর মাঠের খুব কাছাকাছি। এতে আমরা ব্যবসায়িকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবো। বিষয়টি সিটি করপোরেশনের মেয়রের দৃষ্টি দেয়া উচিত।

এ বিষয়ে জুরাইন বালুর মাঠে হাট বসানোর চেষ্টারত ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ নাছিম মিয়ার সাথে টেলিফোনে কথা বললে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে লাইন কেটে দেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা নয়া দিগন্তকে বলেন, জুরাইনে বালুর মাঠে হাট বসাতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল অপতৎপরতা চালাচ্ছে। কিন্তু এখানে বালুর মাঠের কোনো অস্তিত্বই নেই। এখানে হাট হলে তা রাস্তার ওপর বসবে। এতে জনস্বার্থ চরম বিঘœ ঘটবে। এ কারণে এখানে হাট বসানোর কোনো সুযোগ নেই। তা ছাড়া এ হাটের সিটি করপোরেশনের কোনো অনুমোদন নেই জানিয়ে তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে মেয়রের সাথেও কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, জুরাইনে কোনো হাটের ইজারা হয়নি। এখানে কোনো পশুহাট বসবে না। 


এ ব্যাপারে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, জুরাইনে কোরবানির পশুহাট বসানোর বিষয়ে আবেদন আছে। তবে এখানে হাট বসানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। 


এ দিকে জানা যায়, ধলপুরের গোলাপবাগ মাঠে এক সময় ডিএসসিসির কোরবানির পশুহাট বসতো। কিন্তু মেয়র হানিফ ফাইওভার নির্মাণের কারণে বেশ কয়েক বছর এখানে হাট ইজারা দেয়া বন্ধ থাকে। ডিএসসিসি সম্প্রতি এ হাটটির অবৈধ দখল মুক্ত করেছে। কিন্তু এ বছর গোলাপবাগ মাঠে কোরবানির পশুরহাট বসানোর জন্য কোনো টেন্ডার আহ্বান করেনি। কিন্তু কোরবানিকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকারদলীয় নেতারা এখানে পশুহাট বসানোর চেষ্টা করছেন।

একইভাবে ডেমরা মৃধাবাড়ি এবং ধানমন্ডির গ্রিনরোড সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের ২ নং ভবনের সামনের মাঠেও টেন্ডার ছাড়াই হাট বসানোর পাঁয়তারা চলছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ সিটির প্রায় অর্ধশতাধিক এলাকায় কোরবানির পশুহাট বসানোর আবেদন আছে। কিন্তু জনস্বার্থে সব জায়গায় হাট বসানো সম্ভব নয়। এজন্য ১৩টি স্থানে হাট বসাতে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫