ঢাকা, শনিবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

কর্পোরেট দিগন্ত

‘মেঘনা গ্রুপ কোয়ালিটির ক্ষেত্রে কম্প্রমাইজ করে না’ মোস্তফা কামাল চেয়ারম্যান : মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ

পেপার জগতে সব ধরনের প্রোডাক্টই আছে ফ্রেশের

আলমগীর কবির

২১ আগস্ট ২০১৭,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট

বাংলাদেশের বাজারে টিস্যুপণ্য পরিচিতির ক্ষেত্রে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মজিবর রহমান। বর্তমানে তিনি মেঘনা পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলস লিমিটেডের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত মাস থেকে প্রতিষ্ঠানটি টিস্যুপণ্য বাজারজাত শুরু করেছে। এ বিষয়ে তার সাথে কথা বলেছেন আলমগীর কবির

বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত একাধিক টিস্যু কোম্পানি বাজারে রয়েছে। এর মধ্যে আপনারা নতুন করে যুক্ত হলেন। দেশের বর্তমান বাজারে টিস্যুপণ্যের চাহিদা বিবেচনায় এটা কতটুকু সময়োপযোগী এবং আপনাদের নতুনত্বটাই বা কী?
-টিস্যুটা বাংলাদেশে মূলত শুরু হইছে ১৯৮৮ সালে। ওটা ছিল কনভার্টিং ইন্ডাস্ট্রিজ। ১৯৮৮-এর আগে কিছু প্রোডাক্ট ইনপোর্ট হয়ে আসত চীন থেকে। ওটা ছিল শুধু টয়লেট টিস্যু, বাজারে ফেসিয়াল বা ন্যাপকিন এই ধরনের টিস্যু থাকত না। বিদেশী যে ডিউটি ফ্রি সোপ, ওখান থেকে কিছু টিস্যু বাজারে চলে আসত। ১৯৮৮ সালে যখন একটি কোম্পানি ব্র্যান্ড নিয়ে আসে। বিদেশ থেকে জাম্বু রোলগুলো এনে এখানে কেটে কেটে প্যাকিং করত। টানা ১২ বছর তারা এইভাবে ব্যবসা করেছে। ২০০০ সালে অন্য আরেকটা কোম্পানি মেনুফ্যাকচারিংয়ে (মেনুফ্যাকচারিং ইউনিট নিয়ে) আসছে। তারা প্রথম এ দেশে রিজন্যাবল প্রাইসে টিস্যু প্রোডাক্ট বাজারে ছেড়েছে। ওই কোম্পানি নিজস্ব মেনুফ্যাকচারিংয়ের মাধ্যমে টিস্যু বাজারজাত শুরুর ছয় মাসের মধ্যে চায়না থেকে আসা প্রোডাক্টগুলো মার্কেট থেকে আউট হয়ে গেছে।
বাংলাদেশে এখনো বাইরের অনেক প্রোডাক্ট আসে। কনজুমার প্রোডাক্ট, বিশেষ করে বাংলাদেশে এত বিস্কুট কোম্পানি আছে, তাও বিদেশ থেকে নিয়মিতভাবে বিস্কুট এই দেশে আসে। মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া থেকে আসে। গার্মেন্টস শিল্পে বাংলাদেশ এত উন্নত, সারা ইউরোপের মার্কেট দখল করে ফেলেছে, তার পরও গার্মেন্টস কিন্তু ইনপোর্ট হয়ে আসে। তবে ব্যতিক্রমী হলো টিস্যু প্রোডাক্ত, বাইরে থেকে এখন কোনো টিস্যু প্রোডাক্ট বাংলাদেশে আসে না। এই একটা প্রোডাক্টই ইমপোর্ট হয়ে আসে না। কিছু কিছু জাম্বু রোল এখনো আসে, যেগুলো কিছু কোম্পানি কাটিং করে বাজারজাত করে।

ফ্রেশ এই জায়গাটায় ব্যতিক্রম কিভাবে?
-আমাদের ফ্রেশের কথা যেটা বলছেন, আমাদের মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যানারে। আমাদের কোম্পানিটার নাম মেঘনা পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলস লিমিটেড। যেখানে আমরা রাইটিং প্রিন্টিং থেকে শুরু করে এনসিআর পেপার, ভ্যারাইটিস মানে পেপার জগতের যত ধরনের প্রোডাক্ট আছে সবই আমরা এখানে করি। এটা কিন্তু বাংলাদেশের সব কোম্পানি করে না। এখানে ব্যাস পেপার থেকে আমরা এক্সারসাইজ বুকটা (লেখার খাতা) তৈরি করি। লেখার খাতার যত ধরনের (রিকোয়ারমেন্ট আছে) ভেরিয়েশন আসে সব ধরনের প্রোডাক্ট আমাদের মার্কেটে আছে। আমরা কিন্তু এটা খুব বেশি দিন ধরে শুরু করিনি। আমাদের দেশে অনেক দিন ধরে এক্সারসাইজ বুক পাওয়া যায়, এর মধ্যে ৮৫ শতাংশই মানহীন।
১৫ ভাগ প্রোডাক্ট পাওয়া যায় যেগুলো মোটামুটিভাবে একটা ক্লাস মেইন্টেইন করে। দুই থেকে তিনটা মেনুফ্যাকচারিং কোম্পানি আছে যারা কিছুটা মান ধরে রেখে পণ্য বাজারজাত করে। আমরা যে জিনিসটা মেইন্টেইন করি তাহলোÑ সম্পূর্ণ অটো মেশিন, হাতের কোনো রকম স্পর্শ ছাড়াই এটা তৈরি হয়। লেখার জন্য যে খাতাটা তৈরি হয় তার কাগজ ৫৫ জিএসম, এর নিচে আমরা কোনো অবস্থায়ই কাগজ দেই না। এর ফলে এক পাশে লিখলে অন্য পাশে দেখা যায় না এবং খাতার পৃষ্ঠাসংখ্যায় বেশ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। আমরা যদি বলি এখানে ২০৪ পৃষ্ঠা আছে তবে অবশ্যই এখানে ২০৪ পৃষ্ঠা থাকবে। কোনো অবস্থাতেই এই সংখ্যাটা কমবেশি হবে না। অথচ বাংলাদেশে এক হাজারের ওপরে খাতা বাজারজাতকারী কোম্পানি আছে, যাদের প্রায় সবারই উল্লিখিত পৃষ্ঠাসংখ্যায় গরমিল থাকে। এতে করে যারা এন্ড ইউজার তারা লুজার হচ্ছে। কোনো লোক যদি ২০০ পেজের খাতা কেনে তবে একটা একটা পেজ গোনে না। নরম্যাল মার্কেট থেকে ১৬০ পৃষ্ঠার একটা খাতা কিনে দেখবেন ওখানে আছে ১৫৫ পৃষ্ঠা বা ১৫২ পৃষ্ঠা আছে, এ ছাড়া মানও ঠিক নেই। ফ্রেশের ক্ষেত্রে যেটা হয় তা হলোÑ কোনো অবস্থাতেই গুণগত মানের দিক থেকে কোনো ছাড় দেই না। কারণটা হলো, মেঘনা গ্রুপের বিশাল একটা গুডউইল আছে সারা বাংলাদেশে, আমাদের ব্র্যান্ডের আলাদা একটা কদর রয়েছে সবার কাছে। আমি স্পেশালি বলব আমাদের চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর মুস্তফা কামাল সাহেব কোনো অবস্থাতেই কোয়ালিটির ব্যাপারে কম্প্রোমাইজ করেন না। এর ফলে পরপর তিন বছর আমরা বাংলাদেশের সেরা ব্র্যান্ড হিসেবে পুরস্কার পেয়েছি। এই স্বীকৃতিটা আমরা গত তিন বছর পরপর পেয়েছি।

পণ্যের কোয়ালিটিকে আপনারা কিভাবে মূল্যায়ন করেন?
-প্রোডাক্ট বাজারজাত করার আগে আমরা এটা পুঙ্খানুপুঙ্খ চেক করি কোয়ালিটি কন্ট্রোল আছে কি না। কারণ এন্ড ইউজার (প্রান্তিক গ্রাহক) যেন কোনোভাবেই আমাদের কাছ থেকে প্রতারিত না হন সেই চেষ্টা থাকে আমাদের।
এরপর টিস্যুর কথায় আসেন। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশে টিস্যুর যাত্রা শুরু হয়, তখন মার্কেট সাইজ অনেক ছোট ছিল, লিমিটেড কিছু লোক ফেসিয়াল এবং টয়লেট টিস্যু ইউজ করতেন। ২০০০ সালে দ্বিতীয় আরেকটি কোম্পানি আসার পর মার্কেট আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করে। আজকে ২০১৭ সালে এসে অনেকগুলো ব্র্যান্ড মার্কেটে আছে। ২০টার বেশি ব্র্যান্ড এখন দেশের বাজারে টিস্যু বিক্রি করে। মেনুফ্যাকচারিং ইউনিট আছে চারটা। আমাদের ছাড়াই চারটা মেনুফ্যাকটারিং ইউনিট আছে। অন্যরা যারা তারা কনভার্টিং করে, বিদেশ থেকে কিছু মানহীন জাম্বু রোল, যেটা চায়না অথবা ভিয়েতনাম থেকে ইমপোর্ট করে এখানে প্যাকেট করে। ওরা কোয়ালিটির চেয়ে প্রাইসিংটাকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
আপনি প্রশ্ন করেছেন আমরা কেন আসলাম? টিস্যু পেপার নিয়ে আমাদের মার্কেটে আসার পেছনে অনেক যুক্ত আছে। আপনি লক্ষ করলে দেখবেন গায়ে লেখা আছে, সফট, হাইজেনিক এবং অ্যাবজরবেন্ট। টয়লেট টিস্যু, ফেসিয়াল টিস্যু, ন্যাপকিনেও লেখা থাকে। প্রত্যেকটা কোম্পানিই এটা লিখে থাকে। কিন্তু আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে অ্যাকসেপ্ট আমরা ছাড়া কোনোটাই হাইজেনিক না।

আপনাদের প্রোডাক্ট কিভাবে হাইজেনিক?
-ফেসিয়াল টিস্যু আপনার সামনে যেটা আছে, এটা বাংলাদেশে যারা বাজারজাত করে এবং বড় মার্কেট দখল করে আছে, আর ছোট ছোট যারা আছে সবাই কী করে জানেন, মেনুফ্যাকচারিংটা জাম্বু রোল করে এটা কাটিংয়ে নিয়ে আসে কনভার্টিংয়ে নিয়ে আসে। মেনুফ্যাকচারিংটা একটা বড় ইউনিট থাকে সেখানে ফেসিয়ালটা বানানো হলো, ন্যাপকিনটা বানাল বা টয়লেট টিস্যুটা বানাল। এরপর কনভার্টিং একটা ইউনিট থাকে যেখানে এটাকে পিস পিস করে এবং ম্যানুয়ালি প্যাক করে। টিস্যুতে বিদেশী একটা ব্র্যান্ডের খুব কদর আছে দেশের একটা শ্রেণীর কাছে তারাও ম্যানুয়ালি প্যাক করে। তারা সবাই যখন কনভার্টিংয়ে যায় একটা বিশ্রি পরিবেশে লেবার দিয়ে অর্থাৎ হাত দিয়ে এই টিস্যুকে বক্সের ভেতরে ভরে, তারপর গাম লাগিয়ে শক্ত করে কার্টন করে বক্সে ভরে। একমাত্র ফ্রেশ হাতের কোনো স্পর্শ ছাড়া এটা প্যাক করি। বাংলাদেশে আমরাই প্রথম, কারণ অন্য কারো এই মেশিন নেই। এটার কারণে বলব, যে আমরা একমাত্র হাইজেনিক উপায়ে প্রোডাক্ট তৈরি করি, হাতের কোনো স্পর্শ ছাড়াই। বিদেশের বড় কিছু কোম্পানি এই পদ্ধতি অবলম্বন করে। আমাদের এটা হচ্ছে সর্বাধুনিক মেশিন, সবচেয়ে সেনসিটিভ অর্থাৎ কনভার্টিংয়ের জায়গাটায় অর্থাৎ যেখানে ফাইনাল প্রোডাক্ট হবে, সেখানে আমরা খুব সতর্ক এবং হাতের স্পর্শ ছাড়া তৈরি হয়, তাই এটা হাইজেনিক। হাইজেনিকের আরো কিছু বিষয় আছে, ফ্যাক্টরির অ্যাটমোসফেয়ার হাইজেনিকের ক্ষেত্রে এনশিওর করতে হবে। অন্যান্য কোম্পানিতে নোংরা পরিবেশে প্রোডাক্ট প্যাকেটজাত করা হয়, মানুষ সেটা জানে না। কিন্তু আমাদের এখানে গেলেই বুঝতে পারবেন কেন আমরা হাইজেনিক। টিস্যু প্রোডাক্টে যে কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়, সেসব বিভিন্ন ধরনের হয়। আমরা শতভাগ ভার্জিন পাল্প দিয়ে এটা তৈরি করি। ওয়ার্ল্ডের বেস্ট র মেটারিয়ালস আমরা ব্যবহার করি, বেস্ট কেমিক্যাল আমরা ব্যবহার করি।

আপনাদের টিস্যু কিন্তু দেখতে বাজারের অন্য টিস্যুগুলোর মতোই মনে হয়েছে...
Ñ মনে হচ্ছে একরকম, আপনি যখন ব্যবহার করবেন তখন পার্থক্যটা বুঝতে পারবেন। শুধু ফেসিয়াল টিস্যুর ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য তা নয়, যদি আপনি ন্যাপকিনে আসেন, টয়লেট টিসুতে আসেন, আপনি পার্থক্যটা বুঝতে পারবেন। বাংলাদেশে যে ২০টি কোম্পানি টয়লেট টিস্যু বাজারজাত করে, তাদের দুই ধরনের প্রোডাক্ট বাজারে রয়েছে, একটা হচ্ছে কালার টিস্যু, অন্যটা হোয়াইট টিস্যু। হোয়াইট টিস্যু যারা বানায় তারা ৫০% রিসাইকেল পেপার ইউজ করে, বা ৪০% রিসাইকেল পেপার ইউজ করে। আর কালার টিস্যুর ক্ষেত্রে ১০০% রিসাইকেল পেপার ব্যবহার করে তারা প্রোডাক্ট বাজারে ছাড়ে। রিসাইকেল মানে হলো, একদম ময়লা নোংরা কাগজ, এটাকে বোল্ড করে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে কালারিং করে মার্কেট করে। কিন্তু আমরা সেটা করি না। কালার টিস্যু আমাদেরও আছে, এখানে শতভাগ পাল্প পেপার ইউজ করা হয়। সুতরাং আমাদের প্রাইজটা অনেক বেশি হওয়া উচিত, কারণ তাদের চেয়ে আমাদের কস্টিং প্রাইজ অনেক বেশি। তারপরও ভোক্তারা যেন সুলভ মূল্যে পায়, এটা মাথায় রেখে অন্যরা যে মূল্যে প্রোডাক্ট বাজারজাত করে আমরা সেই দামেই আমাদের প্রোডাক্ট বাজারে ছেড়েছি।

টিস্যু রফতানির ক্ষেত্রে কি আপনাদের কোনো ভাবনা আছে?
Ñ মজার বিষয় হলো আমরা টিস্যু বাজারজাত শুরু করেছি মাত্র এক মাস হলো (জুলাই মাস থেকে)। এখনো আমাদের সব প্রোডাক্ট বাজারে আসেনি। তার মধ্যে বিদেশী কিছু বায়ার আমাদের এখানে এসেছে পরিদর্শন করে গেছে এবং আমাদের প্রোডাক্টের প্রতি তারা সন্তুষ্ট। এরই মধ্যে নেপালে আমাদের প্রোডাক্ট রফতানি শুরু হয়েছে, এই উপমহাদেশে ভুটান, শ্রীলঙ্কা এমনকি ভারত থেকেও আমাদের প্রোডাক্ট নেয়ার জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকেই ভারতে আমরা প্রোডাক্ট পাঠাতে শুরু করব। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে আমরা প্রোডাক্ট পাঠাবো।

আপনাদের উৎপাদনক্ষমতা কী রকম?
Ñ প্রতি মাসে আমরা টিস্যু প্রোডাক্ট উৎপাদন করতে পারি ২ হাজার মেট্রিক টন। টিস্যুর যত ধরনের প্রোডাক্ট আছে সবই আমাদের থাকবে। এমনিতে যে ধরনের প্রোডাক্ট পাওয়া যায়, তার বাইরেও আমাদের নতুন কিছু প্রোডাক্ট আছে, ভোক্তাদের সুবিধার্থে আমরা সেটা দেবো। গতানুগতিক দু’টি জিনিস টিস্যুর ক্ষেত্রে হয়, একটা হলো পারফিউম অন্যটা নন পারফিউম। ...বাংলাদেশে যারা পারফিউম টিস্যু তৈরি করে, তারা লোকাল থেকে পারফিউম কিনে ¯েপ্র করে বাজারে টিস্যু ছাড়ে, নাকের কাছে গেলে মনে হয় ভালোই। অথচ এটা মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, এটা বিবেচনায় এনে আমরা যেটা করছি তা হলোÑ বাজার থেকে তিনটি পারফিউম সিলেক্ট করেছি। যেগুলোতে কোনো ধরনের শরীরে ক্ষতিকারক জিনিস নেই। সিলেক্টেট তিনটা পারফিউম বাজারজাত করে আমরা এটা তৈরি করছি। ইউরোপিয়ান কোনো দেশে পারফিউম টিস্যু ব্যবহার করে না, সবাই হোয়াইট টিস্যু ব্যবহার করে। আমাদের উপমহাদেশে ভারত-পাকিস্তানে কিছু ব্যবহার হয়, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানে কিছু ব্যবহার হয়। আমাদের ব্যবহৃত পারফিউমে মানদেহের ক্ষতিকারক কোনো কিছু থাকবে না।

তার মানে এটার মধ্যে কোনো সুগন্ধ থাকবে না।
Ñ সুগন্ধ থাকবে, তবে এর গুণগত মান ভালো হওয়ায় মানব দেহের কোনো ক্ষতি হবে না। আপনি দেখবেন ভালো ব্র্যান্ডের বডি ¯েপ্র সরাসরি শরীরে ব্যবহার করতে পারবেন। কোনো খারপ পারফিউম আপনি সরাসরি শরীরে ব্যবহার করতে পারবেন না কারণ এতে র্যাশ ওঠাসহ নানান ধরনের সমস্যা হতে পারে। কিন্তু টিস্যুর পারফিউম আরো সেনসেটিভ, এটা দিয়ে মুখ মোছে নাক মোছে। ন্যাপকিনের পারফিউম কী করে? খাওয়ার পর মুখ মোছে, এর মাধ্যমে পারফিউম মুখ দিয়ে শরীরের ভেতরেও প্রবেশ করে। এই জায়গাটায় আমরা বলব, আমাদের পারফিউম খেয়ে ফেললেও শরীরের কোনো ক্ষতি হবে না। আমরা যে তিনটি পারফিউম ইউজ করব, সেগুলো বাংলাদেশের কোথাও নেই। এর মধ্যে রয়েছে। ফেসিয়াল টিস্যুর ক্ষেত্রে আমরা ব্যবহার করব ‘মিক্সড বেরি’। ন্যাপকিনে আমরা ব্যবহার করব ‘ফ্রেশ অ্যান্ড ক্লিন’। ওয়ালেট আর পকেট টিস্যুতে ব্যবহার করব ‘স্পার্কিং অ্যাপেল’। এই পারফিউমগুলো জুসসহ খাদ্যসমগ্রীতে ব্যবহার হয়। অরেঞ্জ ফ্লেবার, ম্যাঙ্গো ফ্লেবার...এগুলোর ক্ষেত্রে সরাসরি পারফিউম ব্যবহার করা হয়।
এই তিনটি পারফিউম আমরা সরাসরি ইমপোর্ট করে ব্যবহার করব। আমরা টিস্যুর ক্ষেত্রে কী ব্যবহার করি এটা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে দেবো। কারণ, সত্য চিরদিনই সত্য... মিথ্যা চিরদিনই মিথ্যা...বাংলাদেশে সাবান কোম্পানি বেশ হুলস্থুল সৃষ্টি করেছিল। একটা বহুজাতিক কোম্পানি পর্যন্ত ভয় পেয়ে গিয়েছিল... কিন্তু এখন কি সেই সাবান কোম্পানি বাংলাদেশে আছে? আমরা টিস্যু প্রোডাক্ট নিয়ে বাজারে আসছি শতভাগ কোয়ালিটি ঠিক রেখে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে। এটা আমার কথা, আমার চেয়ারম্যানের কথা, বোর্ড অব ডিরেক্টরসের কথা। তারা কোনো অবস্থাতেই কোনো খারাপ প্রোডাক্ট মার্কেটে দিতে চান না। এনভায়রনমেন্ট, র ম্যাটারিয়ালস এবং টেকনোলজি মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের পূর্বশর্ত। বাংলাদেশের বড় একটি কোম্পানি ৩০০ লেবার দিয়ে টিস্যু প্যাকেট করে। আমাদের এখানে এই কাজটিই করবে মাত্র ছয়জন লোক। এটা কিন্তু সম্ভব হয়েছে উন্নত টেকনোলজির কারণে। আমাদের ইনভেস্টমেন্টও অনেক বেশি।

বড় ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে যখন কোনো কোম্পানি বাজারে আসে লক্ষ্য থাকে শীর্ষে যাওয়ার। আপনারা কি মনে করেন সেখানে যেতে পারবেন?
Ñ না যাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। একটা কারণও নেই। আমরা যে নাম্বার ওয়ান ব্র্যান্ডে যাবো না এটার কারণও নেই। এটা প্রোডাক্ট নাম্বার ওয়ান ব্র্যান্ড হওয়ার প্রথম শর্ত হলো, কোয়ালিটি, তারপর আসে রিজন্যাবল প্রাইস। প্রোডাক্টের কোয়ালিটির ক্ষেত্রে আমরা কম্প্রোমাইজ করব না। অন্যরা যে প্রাইসে দিচ্ছে আমরা সেম প্রাইসে প্রোডাক্ট দেবো। অথচ আমাদের পণ্যের মান অন্য যে-কারো থেকে ভালো। এ ছাড়া আমরা যারা ইউজার তাদেরকে কিছু সুযোগ-সুবিধা দেবো।

সেটা কী রকম?
Ñ সেটি আমি এখন বলব না। তবে বাংলাদেশে স্বাধীনতাযুদ্ধের পর ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে কেউ যেটা করেনি আমরা সেটা করব। এর সাথে সোশ্যাল কিছু কর্মকা আমরা করব। শুধু যে প্রোডাক্ট বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করব সেটি নয়। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা এটি করব। আমাদের একটি ডায়লগ এ রকম হতে পারে, ‘ফ্রেশ টিস্যু ফ্রেশ থাক সব কিছু’। হয়তো ভেতরটা ফ্রেশ করতে পারব না কিন্তু বাইরের সব ফ্রেশ করব। কিছু সাদা মনের মানুষকে আমরা হাইলাইট করার চেষ্টা করব, কালো মনের মানুষ খারাপ মনের মানুষদের ভালো করার চেষ্টা করব। আমরা প্রথমে একটা বা দুইটা রাস্তা সিলেক্ট করব যেটার নাম দেবো ফ্রেশ রোড/ফ্রেশ টিস্যুর রোড। এই রোডটা ক্লিন করার দায়িত্ব আমরা নেবো, কোনো ময়লা থাকবে না, কোনো যানজট থাকবে না, কোনো মাস্তান থাকবে না, ছিনতাইকারী থাকবে নাÑ এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।

আপনি ফ্রেশের সাথে কত দিন?
Ñ আমি দেড় বছর আছি ফ্রেশের সাথে। আমার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে ১৯৮৪ সালে। বাংলাদেশে টিস্যুর প্রথম প্রোডাকশন এবং টিস্যুর যাত্রা আমার হাত ধরেই। এই কনসেপ্টের সাথে আমি প্রথম দিন থেকেই জড়িত ছিলাম। ১৯৮৮ সালে আমি যখন কল্লোলে ছিলাম, তখন টিস্যু বাজারজাত করার চিন্তা প্রথম শুরু হয়েছিল। ২০০০ সালে যখন বসুন্ধরা গ্রুপ টিস্যু মেনুফ্যাকচারিংয়ের মাধ্যমে বাজারে আসে, সেটাও আমার হাত ধরেই। বসুন্ধরা গ্রুপ থেকে ২০১৬ সালের প্রথম দিকে ফ্রেশের সাথে যুক্ত হয়েছি।

বাংলাদেশে টিস্যু বাজারজাতের শুরু থেকেই আপনি আছেন, তখন আর এখন টিস্যুর বাজারের পার্থক্যটা কী মনে হয় আপনার?
Ñ পরিবর্তন অনেক হয়েছে। আমাদের দেশ অনুন্নত কিন্তু মানুষের রুচিবোধ অনেক উন্নত। আমাদের পাশের অনেক বড় দেশেও আমাদের মতো করে মানুষের রুচির উন্নতি হয়নি, এবং স্যানিটেশন খাতে এত খরচ করতে চায় না বা এই বিষয়টি আমাদের মতো করে বোঝে না। তার পরেও অনেক গ্যাপ আমাদের রয়েছে। সেখানে যদি আমরা নক করতে পারি। সিম্পল একটা উদাহরণ, একটা টয়লেট টিস্যুর দাম ২০ টাকারও কম। একটা টয়লেট টিস্যু দিয়ে একজন মানুষ সারা মাস ব্যবহার করতে পারেন। অর্থাৎ ২০ টাকার বিনিময়ে পরিচ্ছন্ন থাকা যায়। অথচ এটি অনেকেই করে না। ১৮ কোটি মানুষের (সরকার বলে ১৬ কোটি মানুষ) মধ্যে ২০ শতাংশ মানুষও টিস্যু ব্যবহার করে না। অর্থাৎ ৮০ শতাংশ মানুষ এখনো এদিকে নজরই দেয় না। ওখান থেকে যদি ৫০ শতাংশ মানুষ আমরা নিয়ে আসতে পারি তবে আমাদের মতো আরো তিনটা কোম্পানি এ দেশে লাগবে। এবং সেটা মাথায় রেখেই আমরা এখন যে দুই হাজার মেট্রিক টন টিস্যু উৎপাদন করি, তা বাড়ানোর জন্য আরো তিন হাজার টন উৎপাদনক্ষমতার মেশিন নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। ইউরোপের একজন মানুষ মাসে দুই থেকে আড়াই কেজি টিস্যু ব্যবহার করে। অর্থাৎ ১০টা টয়লেট টিস্যু এবং পাঁচটা ফেসিয়াল টিস্যু ব্যবহার করে প্রতি মাসে একজন। অথচ আমাদের দেশে গড়ে ১০০ গ্রামও আসে না।

ছাত্রজীবন থেকেই কি আপনার ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় এ ধরনের চাকরি ছিল?
Ñ দেখেন, এখন সেলসম্যান কেউই হতে চায় না। সবাই চায় ডাক্তার হতে, ইঞ্জিনিয়ার হতে বা বড় ব্যাংক কর্মকর্তা হতে। সেলসম্যান হওয়ার পরিকল্পনা কারোই থাকে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি একটা জরিপ চালানো হয়, এক শ’ জনকে জিজ্ঞেস করলে ১০০ জনই অন্য ক্যারিয়ারের কথা বলবে, কেউ বলবে না আমি সেলসে কাজ করতে চাই বা সেলসে ক্যারিয়ার গড়ব। অথচ বিশাল জনগোষ্ঠী এর সাথে ইনভলব আছে। আমি কিন্তু কোনো দিনও চিন্তা করিনি সেলসে চাকরি করব। কিন্তু যখন আমি শুরু করেছি তখন ডিটারমাইন্ড ছিলাম সেলসেই আমার ক্যারিয়ার গড়ব। আমার সরকারি চাকরি হয়েছে, ব্যাংকে চাকরি হয়েছে, আমি কোথাও জয়েন্ট করিনি।

সেলসের প্রতি আপনার টানটা কিভাবে
হয়েছে?
Ñ এখানে আনলিমিটেড ক্যারিয়ার গড়ার একটা সুযোগ আছে। বাংলাদেশে অনেক কোম্পানি আছে যারা একদম ছোট থেকে শুরু করেছে। তারা আজ অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে। এই একটি ডিপার্টমেন্ট যেখানে আনলিমিডেট ক্যারিয়ার আছে, অন্য কোথাও এটি নেই। সেলসে যারা কাজ করেন তারা অ্যাক্সসেপশনাল, এদের আলাদা জীবন, এরা বিভিন্ন লোকের সাথে মিশতে পারে। ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, ডিরেক্ট কনজিউমার ডিল করে, সারা বাংলাদেশ তারা ঘোরে। আমার জায়গায় আমার থেকে অনেক বড় সেক্টরে অনেকে কাজ করেন কিন্তু বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় ৪০০ থানা ঘুরে আসছে কয়টা লোক পাবেন আপনি? অথচ আমার তো মনে হয় বাংলাদেশের এমন কোনো থানা নেই যেখানে আমি যাইনি। এই যে মানুষের সাথে মেশার একটা সুযোগ, এ থেকে অনেক কিছু শেখা যায়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫