ঢাকা, মঙ্গলবার,২১ নভেম্বর ২০১৭

বিবিধ

৮ দিনে হজযাত্রী পাঠাতে হবে ৪৬ হাজার

টিকিট থাকলেও বিমানে উঠতে পারবেন না যাত্রীরা

খালিদ সাইফুল্লাহ

২০ আগস্ট ২০১৭,রবিবার, ০১:২৬


প্রিন্ট
টিকিট থাকলেও বিমানে উঠতে পারবেন না যাত্রীরা

টিকিট থাকলেও বিমানে উঠতে পারবেন না যাত্রীরা

হজযাত্রী সঙ্কটে বাংলাদেশ বিমানের আরো একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। গতকাল শনিবার এই ফ্লাইটেপ ৪১৯ জন হজযাত্রী যাওয়ার কথা ছিল। হজ এজেন্সির সাথে বিমানের সময়সূচি না মেলায় এভাবে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। তবে আজ রোববার থেকে উল্টো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন হজ সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, আজ থেকে ভিসা-টিকিট নিয়ে হজযাত্রীরা দাঁড়িয়ে থাকলেও বিমানে উঠতে পারবেন না। কারণ হজ ফ্লাইটের আর মাত্র আট দিন সময় থাকলেও এখনো সাড়ে ৪৬ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরব যেতে পারেননি, যাদের প্রায় সবারই ভিসা হয়ে গেছে। হজ এজেন্সিগুলো খরচ বাঁচাতে শেষ দিকে যাত্রী পাঠানোর কারণে আগামী কয়েক দিন ফ্লাইট নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। এমনকি চার-পাঁচ হাজার হজযাত্রী সৌদি যেতে পারবেন না বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পরিবহন শুরু হয় গত ২৪ জুলাই। এ বছর মোট হজযাত্রী এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। বিমানের হিসাবে, এ পর্যন্ত ৮০ হাজার ৬৬৪ হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশে ৩৯ হাজার ৮১ জন ও সৌদি এয়ারলাইন্সে ৪১ হাজার ৫৮৩ জন। বিমান আগামী ২৬ আগস্ট পর্যন্ত এবং সৌদি এয়ারলাইন্স আগামী ২৭ আগস্ট পর্যন্ত হজযাত্রী পরিবহন করবে। ফলে আর মাত্র সাত-আট দিন বাকি আছে। এ সময়ে ৪৬ হাজার ৫৩৪ জন হজযাত্রীকে পরিবহন করতে হবে দু’টি ক্যারিয়ারকে।

এতে প্রতিদিন পরিবহন করতে হবে প্রায় ছয় হাজার যাত্রী, যা বেশ কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকি টিকিট থাকার পরও চার-পাঁচ হাজার হজযাত্রী যেতে পারবেন না বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ নয়া দিগন্তকে বলেন, বিমানের আগামী ২৬ আগস্ট পর্যন্ত হজযাত্রী পরিবহনের সময় ধার্য আছে। কিন্তু যেসংখ্যক যাত্রী অবশিষ্ট আছে তাতে আজ থেকে কোনো ফ্লাইট বাতিল না হলেও এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ বিমান এক হাজার ৭০০ যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। এ জন্য ২৮ আগস্ট পর্যন্ত সময় বাড়ানো প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। শাকিল মেরাজ ফ্লাইট বাতিল হওয়ার জন্য হজ এজেন্সিগুলোকে দায়ী করেন।

তিনি বলেন, আমরা বিমান নিয়ে প্রস্তুত থাকলেও এজেন্সিগুলো হজযাত্রী পাঠাচ্ছে না। এ কারণে বিমানের ২৪টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। সৌদি এয়ারলাইন্সেরও চারটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া আরো বেশ কিছু ফ্লাইটের সময়সূচি পেছানো হয়েছে। এতে বিমানের বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। 

তবে হজ এজেন্সি মালিকেরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা জানান, এ বছর হজ কার্যক্রমে অনেক বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে। এ কারণে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সমস্যা হচ্ছে। বেসরকারি এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাবের অর্থসচিব মাওলানা ফজলুর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, এ বছর মোয়াল্লেম ফি নিয়ে ৯১টি এজেন্সির সমস্যা হয়। তাদের চুক্তি করতে দেরি হয়েছে। চুক্তি শেষে তারা দেশে ফিরে টিকিট কাটাসহ অন্যান্য কাজ করতে দেরি হয়েছে। এ কারণে তারা হজযাত্রীও দেরিতে পাঠাতে চাচ্ছে।

তিনি বলেন, হজ এজেন্সি মালিকদের সাথে বিমানের সময়সূচির মিল না থাকায় ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। তবে আজ থেকে হজযাত্রীদের চাপ বাড়বে বলে তিনি জানান। ফজলুর রহমান আরো বলেন, আমরা বিমানকে বলেছিলাম অন্য কেরিয়ারকে সংযুক্ত করতে। তাহলে আর সমস্যা থাকত না। 

হাবের মহাসচিব শাহাদাত হোসাইন তসলিম নয়া দিগন্তকে বলেন, ফ্লাইট বাতিলের কারণে আমরা ২৫টি অতিরিক্ত স্লট চেয়েছিলাম। কিন্তু ২১টি দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্য রুটের ফ্লাইট বাতিল করে হজযাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। আশা করছি সমস্যা হবে না। 

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আব্দুল জলিল নয়া দিগন্তকে বলেন, গতকাল পর্যন্ত এক লাখ ২৭ হাজার ১৫৬ জনের ভিসা হয়েছে। আর মাত্র ৪২ জনের ভিসা বাকি আছে। তবে আজকের মধ্যে বাকিরা আবেদন করলে হয়ে যাবে। তিনি বলেন, বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্স জানিয়েছে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। আশা করছি, সমস্যা হবে না। তবে কেউ যদি ইচ্ছা করে না যায় সেটা ভিন্ন কথা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫