ঢাকা, মঙ্গলবার,২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

নগর মহানগর

খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল

ঈর্ষান্বিত হয়েই শহীদ জিয়ার বিরুদ্ধে বিষোদগার : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ আগস্ট ২০১৭,শুক্রবার, ০০:১৩


প্রিন্ট

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ঈর্ষান্বিত হয়েই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের ঘটনায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে সম্পৃক্ত করছেন এবং বিষোদগার করছেন। জাতীয় শোক দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী গতকাল এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বুধবার উনি মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডে জড়াতে চেয়েছেন অনেকের নাম, অনেকের কথা উনি বলার চেষ্টা করেছেন। শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে তিনি জানতে চান এ ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের নাম আপনি বারবার টেনে নিয়ে আনেন কেন? আপনি কি ভুলে গেছেন তখন সেনাবাহিনীর প্রধান জিয়াউর রহমান ছিলেন না। তিনি দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন, তার করার কী আছে? সেনাপ্রধানের কথার বাইরে উনি কী করতে পারেন। রিজভী বলেন, আজকে আওয়ামী লীগের চেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপি, তার প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সেই ঈর্ষার কারণে বারবার আপনার বাবার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিয়াউর রহমানের কথা আপনি বলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আজিজুল বারী হেলাল, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, মো: আব্দুল আউয়াল খান, সেলিমুজ্জামান সেলিম, আমিনুল ইসলামসহ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ। পরে বাদ জোহর শ্রমিক দলের উদ্যোগে আরো একটি মিলাদ মাহফিল হয়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, শফিউল্লাহ যিনি ওই দিন রাষ্ট্রপতিকে বলেছেন, প্রাচীর টপকিয়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য। কী বীর পুরুষ শফিউল্লাহ সাহেব? একজন কাপুরুষ কমান্ডার সে দিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন। তাকে পরে আপনি ডেকে নিয়ে এসে এমপি বানিয়েছেন। কই আপনি তো তার কথা একবারও বলেননি। আপনার বাবার হত্যাকারীরা আপনার দলের মধ্যে লুকিয়ে আছে। আপনার বাবার হত্যাকাণ্ডের পর যে মালেক উকিল লন্ডনের গিয়ে বলেছিলেন, ফেরাউনের পতন হয়েছে, তাকে তো আপনি দলের নেতা বানিয়েছিলেন। সিলেটের ফরিদ গাজী, টাঙ্গাইলের আবদুল মান্নান যারা খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রিসভায় ছিলেন, তারা তো আপনার অধীনে এমপি হয়েছিলেন। তারাই তো ঘাতক, তাদের কথা আপনি বলেন না কেন? কারণ তারা আপনার নেতৃত্ব মানে। এখন যদি কবর থেকে খন্দকার মোশতাক উঠে এসে বলে শেখ হাসিনা আপনার নেতৃত্ব মানি, তাহলে আপনি সেটাকে মেনে নেবেন। কারণ এটাই হচ্ছে আপনার বৈশিষ্ট্য।
তিনি বলেন, আপনি কিভাবে এইচ টি ইমামকে আপনার উপদেষ্টা বানিয়েছেন? আপনার বাবার লাশ ডিঙিয়ে কিভাবে খোন্দকার মোশতাকের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছিলেনÑ আপনি তার কথা বলেননি, আপনি বলেননি যেসব এমপি পরে খন্দকার মোশতাকের পার্লামেন্টে গিয়েছিলেন তাদের কথা। প্রকৃত হত্যাকারী যারা তাদের বিষয়ে আপনার কোনো ােভ নেই। ােভ শুধু জিয়াউর রহমানের ওপর।
প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বক্তব্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, আজকে মাননীয় প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ওই হত্যাকাণ্ডের সাথে রাঘব বোয়ালরা জড়িত। যে দুর্বল তদন্তের কারণে তাদের ধরা যায়নি। এই রাঘব বোয়াল কে? তারা এখনো আপনার ডানে আছে, আপনার বামে আছে প্রধানমন্ত্রী। তারা আপনাদের সাথে আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! আপনি তাদের ধরবেন না। আপনার যারা মোসাহেবি করেন, তাদের আপনি কিছু বলবেন না। যারা আপনার বিরোধিতা করে তারাই আপনার টার্গেট।
রিজভী বলেন, একাত্তরে দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা যার দেয়ার কথা ছিল, তিনি দিতে পারেননি বলেই তো জিয়াউর রহমানের মতো একজন সামরিক কর্মকর্তা স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে যুদ্ধের দিকে নিয়ে গেছেন। আর এটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের অনুশোচনার কারণ। কেননা তাদের নেতা স্বাধীনতা ঘোষণা দিতে পারেননি। এ সময় আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হকের কঠোর সমালোচনা করেন রিজভী।
শ্রমিক দলের দোয়া মাহফিল : এ দিকে গতকাল জোহর নামাজের পর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। আরো অংশ নেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, মীর সরফত আলী সপু, শ্রমিক দল সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক মো: নূরুল ইসলাম খান নাসিম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শ্রমিক দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু। বেগম জিয়ার সুস্থতা কামনায় মুনাজাত পরিচালনা করেন ওলামা দলের সভাপতি এম এ মালেক।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫