ঢাকা, মঙ্গলবার,১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বিবিধ

ঢাকার চারদিকের নদীগুলো বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে

হামিম উল কবির

১৭ আগস্ট ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ২১:১৬


প্রিন্ট
পদ্নার পানি বাড়ায় মানিকগঞ্জের ঘিওরে বসতবাড়ি তলিয়ে যাচ্ছে।

পদ্নার পানি বাড়ায় মানিকগঞ্জের ঘিওরে বসতবাড়ি তলিয়ে যাচ্ছে।

পানি বাড়ছে দেশের মধ্যাঞ্চলে। রাজধানী ঢাকার আশে-পাশের নদীগুলোতে পানি বিপদসীমা এখনো অতিক্রম না করলেও বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।

পানি নামছে উত্তরাঞ্চল থেকে, বাড়ছে মধ্যাঞ্চলে। মধ্যাঞ্চলের কিছু এলাকায় ইতোমধ্যেই পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। সামনের কয়েক দিনে মধ্যাঞ্চলের পানি আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলারা।

মূলত: ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার পানি নিচে এসে পড়ে পদ্মায়। পদ্মার পানি বাড়লে মধ্যাঞ্চলে বিশেষ করে বৃহত্তর ফরিদপুর ও ঢাকায় পানি বাড়তে থাকে।

অপরদিকে উত্তরাঞ্চলের পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে এসব এলাকার নদীর পানি এখনো বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের সম্পূর্ণ পানি নেমে এলে ঢাকা অথবা ঢাকার আশে-পাশে বন্যার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি আজ বৃহস্পতিবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে ব্রহ্মপুত্র, সুরমা, কুশিয়ারা নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে। দ্রুত কমছে ব্রহ্মপুত্রের পানি। এখন থেকে আরো তিন দিন ব্রহ্মপুত্রের পানি হ্রাস পাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।

যমুনার নদীর পানি আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও কাল শুক্রবার থেকে হ্রাস পাওয়া শুরু করতে পারে।
তবে অপর বৃহৎ নদী পদ্মার উপরের দিকে পানি বৃদ্ধির প্রবণতা রয়েছে। বাংলাদেশে এ নদীটির পানি আরো কমপক্ষে তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। সিলেট বিভাগের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে পানি আরে ২৪ ঘণ্টা হ্রাস পেতে পারে।

ঢাকার আশে-পাশে নদীগুলো ভরে গেছে। যদিও এখনো বিপদসীমা অতিক্রম করতে আরো সময় লাগবে। কিন্তু এসব নদীর সাথে যুক্ত খাল ও বিলগুলোতে পানি ঢুকে পড়েছে। এছাড়া ঢাকা আশে-পাশের নিচু এলাকায় পানি উঠে গেছে। উত্তরাঞ্চল থেকে আরো দ্রুত পানি নেমে এলে এখানকার নদীগুলো উপচে পানি বাড়তে পারে।

যমুনার পানির সবটাই পদ্মায় পড়লে ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ এলাকার বিস্তির্ণ এলাকায় পানি উঠে যেতে পারে। এ জেলাগুলো পদ্মা নদীর সাথে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষাভাবে সংযুক্ত।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আজ সারাদেশে ২৮ স্থানের নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলেই ১৭ স্থানের নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা এবং এর আশে-পাশের জেলারগুলোর মধ্যে মুন্সিগঞ্জের ভাগ্যকূল এবং মানিকগঞ্জের আরিচার ছাড়া এখন পর্যন্ত অন্য কোনো এলাকার নদী বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। ঢাকার চারদিকে রয়েছে বুড়িগঙ্গা, টঙ্গীখাল, বালু নদী, ধলেশ্বরী নদী।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলেছে, আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে মুন্সিগঞ্জে ধলেশ্বরী ৬৯ সেন্টিমিটার, লাকপুরে লক্ষ্মা ৯১ সেন্টিমিটার, এলাসিনঘাটে ধলেশ্বরী ৫৯ সেন্টিমিটার, হরিহরপাড়ায় বুড়িগঙ্গা ১১ সেন্টিমিটার, তারাঘাটে কালিগঙ্গা ৩৭ সেন্টিমিটার, কলাগাছিয়ায় ধলেশ্বরী ৯৭ সেন্টিমিটার, জাগিরে পুরাতন ধলেশ্বরী বিপদ সীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে।

আজ বিকেল পর্যন্ত কুড়িগ্রামে ধরলা, বদরগঞ্জে যমুনেশ্বরী, গাইবান্ধায় ঘাগট, চক রহিমপুরে করতোয়া, চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র, বাহাদুরাবাদ, সারিয়াকান্দি, কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ ও আরিচায় যমুনা নদী, গুড় নদী সিংড়ায়, বাঘাবাড়িতে আত্রাই, এলাসিনে ধলেশ্বরী, লাখপুরে লক্ষ্মা, নওগায় ছোট যমুনা, মহাদেবপুরে আত্রাই, গোয়ালন্দে ও ভাগ্যকূলে পদ্মা, ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ, কানাইঘাট, সিলেট ও সুনামগঞ্জে সুরমা, অমলশীদ, শেওলায় ও সিলেট-শেরপুর এলাকায় কুশিয়ারা, দিরাইয়ে পুরাতন সুরমা, জারিয়াজাঞ্জাইলে কংস এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া তিতাস নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এসব নদীর পানি কোনো কোনো জায়গায় দুই সেন্টিমিটার আবার কোনো কোনো জায়গায় ১৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিশেষ করে যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, ধলেশ্বরীর, ধরলা, কংস ৫০ থেকে ১৫৪ সেন্টিমিটার পর্যন্তর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫