ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপস (ফাইল ফটো)
ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপস (ফাইল ফটো)

ষোড়শ সংশোধনীর রায় পেনড্রাইভ জাজমেন্ট : তাপস

নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সরকার সমর্থক আইনজীবীদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপস এমপি বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে যে উক্তিগুলো দেয়া হয়েছে, আমি বলতে চাই এটা হলো পেনড্রাইভ জাজমেন্ট। কোথা থেকে, কোন পেনড্রাইভ থেকে, কোন ল্যাপটপ থেকে এই রায়ের উৎপত্তি হয়েছে সেটা আমাদের জানা আছে। এই ষড়যন্ত্রের মুখোশ আমরা অচিরেই জনগণের কাছে উন্মোচন করবো।

আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের শামসুল হক চৌধুরী মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তিনি একথা বলেন।

সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সংগঠনের যুগ্মআহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সমিতির সাবেক সম্পাদক মমতাজউদ্দিন আহমেদ মেহেদী, বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ওজি উল্লাহ, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী, অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম প্রমুখ।

শেখ ফজলে নুর তাপস বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের একটি জায়গায় যে উক্তি করা হয়েছে তার একটি বক্তব্য আপনাদের সামনে তুলে ধরি। তাতে সংসদকে বলা হয়েছে, সংসদ নাকি ম্যাচিউরড না। আমি এ কথার নিন্দা জানাই। উদাহরণ দিয়ে বলবো ওনারা (বিচারপতিরা) কেমন ম্যাচিউরড। তিন বছরেও একজন তার রায়ের কপি হাতে পায় নাই। এটা হলো তাদের ম্যাচিউরিটি। তাহলে একজন ভুক্তভোগী তার রায় পাওয়ার জন্য কি সুপ্রিম কোর্টের দুয়ারে ঘুরে বেড়াবে? এই হলো তাদের ম্যাচিরিটি।’

তিনি বলেন, ‘তারা ম্যাচিউরিটির কথা বলে। অথচ বিভিন্ন ক্লাবে সন্ধ্যার পর গেলে দেখা যায় আমাদের এই জাজেরা তাদের বিভিন্ন কার্যকলাপে লিপ্ত। আমরা এর নিন্দা জানাই। এবং লজ্জার বিষয় হলো এজলাসে না বসে তারা ঢাকা ক্লাবে ঘুরে বেড়ায়। আরো কি করে সেটা আমি এখানে প্রকাশ করতে চাই না। জনগণ সেটা জানে। সুতরাং এই হলো তাদের ম্যাচিউরিটি।’

তিনি বলেন, সময় থাকতে আপনাদের যদি সম্মানবোধ থাকে তাহলে অবিলম্বে এই রায়ের অপ্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো অপসারণ করবেন এবং এই রায় বাতিল করবেন।

ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে বলেন, এই রায়ে ৪০০ পাতার যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন তা আমরা মেনে নিতে পারি না। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যে কটূক্তি করেছেন পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালবাসা দেখিয়ে সেটা পূরণ করা যাবে না।

তিনি বলেন, পর্যবেক্ষণে বঙ্গবন্ধু, ১১৬ অনুচ্ছেদ, সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে যেসব বক্তব্য দেয়া হয়েছে অবিলম্বে তা এক্সপাঞ্জ করতে হবে।

সাহারা খাতুন বলেন, এই রায়ে বঙ্গবন্ধুকে যেভাবে কটূক্তি করা হয়েছে সেটি বাংলার মানুষ কোনোদিন মেনে নেবে না। বঙ্গবন্ধু এককভাবেই স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তা তার সম্পর্কে কটূক্তি করা হলে আমরা আইনজীবীরা তা সহ্য করতে পারি না।

আবদুল বাসেত মজুমদার বলেন, এই রায়ে যত বক্তব্য এসেছে এই সব কথা রাজনৈতিক। এই রায়ে আইন থেকে রাজনৈতিক কথা বেশি বলা হয়েছে। রায়ে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি।

আপিল বিভাগের বিচারপতিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অনতিবিলম্বে এই রায় বাতিল করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে রায়ের মধ্যে প্রতিফলন ঘটাতে হবে। না হলে আমরা আইনজীবীরা আন্দোলন গড়ে তুলবো এবং সেই আন্দোলনের দায় দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.