ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

ক্রিকেট

এ কী হাল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৭ আগস্ট ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৯:২৮


প্রিন্ট
এ কী হাল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের

এ কী হাল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের

দুই সেরা ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনের অবসরের দু’বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কঠিন সময় কাটিয়ে উঠতে পারলো না উপমহাদেশের অন্যতম ক্রিকেট দলশ্রীলঙ্কা।
২০১৫ সালে জয়াবর্ধনের কিছু দিন পরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন সাঙ্গাকারা। তাদের শূন্য স্থান পূরণ করা কঠিন হবে বলে সে সময়ই স্বীকার করেছিলেন দেশটির ক্রিকেট ভক্তরা।
তারা যেটা বুঝতে পারেনি তা হলো দুই বছরেও দলের এত খারাপ অবস্থা থাকবে। দলের সামনে এত কঠিন সময় আসবে। নতুন প্রজন্মের কেউই সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।
তারকা এ দুই খেলোয়াড়ের বিদায়ের পর থেকেই ধুকছে লঙ্কান দলটি। তবে বিশেষ বেদনা দায়ক হয়ে উঠেছে সম্প্রতি ভারতের কাছে টেস্ট সিরিজ ৩-০ হার।

ভারত সিরিজে কেবল কুশল মেন্ডিস এবং দিমুথ করুনারত্নে ব্যাট হাতে কিছুটা সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। কিন্তু টপ-অর্ডারের বেশিরভাগই সফরকারীদের বিপক্ষে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।
প্রতিবেশী দেশের কাছে ১১ দিনের ব্যবধানে তিন টেস্ট হারের পর টেস্ট অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমাল বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারে এটাই ছিলো সবচেয়ে খারাপ সিরিজ।’

গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে কাছে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ হারে শ্রীলঙ্কা। নিজ মাটিতে এমন পরাজয়ে হতাশ হয়ে টেস্ট ও ওয়ানডের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ।
গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জয়ের পর একটি পুর্নজাগরণের আভাস দিয়েছিলেন ম্যাথুজ। কিন্তু পরে সেটি ভঙ্গুর রূপ ধারণ করে।
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারের পর দেশের মাটিতে বাংলাদেশের কাছে একটি ম্যাচ হেরে দুই টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে শ্রীলংকা। এমনকি চলতি বছর ইংর‌্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপ পর্ব পেরোতেও ব্যর্থ হয় লঙ্কানরা।

ভারত সিরিজ নিয়ে শ্রীলংকা ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) কাছে রিপোর্ট চেয়েছে দেশটির ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। তবে সাবেক অধিনায়ক অরবিন্দ ডি সিলভার মতে বোর্ডের ভিশনের অভাব রয়েছে।
১৯৯৬ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার চ্যাম্পিয়ন হবার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ডি সিলভা গেল সপ্তাহে হিন্দু পত্রিকায় বলেন, ‘আমরা একটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তবে চির দিন এ প্রক্রিয়া চলবে আপনি তা বলতে পারেন না। হতে পারে সেটা কয়েক মাসের স্বল্পমেয়াদি প্রকিয়া, একটি অথবা দু’টি সিরিজ কিন্তু দীর্ঘ দিনের জন্য নয়।’

গত মে মাসে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডের কমিটি থেকে ইস্তফা দেয়া ডি সিলভা আরো বলেন, ‘সুতরাং দীর্ঘ সময়ের জন্য আমাদের দলকে তৈরী করতে হবে। ঘন ঘন পরিবর্তন বা কাট-ছাট করা যাবেনা।’
ডি সিলভার সাবেক সতীর্থ ও প্রধান নির্বাচত সনাথ জয়াসুরিয়া এমন বাজে পারফরমেন্সের জন্য ইনজুরিকেই দায়ি করছেন। তিনি বলেন, ‘খেলোযাড়রা ভাল করলে এবং ইনজুরি মুক্ত থাকলে কেন আমরা দলে পরিবর্তন করতে যাবো। গেল ১৪ মাসে কতজন খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়েছে সেটাকি আপনারা জানেন?’

ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনই হাতের ইনজুরিতে পড়ে পুরো সিরিজ থেকে ছিটকে পড়েন অলরাউন্ডার আসলে গুনারত্নে। আর দ্বিতীয় টেস্টে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে সিরিজ থেকে বাদ পড়েন পেসার নুয়ান প্রদীপ।

কিংবদন্তি খেলোয়াড় মুত্তিয়া মুরালিধরনের বিদায়ের পর শ্রীলঙ্কার স্পিন বিভাগের প্রধান ভরসা ও দলকে সর্বাত্মক সহায়তা করা বাঁ-হাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ পিঠের ইনজুরির কারণে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে খেলতে পারেননি।

সিরিজে শ্রীলঙ্কা দু’বার ফলো-অনে পড়ে এবং তিন টেস্টের কোনোটিতেই পাঁচ দিন পর্যন্ত খেলতে পারেনি।
প্রতিদ্বন্দিতা করতে না পারার ব্যাখ্যা দিয়ে জয়সুরিয়া বলেন, ‘যেমন ধরুন হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির পর থেকে বোলিং করতে পারছে না ম্যাথুজ।
‘এর আগে সে টেস্টের এক ইনিংসে কমপক্ষে ১৫ ওভার বোলিং করতেন কিন্তু এখন সে পুরো ব্যাটসম্যান হিসেবেই খেলছে। সুতরাং আপনার মূল অলরাউন্ডার বোলিং করতে না পারলে দলে সঠিক ভারসাম্য আনাটা কঠিন হয়ে পড়ে।’

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫