ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

রাজশাহী

নওগাঁয় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি

নওগাঁ সংবাদদাতা

১৭ আগস্ট ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:৪৯ | আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:৫০


প্রিন্ট
নওগাঁর বদলগাছিতে বাঁধ রক্ষার সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা।

নওগাঁর বদলগাছিতে বাঁধ রক্ষার সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা।

প্রতি ঘণ্টায় প্রায় প্রায় এক সেন্টিমিটার করে বাড়ছে নদীর পানি। উজান থেকে নেমে আসা পানিতে নওগাঁর আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার ২১৫ সেন্টিমিটার এবং ছোট যমুনা নদী নওগাঁ পয়েন্টে বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নওগাঁ সদর উপজেলার ইকরতারায় এলাকাবাসীর গত তিন ধরে চেষ্টা সত্ত্বেও আজ বৃহস্পতিবার সকালে ছোট যমুনা নদীর বাঁধের প্রায় একশ’ ফুট ভেঙে গেছে। ফলে নতুন করে ফতেপুর, বোয়ালিয়া, তিলকপুর ও পাশের আদমদিঘী উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলকা প্লাবিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় জনসাধারণ, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা চেষ্টা করছেন বাঁধটি মেরামতের।

মান্দা উপজেলায় আত্রাই নদীর দু’টি স্থানে মুল বাঁধ এবং ১০টি স্থানে বেড়ি বাঁধ ভেঙে গিয়ে নয় উপজেলার প্রায় ৪০ ইউনিয়নের কয়েকশ’ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

ছোট যমুনা নদীর ফ্লাড ওয়ালের আউটলেট দিয়ে পানি প্রবেশ করে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন এলাকা এক থেকে দেড় ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রায় ৫০ হাজার একর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। প্রায় এক হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

নওগাঁ সদর মান্দা, মহাদেবপুর, রানীনগর, আত্রাইসহ জেলার বিভিন্ন বাঁধের ৩০টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

মান্দা উপজেলায় আত্রাই নদীর বেড়ি বাঁধের কমপক্ষে আটটি স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে বুড়িদহ সুজনসখি ঘাট এবং চকমারপুরের মূল বাঁধ ভেঙে গেছে। অপরদিকে পার নুরুল্যাবাদ, চকরামপুর, চকবালু, কয়লাবাড়ি ও কয়াপাড়া কলেজ মোড়ে বেড়ি বাঁধ ভেঙে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নওগাঁর নিবার্হী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার ২১৪ সেন্টিমিটার এবং ছোট যমুনা নদী নওগাঁ পয়েন্টে বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দুই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ৩০টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আতঙ্কে রয়েছে বন্যা কবলিত এলাকার লাখ লাখ মানুষ।

প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান বলেছেন, জেলায় ২০টি আশ্রয় শিবির খোলা হয়েছে। এ পর্যন্ত পাঁচ লাখ টাকা ও একশ’ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এক লাখ টাকা ও একশ’ মেট্রিক টন চাল ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫