পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে শরীয়তপুরে নদী ভাঙ্গনে অর্ধশতাধিক পরিবার গৃহহীন

শরীয়তপুর সংবাদদাতা

পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে শরীয়তপুরের সখিপুরের উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্টেশন এলাকায় চরাঞ্চলে নদী ভাঙ্গনের ফলে গৃহহীন হয়ে পড়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার। ভাঙ্গন কবলিত লোকজনগুলো নিজেদের ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র নিয়ে চরাঞ্চল বিপাকে পড়েছে। তারা কেউ পার্শ্ববর্তী উঁচু রাস্তায় ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের পদ্মার তীরবর্তী চেয়ারম্যন স্টেশন এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে প্রবল ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গত সোমবার রাত থেকে আকস্মিক ভাঙ্গনের ফলে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত চেয়ারম্যান স্টেশনের আনসার আলীর স্টেশনারী, সেলিম ভ্রারাইটিজ স্টোর, খালেক স্টোর, জয়নাল স্টোর, আবুল কালাম স্টোরসহ ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্টেশন বাজার জামে মসজিদ ও ৪০-৫০ বছরের পুরানো আলমগীর লস্কর, রফিক বেপারী, সিদ্দিক আলী বেপারী, বিল্লাল মিয়া, নুরুল ইসলাম, আবুল কালাম, জয়নাল বেপারী ও সোরহাব বেপারীর বসত বাড়ীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

প্রতিনিয়ত ভাঙ্গনের ফলে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে ভাঙ্গন কবলিতরা। ভাঙ্গন কবলিত লোকজনগুলোর জায়গা না থাকায় তারা পার্শ্ববর্তী রাস্তা ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। অশ্রুসিক্ত শোক বিরাজ করছে সেখানকার প্রতিটি ভাঙ্গনকবলিতদের মাঝে। তবে কোনো ধরনের সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে ত্রাণ বা সাহায্য-সহযোগিত পায়নি ভাঙ্গনকবলিত লোকজন।

স্থানীয় গনি মাঝি ও রশিদ বেপারী বলেন, গত সোমবার রাতে হঠাৎ করে ভাঙ্গা শুরু হয়। তখন নিজেদের ঘরবাড়ি নিয়ে কোথায় আশ্রয় নিব আমরা দিশেহারা হয়ে পড়ি। আমাদের সারা জীবনের স্মৃতি পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

নুরুল ইসলাম খান বলেন, আমার ৪০ বছর আগের বাড়ি পদ্মায় ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। এখন অন্যের জমিতে পানির মধ্যে ঘর তুলেছি। কি করবো বুঝতে পারছি না।

জয়বাহার ও মমতাজ বেগম বলেন, বাড়ি-ঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার পর রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছি।

রাবেয়া বেগম বলেন, এত ভাঙ্গার পরও আমরা কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পাই নাই। আমাদের দেখার কেউ নাই।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল আহমেদ বলেন, স্টেশন বাজারের কিছু অংশ ও কিছু ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। তালিকা পাওয়ার পর ত্রাণ দেয়া হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.