ঢাকা, বুধবার,২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

নির্বাচন

মধ্যস্ততার দায়িত্ব নেবো না, সরকারের ফর্মুলায় সংসদ নির্বাচন : সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ আগস্ট ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৯:৪২ | আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৯:৪৪


প্রিন্ট

একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতা করার দায়িত্ব নেবে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, রাজনৈতিক দলের মধ্যে মধ্যস্ততা করা ইসির কাজ নয়। ইসি সেটা করতেও চায় না। এছাড়া নির্বাচনের সময় কোনো ধরনের সরকার থাকবে, তাও ইসির দেখার বিষয় নয়। সরকারের নির্ধারিত ফর্মুলায় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সাথে আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের সংলাপের এক পর্যায়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার একথা বলেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সাথে দ্বিতীয় দিনের সংলাপ শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর পৌনে ১টায়। আজকের সংলাপে টেলিভিশন, রেডিও ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের মোট ৩২ জন প্রতিনিধির মধ্যে ২৬ জন উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, নির্বাচনের সময় কী ধরনের সরকার থাকবে, সে ব্যাপারে কমিশনের কোনো ভূমিকা নেই। সরকার যে নির্বাচন পদ্ধতি ঠিক করে দেয়, সেভাবেই আমাদের ভোট কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। একসময় হ্যাঁ বা না ভোট ছিল। সেই সময়কার কমিশন সেই ভোট করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যে পদ্ধতি ছিল তারা সেটাই করেছে। সবকিছু নির্ভর করে সরকার কোন ধরনের পরিবেশ ঠিক করে দেয়। এখন এই সরকারের অধীনে যে অবস্থা আছে সেভাবে নির্বাচন করতে হলে আমরা সেটি করবো। আর যদি সরকার পরিবর্তন করে তাহলে সেভাবে হবে। কাজেই নির্বাচনের সময় কোন ধরনের সরকার থাকবে সে ব্যাপারে আমাদের কোনো ভূমিকা থাকার কথা নয়। আমরা তা নির্ধারণ করতে পারিও না।

গতকাল বুধবার গণমাধ্যমের সাথে ইসির প্রথম দিনের সংলাপে বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতাদের আমন্ত্রিত ৩৬ জনের মধ্যে অংশ নেন ২৬ জন। এছাড়া গত ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে সংলাপে বসেছিল কমিশন। আগামী ২৪ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলের সাথে ইসির সংলাপে বসবে।

সব দলকে নির্বাচনে আনতে ‘মধ্যস্ততাকারীর’ ভূমিকা নিতে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কারো কারো সুপারিশের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমাদের কারো কাছে যাওয়ার দরকার নেই। ইসি একটি স্বাধীন সত্তা। আমরা শপথ নিয়েছি, কারো চাপে নতি স্বীকার করবো না। কারো কাছে যাবো না। এটাই যথেষ্ট।

বিগত নির্বাচনের আগে বিদেশীদের মধ্যস্ততায় প্রধান দুই দল আওয়াম লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংলাপের প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, আমরা সবাই ভুলে যাই- আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনেক মেডিয়েটর এসে আমাদের রাজনৈতিক দলের সাথে বসে সমাঝোতায় আনতে পারেনি। সেখানে আমি কেন চাইব সে রিস্ক নিতে? অযথা সময় নষ্ট করতে? এটা আমার কাজ না। ভেরি ফার্মলি- এটা আমার কাজ না।

সংলাপের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে সিইসি বলেন, এটি কমিশনের সিদ্ধান্ত। যদি পরিস্থিতি বিবেচনায় মনে করি সেনাবাহিনী দরকার আছে, তাহলে থাকবে। নির্বাচনে কে সেনা চাইলো কে চাইলো না সেটা কমিশনের বিষয় নয়।

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, বর্তমানে আমরা অনূকুল ও আস্থাশীল অবস্থানে আছি। কেউ আমাদের বিরক্ত করেনি। কমিশনে কেউ তার দাবি-দাওয়া নিয়ে আসেনি। আমরা এখনও পর্যন্ত আস্থাশীল আছি এবং থাকবো।

ভোট নিয়ে চাপের মুখে পড়া সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে খান মো নুরুল হুদা বলেন, এর সুযোগ নেই। কারো কাছে যদি আমরা আত্মসমর্পণ করি, তাহলে এটা আমাদের দুর্বলতা। কিন্তু কারো প্রতি কোনো শত্রুতা নেই। একইসাথে কারো প্রতি কোনো আর্কষণ নেই, কারো প্রতি বিকর্ষণও নেই। আমাদের আকর্ষণ-বিকর্ষণ যাই বলেন, সেটা রয়েছে নির্বাচনী আইনের প্রতি। ইসি সম্পূর্ণ স্বাধীন সত্তা।

এজন্যই আমরা আপনাদের বিরক্ত করছি। ব্যস্ততার মধ্যেও আপনাদের আমন্ত্রণ করেছি। আমরা আপনাদের সহযোগিতা ও সমর্থন চাই।

তিনি বলেন, চাপের মুখেও ‘কম্প্রোমাইজ’ না করার অঙ্গীকার যদি থাকে, তাতেই কাজ হবে। ইটস এনাফ, আর কোথাও যেতে হবে না। এবার আর কোথাও যাব না, এটা আমার অঙ্গীকার। এজন্য আপনাদের সাক্ষী রেখেই কথাগুলো বলছি।

নির্বাচনের মাঠে যে অনেক সমস্যা ও জটিলতা রয়েছে তা স্বীকার করে সিইসি বলেন, অন্যান্য দেশের তুলনায় এ সমস্যা আমাদের আরো বেশি। কারণ গণতান্ত্রিক আয়ুষ্কাল আমাদের কম। কখনও হ্যাঁ-না ভোট, কখনও নির্বাচনি সরকারের অধীনে নির্বাচন, একব্যক্তির অধীনে নির্বাচন; এ অবস্থায় চলেছি। টানা তিনটি নির্বাচন একই নিয়মে করতে পারিনি আমরা। কাজেই সমস্যা তো আমাদের আছেই।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫