ঢাকা, বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭

নির্বাচন

ইসির ক্ষমতার প্রয়োগ চান সম্পাদকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ আগস্ট ২০১৭,বুধবার, ২১:২২ | আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০১৭,বুধবার, ২১:২৬


প্রিন্ট
ইসির ক্ষমতার প্রয়োগ চান সম্পাদকরা

ইসির ক্ষমতার প্রয়োগ চান সম্পাদকরা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ক্ষমতা প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ সম্পাদকরা। সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রয়োজনে সেনা মোতায়েন করার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ, দলীয় প্রভাবমুক্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ, ভোটে যেন কোনো প্রার্থী প্রভাব বিস্তার কঠোর হাতে দমনের পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এছাড়াও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতোই নির্বাচনের যথাযথ পরিবেশ তৈরি ও ইসিকে আস্থা অর্জনের পরামর্শ দিয়েছে প্রায় সব গণমাধ্যম প্রতিনিধি।

সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসির ঘোষিত রোডম্যাপ নিয়ে নির্বাচনের কমিশনের সাথে আজ বুধবার সংলাপে তারা এ মতামত তুলে ধরেন।

সকাল সোয়া ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলে এ সংলাপ।

সংলাপ শেষে সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব অনেক বেশি। নির্বাচন কমিশনকে দৃঢ়তা দেখাতে হবে। নৈতিক অবস্থানে থাকতে হবে এবং জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে যারা মূল অংশীদার রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বড় দুটি রাজনৈতিক দলের সাথে আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, জানতে হবে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কিনা। আমরা বোঝাতে চেয়েছি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে সরকার যদি সচেতন হয়, কমিটমেন্ট থাকে, নির্বাচন কমিশন যদি সক্রিয় হয় এবং বড় দুটি রাজনৈতিক দল যদি কমিটেড হয় তবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, সেনা মোতায়েনের বিষয়ে একটা মতামত ছিল সরাসরি সেনা মোতায়েন করা উচিত। দু’একজন না করেছেন। অন্যরা যারা বলেছেন তারা বলেছেন শর্তাধীন। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সেনামোতায়েন করার কথা তারা বলেছেন। প্রবাসী ভোটারদের বিষয়ে বলা হয়েছে তাদের ভোটের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কেউ কেউ বলেছেন তাদের ভোটাধিকার থাকা উচিত।

গণমাধ্যমের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে সব প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে। প্রশ্ন এসেছে তাহলে নির্বাচন পর্যবেক্ষক কে হবে? যারা সাংবাদিক তারা সাংবাদিক তারা সাংবাদিক থাকবেন। পর্যবেক্ষক যারা সরাসরি তারা যেন কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত না হন এবং যে কোনো একটা পরিচয় নিয়ে এসে পর্যবেক্ষক না হন সেবিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যেসব কালো আইন মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে ৫৭ ধারাসহ এবং সম্প্রচার নীতিমালা সেটা বাতিল করতে হবে। যেসব মিডিয়া বন্ধ আছে সেসব মিডিয়া খুলে দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশনকে মন ঠিক করতে হবে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন চান কি না। সরকারকে ঠিক করতে হবে সুষ্ঠু নির্বাচন চান কি না। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তিনি আর প্রশ্নবিদ্ধ চান না। আমাদের বিরোধী দলকে ঠিক করতে হবে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন চান কি না। তবেই সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। সময় এখনও বাকি আছে। নির্বাচন কমিশন অনেক সক্রিয়তা দেখাচ্ছে। তবে সরকারি দল বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করে জনমনে একটা প্রভাব সৃষ্টি করতে পারছে। নির্বাচন যেন প্রভাবিত করা যায় সেবিষয়ে চেষ্টা করছে। সেটার ব্যাপারেও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। যদি সম্ভব হয় নির্বাচনের আগে থেকে শেষ পর্যন্ত হয়রানিমূলক মামলা বন্ধ রাখতে হবে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম সাংবাদিকদের বলেন, সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির বিষয়ে আমরা মতামত দিয়েছি। একই সময়ে নির্বাচন চলাকালীন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা, সিভিল প্রশাসনের ভূমিকা এবং যেকোনো প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কিভাবে সুষ্ঠু হবে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে কমিশনকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহারের ভূমিকা থাকে। নির্বাচনী ব্যায় বেঁধে দেয়া থাকে। সেবিষয়ে বলা হয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম পালনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার জন্য ইসিকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের নির্বাচন কমিশনের মতো শক্তিশালী কমিশন আমাদের নয়। তবে সাংবিধানিক ক্ষমতার দিক থেকে আমরা কোনো অংশে কম বলে মনে করি না। আমরা বলেছি আপনারা শুধু দাঁড়িয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে দেখাবেন সেটা না। প্রকৃত ক্ষমতা দেখিয়ে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবেন সেটা দরকার।

সিনিয়র সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর সাংবাদিকদের বলেন, এখন থেকেই সবার জন্যে সমান সুযোগ তৈরি করতে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ইভিএম নিয়ে সব দলের সাথে আলোচনার পর সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তিনি বিএনপির নাম উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে ওই দলটির অনেক নেতার নামে মামলা রয়েছে। ওই মামলার সূত্র ধরে নির্বাচনের সময় তাদের যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়, তার জন্য নির্বাচনকালে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের মামলার হয়রানি থেকে রেহাই দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি সেনা মোতায়েনের পক্ষে মত দেন।

মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের দুটি বিষয় ছিল গর্বের। আমরা বড়াই করে বলতাম। নির্বাচন ও গণমাধ্যম আজ দুটোই প্রশ্নবিদ্ধ। নির্বাচনের ইতিহাস হচ্ছে রক্তাক্ত। ১৯৯৪ সালে যদি মাগুরার নির্বাচন বিচারপতি এমএ রউফ বাতিল করতেন তাহলে ২০১৪ সালের নির্বাচন দেখতে হতো না।

রেফারি ভালো না হলে খেলা ভালো হয় না। খেলায় লাল কার্ড দেখানোর নিয়ম আছে ফুটবলের কিংবদন্তী ম্যারাডোনাকেও দেখেছি মাঠ থেকে লাল কার্ড দিয়ে বের করে দিতে।

সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হয়। আমরা কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপের বাসিন্দা নই যে, আমাদের এখানে সেনা মোতায়েন করা যাবে না।

বিএফইউজে’র একাংশের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, একটা বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে যে নির্বাচন একটা রাজনৈতিক উৎসব। কাজেই রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটা ভাল নির্বাচন করতে হবে। সব দলের অংশগ্রহণ যেন নিশ্চিত করা যায় সে ব্যবস্থা নিতে হবে। দলগুলোর আস্থা অর্জন করতে হবে।

তিনি জানান, সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে কেউ এটার পক্ষে মত দিয়েছেন। অনেকে বলেছেন নির্বাচন একটি বেসামরিক ইস্যু। সার্বিকভাবে সেনা বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই। অনেকে বলেছেন এখন যেভাবে মোতায়েন করা হয় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে তারা থাকতে পারে। অনেকেই বলেছেন আমাদের সেনাবাহিনী দেশের বাইরে ভালো কাজ করে আমাদের দেশে কেন করতে পারবে না। ‘না’ ভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠদের মত এসেছে ‘নো’ ভোট না থাকা ভালো, কেউ কেউ বলেছেন নো ভোট থাকতে পারে। আমি বলেছি ‘নো’ ভোট থাকলে ব্যক্তির বিরুদ্ধে হেইট ক্যাম্পেইন শুরু হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, একটা বিষয়ে সবাই মোটামুটি একমত যে নির্বাচন একটা বড় নির্বাচনী উৎসবে মিডিয়াকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সব পর্যায়ে মিডিয়া সম্পৃক্ত করা জরুরি। আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলেছি হলফনামায় মিডিয়ার অ্যাকসেস থাকতে হবে। গত নির্বাচনে একটা পর্যায়ে ইসি প্রকাশ না করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। আমরা মনে করি হলফনামায় মিডিয়ার অ্যাকসেস থাকলে বোঝা যায় কি ধরণের প্রার্থী আমরা দিলাম। সাংবাদিক পরিচয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে কেউ যেন পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে না পারে সে বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। কমিশনরা বলেছেন সবাই আমাদের সমালোচনা করে। কিন্তু যাদের সহযোগিতায় আমরা একটা ভালো নির্বাচন করতে পারি মিডিয়া হচ্ছে অন্যতম একটা শক্তি। তারাও মিডিয়াকে সহযাত্রী করতে চান। ভোটার তালিকা হালনাগাদের বিষয়ে অনেকে বলেছেন অনেকের বাসায় যাওয়া হয়নি। এজন্য আরও ভূমিকা দরকার।

সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ নজর দেওয়ার দাবি জানিয়ে ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, এ নির্বাচনের দিকে সবাই তাকিয়ে রয়েছে। সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নিরপেক্ষতা বজায় রেখে ইসির স্বাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। এমন আচরণ করতে হবে যাতে জনগণের আস্থা তৈরি হয়। আস্থা অর্জনে প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে।

শ্যামল দত্ত জানান, নির্বাচনের পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের জন্য দলগুলোর সাথে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে। সামনে সিটি নির্বাচনের ওপরই জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে আস্থা তৈরির পথ প্রশস্ত হবে।

প্রেস ক্লাব সভাপতি শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সমর্থন করেন না। সেই সাথে নাম সর্বস্ব পর্যবেক্ষক সংস্থাকে যেনো নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ না দেয়া হয়। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিরপেক্ষ ভূমিকা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশিস সৈকত বলেন, যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে একটি সুষ্ঠু অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো যদি অংশগ্রহণ না করে তবে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব না। তাদের আস্থা অর্জনটা প্রাধান্য দেয়া উচিত নির্বাচন কমিশনের।

তিনি আরো বলেন, একজন সাংবাদিক হিসেবে আমরা যেটা দেখি একটি নির্বাচন করতে হলে যে ধরণের পরিবেশ দরকার সেটি এখনও তৈরি হয়নি। বিদ্যমান সীমানাতেই ভোট করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, জনসংখ্যার ভিত্তিতেই সীমানা পুননির্ধারণ করতে হবে। ২০১১ সালে সর্বশেষ আদমশুমারি প্রতিবেদন হওয়ায় নতুন করে আর সীমানা পুননির্ধারণের দরকার নেই। তবে নতুন প্রশাসনিক এলাকা ও বিলুপ্ত ছিটমহল যোগ করেই সংসদীয় আসনের গেজেট করার পরামর্শ দেন তিনি। সেই সাথে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানান আশিস।

প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী কোনো দল যাতে নিবন্ধন না পায় সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। জামায়াত যাতে অন্য কোনো নামে বা অন্য কোনো ফরম্যাটে ভোট করতে না পারে সে বিষয়ে আইনী উদ্যোগ নিতে হবে।

সাপ্তাহিক সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রধান কাজ একটা নির্বাচন করা। নির্বাচন করা মানে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করা। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করা মানে বাংলাদেশের সব বড় বড় রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করা। আমাদের এখানে বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে নির্বাচনের আগে এমন একটা অবস্থা তৈরি হয়েছে যে কোনো উপায়ে একটি নির্বাচন করতে হবে, সংবিধান রক্ষা করতে হবে। নাহলে দেশ থাকবে না, সংবিধান থাকবে না এরকম একটা প্রসঙ্গ সামনে আনা হয়। সামনে এনে এমন একটা অবস্থা তৈরি হয় যেখানে সব রাজনৈতিক দল অংশ নেয়না। অংশ নেওয়ার মতো পরিবেশ থাকে না। নির্বাচন কমিশন জনগণেরস অর্থে পরিচালিত হয়। জনগণের অর্থ খরচ করে, জনগণের অর্থে সুযোগ সুবিধা ভোগ করে নির্বাচন কমিশন ভোটারবিহীন অথবা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন আয়োজন করা নির্বাচন কমিশনের কাজ হতে পারে না। নির্বাচন কমিশনের অবশ্যই এমন একটা নির্বাচন করতে হবে যে নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে, নিরপেক্ষ হবে সেরকম একটা নির্বাচন আয়োজন করার জন্য সরকারের সাথে নির্বাচন কমিশনের যতটা কঠোর মনোভাব দেখানো প্রয়োজন তা দেখাতে হবে। কিন্তু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে। দেশরক্ষার দোহাই দিয়ে ভোটারবিহীন, বিনা ভোটের নির্বাচন বা প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন আয়োজন করা নির্বাচন কমিশনের কাজ না।

সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সেনাবাহিনী মোতায়েন করা দরকার কি দরকার না সেটা নির্বাচন কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নির্বাচন কমিশন যদি একটা সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারে সেক্ষেত্রে তারা যদি মনে করে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দরকার নাই তাহলে তারা সে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু তাদের এই মনে করাটা দৃশ্যমান হতে হবে। মাঠের অবস্থা থাকবে একরকম, মাঠের অবস্থা থাকবে ভোটকেন্দ্র দখল হয়ে গেল, মাঠের অবস্থা কারচুপি হলো আর নির্বাচন কমিশন মনে করবে নির্বাচন ঠিকভাবে হচ্ছে, সেনাবাহিনী দরকার নাই এইরকম তর্ক-বিতর্ক বা মনোভাব প্রদর্শন করা যাবে না। নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন মনে করলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করবে, প্রয়োজন মনে করলে করবে না। সিদ্ধান্তটা নির্বাচন কমিশন নেবে। নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য যা করার সেটা করবে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পারবে না অথচ মুখে বলবে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে পারবে না সেরকম অবস্থান নির্বাচন কমিশনের নেয়া ঠিক না। সেনাবাহিনী মোতায়েন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না করলে সুষ্ঠু হবে না বিষয়টা সেরকম না। সরকারের আন্তরিকতার ওপরে নির্ভর করবে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা দরকার কি দরকার না। তার চেয়ে বড় ব্যাপার সরকারের কাছে নির্বাচন কমিশন পরিবেশ তৈরি করার জন্য যে সমস্ত প্রস্তাবনা তুলে ধরবে সে কাজগুলো সরকার ঠিক মতো করলো সেটা দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। পরিবেশ তৈরি করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।

আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অস্ত্র উদ্ধার বা সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গত আট-দশ বছরে যারা প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে অস্ত্র উদ্ধারের তালিকা করতে গেলে এসব সন্ত্রাসীদের নাম যেন সেই তালিকা থেকে বাদ পড়ে না যায়, অস্ত্র উদ্ধার বা সন্ত্রাসী ধরার নামে যেন বিরোধী দলকে দমন পীড়ন না করে। এখন যেমন বিরোধী দলের ওপর হামলা-মামলাসহ শত শত মামলা দেয়া হচ্ছে সে ধারা যেন অব্যাহত না থাকে এ জায়গায় নির্বাচন কমিশনের কাছে কঠোর ভূমিকা প্রত্যাশিত। নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে কঠোর বার্তা দিতে হবে তারা যদি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ না করে তাহলে নির্বাচন কমিশনের হাতে যে ক্ষমতা আছে সেই ক্ষমতা অনুযায়ী আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। দেখছি, দেখব, ব্যবস্থা নেব, নিচ্ছি এই কেন্দ্রিক কাজ করলে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হবে না।

বিএফইউজে’র একাংশের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের পন্থা বের করতে হবে। দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে কেবল গ্রহণযোগ্য একটি জাতীয় নির্বাচন সম্ভব। নির্বাচনের আগে অবশ্যই চলতি সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। পোলিং এজেন্ট ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ‘না’ ভোটের বিধান রাখতে হবে। নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের ওপর কোনো বিধি-নিষেধ আরোপ করা যাবে না।

পরে নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সংলাপের সারাংশ সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।

সচিব বলেন, দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিকরা সবার অংশগ্রহণমূলক আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন প্রত্যাশা করেন। নির্বাচন কমিশনের আইনের সঠিক প্রয়োগের বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেছেন। সেনাবাহিনী নিয়োগের পক্ষে এবং বিপক্ষে সবাই মতামত ব্যক্ত করেছেন কেউ বলেছেন সেনাবাহিনী মোতায়েন করলে ভালো হয়। কেউ বলেছেন প্রয়োজন নাই। না ভোটের ব্যবস্থা রাখা না রাখার সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করেছেন। না ভোট রাখলে কি সুবিধা হয় না রাখলে কি সুবিধা হয় দু’পক্ষই মতামত দিয়েছেন। দেশি বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ওনারা পরামর্শ দিয়েছেন যেন সাবধানতা অবলম্বন করা হয়। পর্যবেক্ষকের নামে অনেকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে অসুবিধার সৃষ্টি করে। আরপিও সংশোধনের জন্য ওনারা প্রস্তাব করেছেন। বাংলাতে যাতে তরজমা করে প্রকাশ করা হয়।

ইসি সচিব আরো বলেন, সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে ওনারা প্রস্তাব দিয়েছেন জনসংখ্যার ভিত্তিতে আনুপাতিকহারে যেন সীমানা নির্ধারণ করা হয়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটের নিরাপত্তা এবং ভোটের আগেই সংখ্যালঘুদের ওপর যে জুলুম নির্যাতন বন্ধ করার জন্য এবং না হয় সেজন্য নিরাপত্তা দেয়ার জন্য কমিশনকে অনুরোধ করেছেন। যে আচরণবিধিমালা প্রণয়ণ করা হবে সঠিকভাবে প্রার্থীরা পালন করে সে ব্যাপারে কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ করার জন্য তারা অনুরোধ করেছেন। প্রবাসী ভোটারদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রবাসে যারা বসবাস করে তাদের ভোটগ্রহণ কিভাবে করা যায় সেবিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত দিয়েছেন। রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। প্রয়োজনবোধে জনপ্রশাসন থেকে তালিকা এেনে তালিকা বাছাই করে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়। ধর্ম এই নির্বাচনে যাতে ব্যবহার করা না হয় এ ব্যাপারে তারা পরামর্শ দিয়েছেন। নির্বাচনীয় যে ব্যয়সীমা র্নিধারণ করা থাকে এ ব্যায়সীমা প্রার্থীরা যাতে ঠিক রাখে এ ব্যাপারে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে। এ নির্বাচনে অতিরিক্ত টাকার ব্যবহার ও পেশীশক্তির ব্যবহার যেন না হতে পারে এ বিষয়ে তারা পরামর্শ প্রদান করেছেন। নির্বাচনে প্রার্থীরা যেন সঠিকভাবে হলফনামা প্রদান করেন এবং এগুলো যেন জনগণের দেখার জন্য ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হয় সেজন্য তারা পরামর্শ দিয়েছেন। অতিথিরার নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়নের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে কেউ ভোট না দিয়ে ফেরত না আসে। নির্বাচন কমিশনকে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্বপালনের জন্য ওনারা পরামর্শ দিয়েছেন। যে আইনি কাঠামো আছে ওই আইনি কাঠামোর মধ্যে নির্বাচন কমিশন যেন তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে। আরেকটি প্রস্তাব এসেছে অনলাইনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা। নির্বাচনের পূর্বে সব দল যাতে সুন্দরভাবে অংশগ্রহণ করতে যারে সেজন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য প্রস্তাব এসেছে। ভোটার ও রাজনৈতিক দলের কাছে যেন আস্থা অর্জন করা যায় নির্বাচন কমিশনকে সেভাবে কাজ করতে হবে। যুদ্ধাপরাধীরা নির্বাচনে যেন অংশগ্রহণ না করতে পারে অথবা তারা যাতে অন্য দলে ভিড়ে গিয়ে নির্বাচন করতে না পারেন সেজন্য আইনি কাঠামো তৈরি করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। নারী ভোটারদের যাতে তারা নির্বাচনে ভোট নিশ্চিত করতে পারে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং ৩০ ভাগ রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন পেতে পারে এধরণের প্রস্তাব তারা দিয়েছেন। আরেকটি প্রস্তাব ওনারা দিয়েছেন সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারিরা যাতে নির্বাচনের আগে তিন বছরের প্রবিধান দেয়া আছে এটা যাতে ঠিক রাখা হয় এবং কোনো অবস্থাতেই যাতে সংশোধন করা না হয় সে পরামর্শ দিয়েছেন।

সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অধিকাংশের মতেই ছিল সেনাবাহিনী যদি প্রয়োজন হয় তারা (ইসি) মোতায়েন করবে, যদি প্রয়োজন না হয় তারা মোতায়েন করবে না। নির্বাচন কমিশন সকলের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করে নিজেরা বসে সিদ্ধান্ত নেবে। দেশের পরিবেশ পরিস্থিতির ওপরে নির্ভর করে তখন ঠিক করা হবে।
নির্বাচন কমিশনকে তারা এ্যাপ্রেসিয়েট করেছেন কুমিল্লা সিটি নির্বাচন, গাইবান্ধা ও সুনামগঞ্জে সংসদ নির্বাচন ও অন্যান্য যে নির্বাচন হয়েছে তারা বলেছেন এই নির্বাচনগুলো খুবই ভালো হয়েছে। গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এ পর্যন্ত কোনো প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন বর্তমান ইসি করেনি। ওনারা বলেছেন, এভাবে সবার সাথে আলোচনা করে বিশেষ করে যারা স্টেকহোল্ডার।

রাজনৈতিক দলের সভাসমাবেশ ও নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের কাছে যদি কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করে বিষয়টা আমরা তলিয়ে দেখব। এখন পর্যন্ত সংলাপ ফলপ্রসূ হবে কিনা, নির্বাচন কমিশন মনে করে সংলাপ করা দরকার। সংলাপ করলে বিষয়গুলো পরিস্কার হবে। মতামত শোনার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। আশা করি সবার অংশগ্রহণের নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

ওনাদের একজন বলেছেন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে এলো কি এলো না এটা তাদের বিষয়। আমাদের কথা হচ্ছে পরিবেশ পরিস্থিতি এমন রাখতে হবে যেন আস্থা অর্জন করতে পারে। দেশে নির্বাচনের পরিবেশ আছে কিনা..এখন পর্যন্ত দেড় বছর বাকি আছে। নির্বাচনী আবহ তৈরির জন্য আমরা সংলাপের আয়োজন করছি। এখন পর্যন্ত সংলাপে অর্জন..আমরা তো আশাবাদী। সংলাপ হচ্ছে। সবাই সাড়া দিচ্ছে, সবাই আসছে। সবার সাথে সংলাপ শেষে মূল্যায়ন করা যাবে। রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ শেষে মূল্যায়ন করা যাবে সংলাপে কতটুকু অর্জন হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত্যে পৌছানোর জন্য সংলাপ কোনো ভিত্তি তৈরি করছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তো আশাবাদী।

সংলাপে উপস্থিত ছিলেন যারা
সংলাপের প্রথম দিনে প্রিন্ট গণমাধ্যমের সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক, সাংবাদিক নেতাসহ ৩৭ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, কবিতা খানম, রফিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন, নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এবং ইসি সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবির, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশিস সৈকত, কালের কণ্ঠ নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল, মানবজমিন প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, আমাদের অর্থনীতি সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, বিএফইউজের একাংশের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব ওমর ফারুক, বিএফইউজের অপর অংশের মহাসচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, আনিসুল হক, আমানুল্লাহ কবীর, সাপ্তাহিক সম্পাদক গোলাম মর্তুজা, কলাম লেখক বিভুরঞ্জন সরকার, মাহবুব কামাল, সোহরাব হাসান, যায়যায়দিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কাজী রুকুনউদ্দীন আহমেদ, সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান, সাংবাদিক কাজী সিরাজ, মাহবুব কামাল, আনিস আলমগীর।

বাদ পড়েছেন ৪ সম্পাদক
ইসির সংলাপে মোট ৩৭ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও যোগ দিয়েছেন ২৪ জন। আমন্ত্রণ জানানো হয়নি নয়াদিগন্ত, ইনকিলাব, আমারদেশ ও সংগ্রাম সম্পাদককে। কলামিস্ট হিসেবেও ভিন্নমতের কারণে অনেকে তালিকায় স্থান পাননি। বিএফইউজের সরকার সমর্থক অংশের সভাপতি ও মহাসচিবকে আমন্ত্রণ জানানা হলেও বাদ দেয়া হয়েছে অপর অংশের সভাপতি শওকত মাহমুদকে।

আগামীকাল ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ইসির সাথে সংলাপ করবেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গৃহিত কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে অংশীজনদের সাথে ধারাবাহিক সংলাপ করছে নির্বাচন কমিশন। গত ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের সাথে সংলাপের মাধ্যমে এ কর্মপরিকল্পনার যাত্রা শুরু হয়। ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবরের পর থেকে শুরু হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় গণনা।

অনুপস্থিত ছিলেন যারা
প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, নিউজটুডে সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, জনকন্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, আমাদের সময়ের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ার, দিনকালের সম্পাদক ড. রিজওয়ান সিদ্দিকী, সকালের খবরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কমলেশ রায়, দি এশিয়ান এজ এর সহযোগী সম্পাদক সৈয়দ বদরুল আহসান, কলামিস্ট আবেদ খান, আফসান চৌধুরী, পীর হাবিবুর রহমান।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫