ঢাকা, মঙ্গলবার,১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

ক্রিকেট

মিরাজকে নিয়ে মজা করেছে সবাই

বাসস

১৬ আগস্ট ২০১৭,বুধবার, ১৯:৫১ | আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০১৭,বুধবার, ২০:০০


প্রিন্ট
মেহেদী হাসান মিরাজ

মেহেদী হাসান মিরাজ

প্রথমবার দেশের বাইরে টি-টোয়েন্টি লীগ খেলতে গিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। যদিও ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগে (সিপিএল) ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের হয়ে কোনো ম্যাচই খেলা হয়নি তার। গত মঙ্গলবার দেশে ফিরেছিলেন তিনি।

আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে নিজের সিপিএল অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন মিরাজ। সাইডবেঞ্চে বসে থাকলেও দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে, অনেক কিছু শিখেছেন বলে জানান এ তরুণ ক্রিকেটার।
এদিকে আজ বৃষ্টির কারণে হয়নি জাতীয় দলের অনুশীলন। ক্রিকেটাররা অনেকে ব্যক্তিগতভাবে ইনডোরে অনুশীলন করে ফিরে গেছেন।

সিপিএলে ম্যাচ না খেললেও নিয়মিত অনুশীলন করেছেন মিরাজ। ম্যাচবিহীন দিনগুলোতেও ব্যাটিং-বোলিং করেছেন। তিনি বলেন, ‘অনেক কিছু শিখেছি। জীবনের প্রথমবারের মতো সেখানে গিয়েছি। ওখানে ভালো ভালো খেলোয়াড় ছিল। অলমোস্ট বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটার এক সঙ্গে ছিলাম। এক সঙ্গে ড্রেসিং রুম শেয়ার করেছি, উপভোগ করেছি, সবাই আমাকে নিয়ে মজা করেছে। অনেক ভালো লাগছে। ভালো সাপোর্ট করছে। বাংলাদেশ থেকে গিয়েছি সেটা বুঝতে দেয়নি। নিজেদের মনে করেই মিশেছে।’

সিপিএল ও বিপিএলের পরিবেশের পার্থক্য সম্পর্কে জানতে চাইলে মিরাজ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় আমাদের দেশের উইকেট অনেক ভালো থাকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের উইকেট স্পিন করে। আমাদের দেশে ভালো খেলা হয়। একটা জিনিস দেখলাম ওদের ওখানে প্রথম ছয় ওভারে অনেক রান হয়। মাঝখানে আবার রান হয় না। আর আমাদের দেশে প্রথম থেকে যখন রান হয় তখন রান হতেই থাকে।’

বিদেশী কোটায় ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের সেরা একাদশে সুযোগ হয়নি এ বাংলাদেশী ক্রিকেটার। ম্যাচ খেলতে না পারা সম্পর্কে মিরাজ বলেন, ‘টিম প্রথম থেকেই ভালো খেলেছে। হয়তো উইনিং কম্বিনেশন ভাঙ্গতে পারেনি বলেই খেলা হয়নি। টিম ম্যানেজম্যান্ট যেটা ভালো মনে করেছে সেটাই করেছে। এটা আমাদের জন্য প্রথমবার। এখানে অনেক কিছু শিখেছি। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে এই অভিজ্ঞতাগুলো কাজে লাগাতে পারব।’

এরপর আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়েও কথা বলেন মিরাজ।
দীর্ঘ এগার বছর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে বড় সুযোগ মানছেন মিরাজ। এ সিরিজে সেরা সাফল্য পেতে চেষ্টা করবেন বলে জনান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আসলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারা একটা বড় সুযোগ। খেলতে পারলে অবশ্যই ভালো লাগবে। কারণ আমরা জানি সম্প্রতি সময়ে অস্ট্রেলিয়া, ভারত অনেক বড় দল। প্রত্যাশা থাকবে ভাল কিছু করার। আর ইনশাআল্লাহ আমাদের দেশের মাটিতে খেলা। চেষ্টা করব সর্বোচ্চটা দিয়ে সেরা সাফল্য পেতে। সাকিব-তাইজুল ভাই আছেন, দলের অন্যান্যরা যারা আছেন সবাই যার যার পজিশন থেকে ভালো কিছু করে তাহলে ভালো কিছু করা সম্ভব।’

গত বছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় মিরাজের। সে সিরিজে ১৯ উইকেট নিয়ে বাজিমাত করেছিলেন তিনি। ১৯ বছর বয়সী এ অফ স্পিনারের মতে, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেও একই পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি করা কঠিন। তবে দলের চাহিদা পূরণ করতে চান তিনি।

মিরাজ বলেন, ‘আমি আগের সিরিজগুলোতে যেভাবে করেছি ঠিক সেভাবেই করতে চাই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেটা হয়েছে সেটা সব সময় করা সম্ভব না। লাইফে একবার-দুইবার হতে পারে। আবার এরকম নাও হতে পারে। ওটা অপ্রত্যাশিত। তারপরও সব মিলিয়ে ভালো করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। দলের যে প্রয়োজন পূরণ করার চেষ্টা করব। একটা-দুটা উইকেট কিংবা ভালো সময়ে ব্রেক থ্রু এনে দিয়ে যদি কাজ করতে পারি তাহলে আমার ও দলের জন্য ভালো হবে। এগুলোতেই ফোকাস করছি’।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট মিরপুরে শুরু হবে ২৭ আগস্ট। তার আগে টেস্টের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবেন আশা মিরাজের। তিনি বলেন, ‘আমি ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে মাত্র আসলাম। ওখানে সাদা বলে কাজ করা হয়েছে। লাল বলে আজই শুরু করলাম। ১০-১২ দিন সময় আছে। এ সময়ে নিজের যে স্টক বোলিং আছে ভালভাবে সেটা করার চেষ্টা করব। দু’একটা ভ্যারিয়েশন আছে সেগুলো নিয়ে ট্রাই করব। নিজের যে জায়গাটায় উন্নতি করার চেষ্টা করব।’

সাত টেস্টে ৩৫ উইকেট পাওয়া মিরাজ লক্ষ্য স্থির করে নিজের ওপর চাপ তৈরি করতে নারাজ। ডানহাতি এ অফস্পিনার বলেন, ‘আমাকে কখনোই চাপ দেয়া হয় না। আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্য তেমন নয়। টার্গেট ফিক্সড করলে চাপ তৈরি হওয়ার চান্স থাকে। তার চেয়ে ওই ধরনের লক্ষ্য নির্ধারণ না করে দলের চাহিদা অনুযায়ী পারফরম্যান্স করাটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।’

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫