ঢাকা, মঙ্গলবার,১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

রাজশাহী

এনায়েতপুরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) সংবাদাদাতা

১৬ আগস্ট ২০১৭,বুধবার, ১৭:৫১


প্রিন্ট

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সীমান্তবর্তী পাচিল-গোপালপুর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পানির প্রবল স্রোতে ভেঙ্গে গেছে। আজ বুধবার ভোরে বাঁধটির প্রায় ১শ’ মিটার ভেঙ্গে গেছে। এতে অন্তত ১৮টি গ্রামের কয়েক হাজার ঘর-বাড়ি, সাড়ে ৫ হাজার একর আবাদি জমি, ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৩২টি তাঁত কারখানা পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে হাজারো একর আমন ধান তলিয়ে গেছে। এছাড়া এনায়েতপুর দক্ষিণের সাথে শাহজাদপুর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন হয়ে পড়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, যমুনা নদীতে অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে পূর্বপাড়ের হাজার হাজার ঘর-বাড়ি তলিয়ে গেছে। যমুনার পানি ফুলে ওঠলে বুধবার ভোর রাতে এনায়েতপুরের গোপালপুর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সড়কটির পায় ১০০ মিটার এলাকা ভেঙ্গে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যেই এনায়েতপুর থানার জালালপুর ইউনিয়নের মুলকান্দি, সৈয়দপুর পশ্চিম পাড়া, নোসনা পাড়া, টোকপাড়া, সরাতৈল, চৌবাড়িয়া, চেংটাপাড়া ও খুকনী ইউনিয়নের শিবপুর, গোপিনাথপুর, রুপনাই, খুকনী, কালীবাড়ি, রুপসী, বিশ্বনাথপুর, কুমরাডাঙ্গা ও গোপালপুরসহ শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ও বেলতৈল ইউনিয়নের ১৮টি গ্রামের কয়েক হাজার ঘর-বাড়ি, ৫ হাজার একর আবাদি জমি, সৈয়দপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, চৌবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাফিজিয়া মাদরাসাসহ প্রায় ১৭টি ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৩২টি তাঁত কারখানা পানিতে তলিয়ে গেছে।

বিশেষ করে জালালপুর ও খুকনী ইউনিয়নের হাজারো একর আমন ধান তলিয়ে গেছে। এছাড়া আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গরু মোটাতাজ করণ করা বেশ কয়েকটি খামারি ও পশু পালনকারীরা গাবদি পশু নিয়ে পড়েছে বিপাকে। অনেকেই এসে আশ্রয় নিয়ে পাচিল সড়কে।

এদিকে এনায়েতপুরের দক্ষিনাঞ্চলের সাথে শাহজাদপুর উপজেলা সদরের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা নদীতে ভেঙ্গে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাঁধ মেরামতে সরকাররিভাবে কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। তবে স্থানীয়দের উদ্যোগে বাঁধ মেরামতে কাজ করার কথা জানালেন এলাকার প্রবীন ইউপি সদস্য ডা. আব্দুল মজিদ সরকার। তিনি আরো জানান, রাতের বেলা এলাকার শত শত লোকজন গায়ে খেটে কাজ করেও বাঁধটি রক্ষা করা যায়নি। এলাকার মানুষের ভোগান্তির দুর করতে দ্রুত কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এদিকে জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী সুলতান মাহমুদ বলেন, গোপালপুরের মাটির এ বাঁধটি প্রায় প্রতিবছরই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এক্ষেত্রে পাউবোর যথাযথ ভূমিকা না থাকায় এবারো তা বিলীন হয়েছে। বাঁধটি ভেঙ্গে বানের পানি প্রবেশ করায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জালালপুরের বহু ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি। এটা এখন স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, শাহজাদপুর উপজেলা সদরের যোগাযোগের একমাত্র এই সড়কে সুন্দর যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর জন্য একটি শক্তিশালী সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।

তবে সিরাজগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম জানান, বাঁধ বিলীনে আপাতত পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না। তবে শুষ্ক মৌসুমে আবার বাঁধটি নির্মাণ করা হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫