ঢাকা, মঙ্গলবার,২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

কূটনীতি

রাখাইনে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়নে বিজিবি’র শক্তি বৃদ্ধি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

১৫ আগস্ট ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৯:৪৬


প্রিন্ট
পাহারারত বিজিবি

পাহারারত বিজিবি

মিয়ানমারের রাখাইনে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়নের পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে শক্তি বৃদ্ধি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রাখাইনের নিরাপত্তা জোরদারে এক ব্যাটালিয়ান সৈন্য পাঠানোর খবরে ইতোপূর্বে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন মিয়ানমারের মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসঙ্ঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার ইয়াংহি লি। কেননা নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের কারণেই হাজার হাজার রোহিঙ্গা হত্যা, ধর্ষন, অগ্নিসংযোগের মতো দমন-পীড়নের সম্মুখীন হয়েছিল, যাদের একটি বড় অংশ জীবন বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে।

এ ব্যাপারে সংবাদ মাধ্যমের সাথে আলাপকালে বিজিবি’র টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী মংডু, বুথিডং ও রাথিডংয়ে তাদের সমাবেশ বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই যেকোনো ধরনের অঘটন ঠেকাতে বিজিবি’র শক্তি বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, সেনা উপস্থিতির কারণে রোহিঙ্গাদের দলে দলে সীমান্ত পার হওয়ার একটি আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি ঠেকানোর জন্য বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।

কর্নেল ইসলাম বলেন, গত অক্টোবর পরবর্তী পরিস্থিতি থেকে এখনকার অবস্থা অনেক ভালো। রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। বিজিবি তাদের ফেরত পাঠিয়ে (পুশব্যাক) দেয়। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ৫০০ সদস্যের একটি দল উড়োজাহাজযোগে সিতওয়ে এসেছে। এছাড়া আশেপাশের অঞ্চল থেকেও মিয়ানমার তার সেনাবাহিনীর সদস্যদের রাখাইন পাঠাচ্ছে। মিয়ানমারের সেনারা সীমান্ত অঞ্চলে বিভিন্ন গ্রামে সন্ত্রাসীদের ধরার জন্য অপারেশন চালাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী সীমান্তে সেনা সমাবেশ করার আগে প্রতিবেশী দেশকে অবহিত করা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। বাংলাদেশ সরকারি পর্যায়ে মিয়ানমারের কাছে থেকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার এখনো কোনো জবাব দেয়নি।

জেনেভা থেকে গত শুক্রবার দেয়া এক বিবৃতি জাতিসঙ্ঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার বলেন, এ ঘটনা (অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন) একটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি বাহিনী যাতে সব পরিস্থিতিতে সংযত এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে, মিয়ানমার সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, গত অক্টোবরে রাখাইন রাজ্যের মংডু ও রুথিডংয়ে সীমান্তরক্ষীদের তিনটি চৌকিতে হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়টি স্মরণ করে আমি বিশেষভাবে শঙ্কিত। রাখাইনের সংখ্যালঘু স্থানীয় জনগোষ্ঠির কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। গত ৩ আগস্ট ছয়জন গ্রামবাসীকে হত্যা করা হয়েছে।

ইয়াংহি লি বলেন, রাজ্যের নিরাপত্তা বিধান করা এবং চরমপন্থীদের হাত থেকে জনগনকে রক্ষার দায়িত্ব সরকারের রয়েছে। কিন্তু এই দায়িত্ব সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া প্রয়োজন। নিরাপত্তা দেয়ার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ পক্ষপাত করতে পারে না। নিরাপত্তা বাহিনীর যে কোনো পদক্ষেপ বা অভিযান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা ও মানদন্ড অনুযায়ী হতে হবে।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫