সরকার খাদ্যশস্য আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিদেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, বন্যার কারণে ইতোমধ্যেই বিস্তীর্ণ জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। আগামীতে বন্যা আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে তাই দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ থাকার পরও যে কোনো বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে সরকার খাদ্যশস্য আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি গতকাল তার তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে জাতীয় পুষ্টি পরিষদের (এনসিসি) প্রথম সভায় সভাপতির ভাষণে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি জনগণের পুষ্টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পুষ্টির সাথে অনেক কিছু সম্পৃক্ত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুষ্টির বিষয়ে শহরাঞ্চলে সচেতনতা সৃষ্টি হলেও গ্রামাঞ্চলে জনগণের মধ্যে আরো সচেতনতা বৃদ্ধির প্র য়োজন রয়েছে। এ সময় সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করেন প্রধানমন্ত্রী।
সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি সাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন এবং বিশেষত আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ব্যতীত মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।’
একটি দেশের উন্নয়ন শাসক দলের নীতির ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ১৫ আগস্টের পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা দেশটাকে পরনির্ভরশীল করে রাখতে চেয়েছিল।
আওয়ামী লীগ যখনই সরকার গঠন করেছে, তখনই পূর্ববর্তী সরকারে কাছ থেকে খাদ্য ঘাটতি পাওয়ার কথা বলেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালের বিএনপি যখন ক্ষমতা হস্তান্তর করে, তখন দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল ৪০ লাখ টন। অন্য দিকে ২০০১ সালে ২৬ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত রেখে ক্ষমতা হস্তান্তর করে আওয়ামী লীগ। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে তখনো দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল ৩০ লাখ টন।
বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী এবং সংশ্লিষ্ট সচিবেরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.