ঢাকা, মঙ্গলবার,২৪ অক্টোবর ২০১৭

শেষের পাতা

খায়রুল হককে অপসারণ ও গ্রেফতার দাবি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

১৪ আগস্ট ২০১৭,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের বিক্ষোভ : নয়া দিগন্ত

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের বিক্ষোভ : নয়া দিগন্ত

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে সাবেক বিচারপতি খায়রুল হকের মন্তব্যের প্রতিবাদ, আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ ও তাকে গ্রেফতারের দাবিতে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।
নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক আপত্তিকর বক্তব্য দেয়ায় তার অপসারণ ও গ্রেফতার দাবি করেছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। এ দাবিতে বিএনপি সমর্থক শতাধিক আইনজীবী গতকাল সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল শেষে আইনজীবী ভবনের সামনে বিচারপতি খায়রুল হকের অপসারণ ও গ্রেফতার ও নিম্ন আদালতের চাকরি বিধিমালার গেজেট অবিলম্বে প্রকাশের দাবিতে এবং মন্ত্রীদের বক্তব্যের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার প্রতিবাদে সমাবেশ করেন আইনজীবীরা।
এতে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, সাবেক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল, কায়সার কামাল, আবেদ রাজা, শওকতউল হক, মনির হোসেন, ফাহিমা নাসরিন মুন্নি, ড. আরিফা জেসমিন নাহিন মোহাম্মদ আলী, গাজী কামরুল ইসলাম সজল, মির্জা আল মাহমুদ, ফারুক হোসেন, তাহসিন আলী প্রমুখ।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক যে সরকারের দালাল তা তিনি ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে তার বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন। তিনি এবং সরকারের মন্ত্রীরা যেসব মন্তব্য করছেন তা স্বাধীন বিচারব্যবস্থাকে ভূলুণ্ঠিত করছে। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের মতো একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে মন্ত্রিসভায় কেন রাখা হয়েছে। সরকার বিচার বিভাগকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।
মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, বিচারপতি খায়রুল হক ডাবল স্ট্যান্ডার্ড গ্রহণ করেছেন। তিনি তার রায়ে বলেছেন, বিচারপতিদের অবসর গ্রহণের পর চাকরিতে যোগদান করা উচিত নয়। অথচ তিনি নিজেই সরকারি চাকরি নিয়েছেন। তিনি প্রধান বিচারপতি ও ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে চাকরিবিধি লঙ্ঘন করেছেন। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত মামলায় ওপেন কোর্টে যে রায় দেয়া হয়েছিল, ১৬ মাস পর সেই রায় তিনি পাল্টে দিয়েছেন। সে রায় দিয়ে তিনি জাতির সাথে প্রতারণা করেছেন। অনেকে বলছেন, তাকে দেশ ছাড়া করতে হবে, আমি বলছি, তাকে গ্রেফতার করে আদালতে বিচার করতে হবে।
রায় নিয়ে সরকারের মন্ত্রীরা আপত্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন উল্লেখ করে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায় ভালোভাবে না পড়ে তারা লাগামহীন বক্তব্য দিচ্ছেন। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, যতবার ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করবে ততবার সংসদে তা পাস করা হবে। এটা বলে তিনি আদালত অবমাননা করেছেন। একমাত্র তিনি তার বয়সের কারণে মাথা ঠিক নেই বলে বাঁচতে পারেন।
খাদ্যমন্ত্রী সর্বোচ্চ আদালত থেকে সাজাপ্রাপ্ত উল্লেখ করে খোকন বলেন, রায় নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী কী সব বলেছেন। অথচ তিনি সর্বোচ্চ আদালত থেকে সাজাপ্রাপ্ত।
কায়সার কামাল বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায়কে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন সরকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তিনি বলেন, রায় নিয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক যে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন তার জন্য এক দিন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
আদালত প্রতিবেদক জানান, ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে বক্তব্য দেয়ায় আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে কমিশন থেকে অপসারণ ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। গতকাল ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আইনজীবীরা উপরি উক্ত মর্মে দাবি জানান।
আইনজীবীরা বলেন, বিচারপতিদের অবসরগ্রহণের পর চাকরিতে যোগদান উচিত নয়। আবার তিনি সরকারি চাকরি নিয়েছেন। তিনি প্রধান বিচারপতি ও ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে চাকরিবিধি লঙ্ঘন করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসংক্রান্ত মামলায় ওপেন কোর্টে যে রায় দেয়া হয়েছিল, ১৬ মাস পর সেই রায় পাল্টে দিয়েছেন। এ রায় দিয়ে তিনি জাতির সাথে প্রতারণা করেছেন। সেজন্য তার অপসারণ ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন আইনজীবীরা। রায় নিয়ে সরকারের মন্ত্রীরা আপত্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন উল্লেখ করে আইনজীবীরা আরো বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায় ভালোভাবে না পড়ে তারা লাগামহীন বক্তব্য দিচ্ছেন। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, যতবার ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করবে ততবার সংসদে তা পাস করা হবে। এটা বলে তিনি আদালত অবমাননা করেছেন। একমাত্র তিনি তার বয়সের কারণে মাথা ঠিক নেই বলে বাঁচতে পারেন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেনÑ অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আজিজুল ইসলাম খান বাচ্চু, আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান, মো: মহসীন মিয়া, মো: ইকবাল হোসেন, গোলাম মোস্তফা খান, ওমর ফারুক ফারুকী, খন্দকার হযরত আলী, তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ, জিয়া উদ্দিন, আবদুল খালেক মিলন, নুরুজ্জামান তপন, ইলতুৎমিস সদাগর দুই শতাধিক আইনজীবী।
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের অপসারণ এবং নি¤œ আদালতে বিচারকদের চাকরি বিধির গেজেট দ্রুত প্রকাশের দাবিতে জেলা ও দায়রা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নূরুল হক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মীর মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে মঞ্জরুল হক বাচ্চু, সাজ্জাদুর রহমান আকন্দ নয়ন, এম এ হান্নান খান, মাসুদ তানভীর তান্না, এখলাছুর রহমান নান্নু, মোখলেছুর রহমান কেনান, আনিসুজ্জামান, হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, আকরাম হোসেন, শরাফ উদ্দিন খান পাঠান, করিম চৌধুরী, রেহানা আক্তার প্রমুখ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।
ফোরামের বিক্ষোভ সমাবেশ
গাইবান্ধা সংবাদদাতা জানান, সাবেক বিচারপতি খায়রুল হকের পদত্যাগসহ তাকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে গাইবান্ধা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম জেলা ইউনিট এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।
জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজানের সভাপতিত্বে ইদ্রিস আলী, অ্যাডভোকেট হানিফ বেলাল, হাছিবুল ইসলাম হ্যাপি, হায়দার আলী, মঞ্জুর মোর্শেদ বাবু, মকসুদার রহমান, জাহাঙ্গীর হোসেন, শাহনেয়াজ খান, শাহাদুল আলম, রফিকুল ইসলাম বুলু, তাসনিন বেগম মিলা প্রমুখ।
বক্তারা ষোড়শ সংশোধনী বাতিল নিয়ে মন্ত্রীদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে স্বাধীন বিচার বিভাগের জন্য নি¤œ আদালতে বিচারকদের শৃঙ্খলা গেজেট প্রকাশের জোর দাবি জানান।
নোয়াখালী সংবাদদাতা জানান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সাবেক বিচারপতি খায়রুল হকের আদালত অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতিবাদে ও আইন কমিশন থেকে তাকে অপসারণের দাবিতে নোয়াখালীতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল দুপুরে নোয়াখালী বার লাইব্রেরি মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেনÑ নোয়াখালী বারের সাবেক সভাপতি ও বেগমগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম, বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট বিইউএম কামরুল ইসলাম, বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বাহার উদ্দিন, অ্যাডভোকেট তাফসীর হোসেন, অ্যাডভোকেট নূরুল আমিন, অ্যাডভোকেট আজম খান, অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ, অ্যাডভোকেট বরকত উল্যাহ রাশেদ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সরকার বিচলিত হয়ে পড়েছেন।
শরীয়তপুর সংবাদদাতা জানান, শরীয়তপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে বিক্ষোভ হয়েছে। সাবেক বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের পদত্যাগের দাবিতে এক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সভা করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। অ্যাডভোকেট জুলফিকার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেনÑ অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম কাসেম, অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান ঢালী, অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন আকন্দ, অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান ইমরান, অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, অ্যাডভোকেট সেলিম আহম্মেদ, অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন, অ্যাডভোকেট জালাল আহম্মেদ সবুজ, অ্যাডভোকেট মৃধা নজরুল কবীরসহ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারা।
বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়া জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে পুলিশ মিছিল করতে দেয়নি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামকে। এ সময় পুলিশের সাথে বাগি¦তণ্ডার সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি খায়রুল হকের অপসারণসহ তিন দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার বেলা ২টায় বগুড়া জজ কোর্টের সামনে সমাবেশের ডাক দেয় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম বগুড়া ইউনিট।
ফোরাম সভাপতি শেখ মকলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন ও উপস্থিত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছেদ, সিনিয়র সদস্য আতাউর রহমান, শফিকুল ইসলাম টুকু, এ কে এম সাইফুল ইসলাম, বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, ফজলুল হক, নাজমুল হুদা পাপন, এ কে এম তারিকুল ইসলাম সাচ্চু, সাফিউল হাসান রুবেল, হুমায়ুন কবির প্রমুখ।
রংপুর অফিস জানায়, রংপুরে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে কোর্ট চত্বরে আলাদা মিছিল ও সমাবেশ হয়। এতে নেতৃত্ব দেন বিএনপি অ্যাডভোকেট আবদুল কাইয়ুম। সমাবেশে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বলেছেন, সরকার একটি ঐতিহাসিক রায়কে বাতিল করার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছে। তারা আদালত অবমাননাকর বক্তব্য দিচ্ছে। প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে কথা বলছে। এটা বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের মাঠে নামতে হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫