ঢাকা, বুধবার,১৬ আগস্ট ২০১৭

বিবিধ

কিছুক্ষণ পর পর কথা বলতে চায় মুক্তামনি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ আগস্ট ২০১৭,রবিবার, ২০:২৭


প্রিন্ট
অপারেশনের পর বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে মুক্তামনি।

অপারেশনের পর বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে মুক্তামনি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে পর্যবেক্ষণে রাখা মুক্তামনি বাবাকে কাছ ছাড়া করতে চায় না। কিছুক্ষণ পর পর ঘুম থেকে জেগে উঠলে বাবা ইব্রাহিম হোসেনকে ডাকছে সে। কিন্তু বাবা ইব্রাহিম হোসেন সেখানে সব থাকতে পারছেন না।

আইসিইউ’র বাইরে অপেক্ষমান মুক্তামনির বাবা জানান, তিনি আইসিইউতে মেয়ের কাছে সব সময় থাকতে পারছেন না। ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কায় চিকিৎসকেরা তাকে সেখানে সারাক্ষণ থাকার অনুমতি দিচ্ছেন না। অবশ্য কিছুক্ষণ পর পর তাকে ভেতের ডেকে নেয়া হচ্ছে। মেয়েটি কিছুক্ষণ পর পর কথা বলতে চায়।

ইব্রাহিম হোসেন জানান, মুক্তামনিকে সকাল থেকে স্যুপ খেতে দেয়া হয়েছে।

অস্ত্রোপচারের পর মুক্তামনি আগের চেয়ে সুস্থ বোধ করছে বলে পিতাকে জানিয়েছে। টিউমার সরিয়ে নেয়ার পর হাতটা আগের চেয়ে হালকা বোধ করছে।

মুক্তামনি ইব্রাহিম হোসেনকে জানিয়েছে যে, সে ভালো হয়ে গেছে। তার হাতটা আগের মতো ভারী নয়। সকাল থেকে কিছুটা ব্যথাও বোধ করছে বলে জানিয়েছে। তবে সেটা আগের মতো অসহনীয় ছিল না। তার অপর জমজ বোন হিরামনি ও মা তাকে ভেতরে গিয়ে দেখে এসেছে।

গতকাল শনিবার ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মুক্তামনির ডান হাতে অস্ত্রোপচার করে হাত থেকে প্রায় তিন কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করেন চিকিৎসকেরা। এ কারণে রক্তনালীতে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল করতে পারছিল না। এর আগে গত ৫ আগস্ট মুক্তামনির হাত থেকে টিস্যু নিয়ে বায়োপসি করা হয়। ৭ আগস্ট বায়োপসির রিপোর্ট আসে। তাতে মুক্তামনির হাতে এবং শরীরের কয়েকটি স্থানে টিউমার আছে বলে শনাক্ত হয়। এর ভিত্তিতে গত ১২ আগস্ট মেয়েটির ডান হাত থেকে তিন কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করা হয় অস্ত্রোপচার করে।

এরও আগে সিঙ্গাপুরের চিকিৎকদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিল মুক্তামনির চিকিৎসার ব্যাপারে। ভিডিওর মাধ্যমে ওর হাতের অবস্থা এবং কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করে সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকেরা মেয়েটির চিকিৎসা করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকেরা সিদ্ধান্ত নেন তারাই ওর অস্ত্রোপচার করবেন।

এ ব্যাপারে বার্ন ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, অস্ত্রোপচার পরবর্তিতে ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাতসহ নানা ধরনের জটিলতার আশঙ্কা করা হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমতে তেমন কোনো জটিলতা দেখা দেয়নি সামান্য রক্তপাত ছাড়া। এখন পর্যন্ত বলা চলে মেয়েটি সুস্থ আছে। তার শারীরিক অবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন একদল বিশেষজ্ঞ।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মুক্তামনির শরীরের কিছু অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। পুরোপুরি সুস্থ হতে কিছুটা সময় লাগবে। এমনকি পুরোপুরি সুস্থ সে হবে কি না তাও এখন বলা যাচ্ছে না।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫