ঢাকা, বুধবার,১৬ আগস্ট ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

সংলাপ যেন অর্থবহ হয়

সালাহউদ্দিন বাবর

১৩ আগস্ট ২০১৭,রবিবার, ২০:১৬


সালাহউদ্দিন বাবর

সালাহউদ্দিন বাবর

প্রিন্ট

নির্বাচন কমিশন তাদের রোডম্যাপ অনুযায়ী সংলাপের সূচনা করেছে। ইতোমধ্যে সুশীলসমাজ, নির্বাচন নিয়ে যারা গবেষণা করেন এবং নির্বাচন নিয়ে যারা লেখেন ও ভাবেন, তাদের সাথে সংলাপ শেষ করেছে। দীর্ঘ সময় নিয়েই সংলাপের কার্যক্রম চলবে। এ মাসেই রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ শুরু হবে। ২৪ আগস্ট থেকে ৪০টি নিবন্ধিত দলের সাথে পালাক্রমে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংলাপে বসবে। কোনো জটিল সমস্যা বা সঙ্কট উত্তরণের উত্তম পথ হচ্ছে, সংলাপ তথা আলাপ-আলোচনা করে সমাধান বের করা। কোথাও কোনো যুদ্ধ হলেও তার শেষটা কিন্তু সংলাপ বা আলোচনার মাধ্যমে শেষ হয়। তাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে সংলাপের মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছাই কাম্য। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য অনেক। সংলাপের মাধ্যমেই এটা দূর করা যায়। ভিন্ন কোনো প্রক্রিয়ায় তা সম্ভব নয়। তবে আলোচনায় খোলা মন নিয়ে যুক্তি ও বাস্তবতাকে গ্রহণ করে অগ্রসর হলে সমস্যা থাকবে না এবং সংলাপ সফল হবে।

ইসির একটি বিষয় মনে রাখতে হবে। সবাই যেন এই ধারণায় উপনীত হতে পারে যে, ইসি আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে এবং একটি সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচন তাদের মাধ্যমে হতে পারে। নিশ্চয়ই আমরা বিশ্বাস করি, ইসি সৎ আকাক্সক্ষা থেকে নির্বাচন পর্যন্ত যাওয়ার জন্য একটি পথনকশা তৈরি এবং প্রকাশ করেছে, যাতে দেশে মানুষ জানতে পারে, তারা কিভাবে অগ্রসর হবে। একই সাথে এটাও আশা করে, ইসি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে এবং রাজনৈতিক দল ও নেতাদের সাথে নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়ে যে আলাপের সূচনা করেছে, সে আলোচনা থেকে যে সুপারিশগুলো আসবে, তারা তা গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করবেন। যেসব সুপারিশের মধ্যে জনমতের প্রতিফলন এবং যৌক্তিকতা রয়েছে তাকে তারা গুরুত্ব দেবেন এবং তার আলোকে কাজ করবেন।

ইতোমধ্যে সুশীলসমাজ ও বিজ্ঞজন অন্যান্য বিষয়সহ তিন বিষয়ের ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। এর মধ্যে আছেÑ নির্বাচন সহায়ক সরকার, নির্বাচনে সেনা মোতায়েন এবং ‘না’ ভোটের ব্যবস্থা রাখা। এই তিন বিষয়ের মধ্যে দু’টি বিষয়ের সমর্থনে ব্যাপক জনমত রয়েছে। সেগুলো হলো নির্বাচনের সময় সেনা মোতায়েন এবং নির্বাচন সহায়ক সরকার। এ দু’টি বিষয়ের পেছনে জোরালো যুক্তি ও উত্তম উদাহরণ রয়েছে।

বিগত দিনে আওয়ামী লীগ প্রশ্ন তুলেছিল, নির্বাচনের সময় দলীয় সরকারের পরিবর্তে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। তাদের এই দাবি সে সময় ক্ষমতাসীন বিএনপি প্রথমে মানতে চায়নি। পরে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী যখন এই দাবিতে আন্দোলন শুরু করে, এর পক্ষে যখন ব্যাপক জনমত গড়ে ওঠে এবং বিভিন্ন কোণ থেকে এর প্রতি সমর্থন আসতে শুরু করে, তখন বিএনপি নমনীয় হয় এবং এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধন করে। এভাবে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান প্রতিষ্ঠা করা হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অভিজ্ঞতা হচ্ছে, এর অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে সেগুলো নিয়ে তেমন কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। আওয়ামী লীগ এই ব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনেই ক্ষমতায় আসে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত নির্বাচন ভালো হওয়ায় তা ছিল গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক। আওয়ামী লীগের দাবির মুখে যে ব্যবস্থা কায়েম হয়েছিল তাদের ইচ্ছায় তা আবার বাতিল হয়ে যায়। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণভাবে প্রহসনমূলক। এ নির্বাচনে ভোটার যায়নি, কোনো দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি এবং সংসদের বেশির ভাগ আসনে প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ‘নির্বাচিত’ বলে ধরে নেয়া হয়। সে নির্বাচন দেশের মানুষ যেমন গ্রহণ করেনি, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

পূর্বাপর এ নিয়ে যত কথা হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এখন নির্বাচন সহায়ক সরকারের প্রসঙ্গটি খুবই গুরুত্ববহ। একই সাথে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকা, ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারা এবং ভোটকেন্দ্রে মাস্তানদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করাÑ সর্বোপরি একটি ভালো নির্বাচন তথা অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। ভোটকেন্দ্রে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি আবারো নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপে তোলা হয়েছে। এখন ইসি যদি সত্যিকার অর্থেই ভালো নির্বাচন চায়, তবে এসব দাবি মেনে নেয়ার ক্ষেত্রে কোনো গড়িমসি করা ঠিক হবে না। অতীতে দেখা গেছে, যেসব নির্বাচনে সেনা মোতায়েন ছিল সেসব ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি এবং ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় ছিল।

নির্বাচন কমিশনের আরো একটি দায়িত্ব হচ্ছে, ভোটের আগে এবং ভোটের সময় প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারকাজ চালানোর ক্ষেত্রে সবার সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এ ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছে। নির্বাচনের এখনো বেশ সময় আছে। তার পরও ক্ষমতাসীনেরা পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা সর্বত্র সভা-সমাবেশ করছেন। পক্ষান্তরে বিএনপিকে প্রচারের সুযোগ দেয়া তো দূরের কথা, তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সভা-সমাবেশ পর্যন্ত করতে দেয়া হচ্ছে না। দেশের অন্যতম প্রধান দলের প্রতি যদি এমন আচরণ করা হয়, তবে এটা নিশ্চিত যে, অন্য দলগুলোর সমান সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটবে, যা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়টি দেখা উচিত অবশ্যই। প্রচারাভিযানে যদি সবাই সমান সুযোগ না পান, তবে তো সে নির্বাচন অবাধ হবে না।

জাতীয় সংসদের নির্বাচনের বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালত, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একটি রায়ের পর্যবেক্ষণে এসেছে। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিষয়টি সন্নিবেশিত হয়েছে। পর্যবেক্ষণে এসেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বাধীন ও নিরপেক্ষ না হয় তাহলে গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া গ্রহণযোগ্য সংসদও প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। তাই আমাদের নির্বাচনপ্রক্রিয়া এবং জাতীয় সংসদ শিশু অবস্থায় রয়ে গেছে। ফলে জনগণ এ দু’টি প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। এ দু’টি প্রতিষ্ঠান যদি জনগণের আস্থা ও শ্রদ্ধা অর্জনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ থেকে দূরে থাকে তাহলে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না।

এতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে দলের বাইরে একজন সংসদ সদস্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচন ছাড়া জ্ঞানী-গুণীজনদের মাধ্যমে সংসদ গঠিত হতে পারে না। এ কারণেই সংসদকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা যাচ্ছে না। রায়ের পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়, নির্বাচনপ্রক্রিয়া সঠিকভাবে কাজ করলে এবং সংসদ সদস্যরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হলেই গণতন্ত্রের সার্থকতা। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যদি দক্ষ, সৎ ও চরিত্রবান হন তাহলে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এই পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা সংশ্লিষ্ট সবার গ্রহণ করা উচিত।

সর্বোচ্চ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ নির্বাচন কমিশনের জন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করতে পারে। ইসিকে আপিল বিভাগের এই পর্যবেক্ষণ সামনে পথ চলার জন্য পাথেয় হিসেবে দিকনির্দেশনা দিয়েছে। ইসিকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এসব বক্তব্য শক্তি ও সাহস জোগাবে। একটি ভালো মানের নির্বাচন করার দায়িত্ব ইসির ওপর বর্তেছে। ইতিহাস গড়ার সোপানে তারা এসে হাজির হয়েছেন। এখান থেকে সরে এসে দায়িত্ব এড়াতে চাইলে ইসিকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

দেশের সরকারি দল, বিরোধী দল ও জনগণ কিন্তু একটি প্রশ্নমুক্ত নির্বাচনের প্রত্যাশায় অপেক্ষা করছে। এ কথা ইসিকে মনে রাখতে হবে। এবার যদি ইসি ভালো মানের নির্বাচন করিয়ে দিতে পারে, অবশ্যই তারা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তেমন একটি নির্বাচন করার জন্য যে সংলাপ এখন চলছে, তা যেন একটি শক্তিশালী কমিশন গঠনের জন্য সহায়ক হয়। সে আশা সব মহলের। এসব বিষয়ে ইসির স্পষ্ট বক্তব্য এবং শক্ত অবস্থান নেয়া আবশ্যক।

আগামী নির্বাচন কেবল গণতন্ত্রের জন্য নয়, দেশের আর্থসামাজিক দিক থেকেও এটা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে গণতন্ত্র এখন সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। প্রায় ১০ বছর থেকে এই সঙ্কট চলে আসছে। তবে অতীতেও যে গণতন্ত্র মসৃণ পথে অগ্রসর হয়েছে, তা নয়। নানা বাধাবিপত্তির মধ্য দিয়ে দেশ এগিয়ে এসেছে। একদলীয় ব্যবস্থা, সামরিক শাসন দেশকে গণতন্ত্রের লক্ষ্যে পৌঁছার ক্ষেত্রে অনেকখানিই পিছিয়ে দিয়েছে। এই পিছিয়ে চলার জের এখনো টেনে চলতে হচ্ছে। হালে এই সঙ্কট আরো ঘনীভূত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়েছে। এ কারণে জাতীয় অর্থনীতিতে পড়েছে বিরূপ প্রভাব।

বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেয়েছে চার দশকের বেশি আগে। কিন্তু এ দীর্ঘ সময়েও অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়নি। বিরাট জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যসীমার নিচে। বহু মানুষের কর্মের সংস্থান নেই, উন্নয়নের অবকাঠামো তৈরি হয়নি। ফলে জনগণের ভোগান্তি কিছুমাত্র কমেনি। এর সাথে দেশে জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা চালু হয়নি। প্রশাসনের যদি কোনো জবাবদিহিতা না থাকে তাহলে সুশাসন তথা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। নির্বাহী বিভাগের যারা জবাবদিহি নিশ্চিত করবেন, সেই সংসদ এখন কার্যকর নয়। এটা মূলত গণতন্ত্রের সঙ্কট। যেহেতু সংসদ কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয়নি, তাই এই সংসদ বৃহত্তর জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না।

সত্যিকার অর্থে যদি একটি প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠা করা যায় তাহলে দেশে সুশাসন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। আর সে জন্য প্রয়োজন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। তেমন একটি নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি ও সম্পন্ন করার দায়িত্ব ইসির। এ ক্ষেত্রে তাদের ব্যর্থতা জনগণকে হতাশ করবে। সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণে এ সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক হওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কাজ শুরু করেছে। এর সূচনা ভালো হচ্ছে না। জাতীয় গণমাধ্যমে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, যারা ভোটার তালিকা তৈরির কাজে নিয়োজিত, তারা তাদের দায়িত্বে অবহেলা করছেন। তালিকা প্রস্তুতকারীরা ঘরে ঘরে গিয়ে নাম তালিকাভুক্ত করছেন না। নানা গোঁজামিল রয়েছে তাদের কাজে। নির্বাচনে জনগণের অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে একটি শুদ্ধ ভোটার তালিকার প্রয়োজন সর্বাধিক।

নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো, যেসব অভিযোগ আসছে তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা, যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এর ত্রুটিগুলো দূর করা এবং গোটা দেশে সঠিকভাবে ভোটার তালিকা তৈরি করার কাজ নিশ্চিত করা। ইসিকে আরো মনে রাখতে হবে, যাদের ভোটার তালিকা তৈরির কাজে নিয়োগ করা হয়েছে তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হলে চলবে না। তা না হলে তালিকা প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা থাকবে না।

২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর সহায়তায় তৈরি করা, সর্বাধিক সঠিক ভোটার তালিকায় পুরুষের তুলনায় ১৪ লাখের বেশি নারী ভোটার অন্তর্ভ্ক্তু হয়েছিলেন। এর কারণ বিদেশে কর্মরত প্রায় এক কোটি পুরুষ বাংলাদেশী নাগরিক ভোটার হতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে ভোটার তালিকায় হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় জেন্ডার গ্যাপ বা নারী-পুরুষের সংখ্যায় অসমতা দেখা দেয়। ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা দিয়ে নির্বাচন হলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য।

নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তি ইসির একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এমন বহু উদাহরণ রয়েছে যে, বিরোধের ব্যাপারে অভিযোগ দায়েরের পর তা নিষ্পত্তিই হয় না। যে সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধ দায়ের করা হয়েছে, তার পূর্ণ মেয়াদ শেষ হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। অথচ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচনী বিরোধের দ্রুত মীমাংসা প্রয়োজন। বাস্তবে দেখা গেছে, এসব বিরোধ খুব কমই মীমাংসা হয়। এ ধরনের দীর্ঘসূত্রতা নির্বাচনী অপরাধকেই উৎসাহিত করে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর কমিশনের আর কিছুই করার প্রয়োজন বোধ করা হয় না। এসব অনিয়ম থেকে যাওয়ায় জনগণের রায়ের সত্যিকার প্রতিফলন ঘটে না। ফলে পেশিশক্তি প্রয়োগ করে মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করে থাকে দুর্বৃত্তরা। এসব অনিয়মের যদি প্রতিকার না হয়, তবে এগুলো হবে গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। এর প্রতিকারের ক্ষেত্রে আইনগুলোর যদি কোনো দুর্বলতা থাকে, তা ইসিকে এখনই দূর করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

নির্বাচনে সবার অবস্থান সমপর্যায়ে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্বাচনী ব্যয়। লক্ষ করা যাচ্ছে, নির্বাচনী ব্যয়ে বৈধ সীমা ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়। কোনো সাধারণ নির্বাচনে যে পরিমাণ ব্যয়কে বৈধ করা হয়েছে, পরবর্তী নির্বাচনে সে ব্যয় আরো বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ ভোটার থাকলেও তাদের পক্ষে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্ভব হচ্ছে না। এতে মধ্যবিত্ত শিক্ষিত শ্রেণীর মানুষের নির্বাচনে অংশগ্রহণ তথা প্রার্থী হওয়া সম্ভব হয় না। ফলে দেখা যাচ্ছে, সংসদে উচ্চবিত্ত ব্যবসায়ীদের আধিপত্য বেড়েই চলেছে। বিগত কয়েকটি সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, সংসদে বিত্তশালীদের অবস্থান মজবুত হয়ে উঠছে। এসব সংসদ সদস্য সংসদে দেশের মানুষের কল্যাণের চিন্তার প্রতিফলন না ঘটিয়ে নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। তাদের সংসদীয় কাজের অভিজ্ঞতা ও আগ্রহ না থাকায় সংসদীয় গণতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে না এবং সংসদ কার্যকর হতে পারছে না। সংসদের এসব সদস্য দিয়ে সাধারণ মানুষের কোনো উপকার হচ্ছে না। 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫