ঢাকা, সোমবার,২৩ অক্টোবর ২০১৭

বিবিধ

রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে ইউনেস্কোর নেতৃত্বে পরিবেশগত সমীক্ষার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ আগস্ট ২০১৭,রবিবার, ১৮:১০


প্রিন্ট

রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বিষয়ে সরকারি পরিবেশগত সমীক্ষা ও অন্যান্য প্রতিবেদন অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।

তারা ইউনেস্কোর নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক, নিরপেক্ষ ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিবেশগত সমীক্ষা পরিচালনা করে নতুন স্থান নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।

তারা বলেন, সুন্দরবনের উপর আরোপিত সব অনিয়ম অত্যাচার অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বন বিভাগের জনবল বৃদ্ধি ও তাদের কাজের পরিধি, একাগ্রতা, সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতেরও দাবি জানান তারা।

সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি গোলটেবিল কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা একথা বলেন।

‘সুন্দরবনের পাশে তিন শতাধিক নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে অনুমোদন প্রক্রিয়ার প্রতিবাদ ও বাতিলের দাবিতে’ এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এবিষয়ে মুল বক্তব্য রাখেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।
এছাড়াও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির অন্যতম সদস্য সৈয়দ আবুল মকসুদ, খুশী কবির, অধ্যাপক বদরুল ইমাম, রুহিন হোসেন প্রিন্স, শরীফ জামিল ও সদস্য সচিব ডা: মো: আব্দুল মতিন বক্তব্য রাখেন।

মুল বক্তব্যে সুলতানা কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় পরিবেশ কমিটির ৬ আগস্টের সভায় সুন্দরবন ঘেঁষে ৩২০টি শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এরকম একটি স্পর্শকাতর বনের অস্তিত্বের প্রশ্নে এটি একটি বৃহৎ নেতিবাচক সিদ্ধান্ত, যার প্রভাব হবে দীর্ঘ মেয়াদী। তিনি সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে এহেন বনবিধ্বংসী ও পরিবেশ বিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও এসব বন্ধের জোর দাবি জানান।

তিনি বলেন, সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী বা অভ্যন্তরের নির্মাণাধীন ও পরিকল্পিত ৩২০টি বা সব সরকারি-বেসরকারি প্রকল্প ও স্থাপনা অপসারণ, নির্মানাধীনপ্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ, বরাদ্দকৃত সব ধরনের প্লট অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। সুন্দরবন বিষয়ে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিত (জুলাই ২০১৭) ইউনেস্কো কমিটির গৃহীত ১১টি প্রস্তাব হুবহু ও সময় মাফিক বাস্তবায়ন করারও দাবি জানান তিনি।

অপরদিকে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন আমরা চাই, তবে সেটা হতে হবে পরিবেশ ও জনবান্ধব। পরিবেশ ও সুন্দরবন রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে যেভাবে অপরিকল্পিতভাবে শিল্পকারখানার অনুমোদন দেয়া হয়েছে, তা সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদেরকে আরো উদ্বিগ্ন করল। এতে ভবিষ্যত প্রজন্ম ক্ষতির মুখোমুখি হবে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তিনি নিরপেক্ষ অর্থনীতিবিদ, বিশেষজ্ঞ, ফেডারেল চেম্বারের লিডার ও পরিবেশবিদদের সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ জরিপের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানান।

খুশী কবির বলেন, পরিবেশ-প্রকৃতি ও মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে অর্থনৈতিক স্বার্থে সরকার ভুল পথে চলছে। সামান্য কিছু ব্যক্তির স্বার্থে বিশাল জনগোষ্ঠীকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।

অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, সরকার পরিবেশ ও সুন্দরবন রক্ষায় করা নিজের আইন ও ওয়াদা পদে পদে ভঙ্গ করছে। ইউনেস্কোর ৪১-তম সভার সিদ্ধান্তসমূহের ধারাগুলোকে তারা ভুলভাবে উপস্থাপন করছেন। ইউনেস্কোর রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিষয়ে তাদের যে আপত্তি রয়েছে তা থেকে সরে আসেনি, বরং সুন্দরবন রক্ষায় তারা আরো কিছু শর্ত দিয়েছে। এই সকল শর্তে সুন্দরবনের পাশে কোনভাবেই শিল্পকারখানার অনুমোদন দিতে পারে না।

ডা: মো: আব্দুল মতিন বলেন, সুন্দরবনের পাশে সম্প্রতি ৩২০টি শিল্পকারখানার সরকারি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি কর্তৃক অনুমোদন প্রদান খুবই দুঃখজনক।

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ৩২০টি শিল্প কারখানার অনুমোদন দিয়ে সুন্দরবন ধ্বংসের পথকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সরকার। এটা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

শরীফ জামিল বলেন, পরিবেশ ও সুন্দরবনকে রক্ষার বিষয়টি কোনো ধরনের বিবেচনায় না নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এ কমিটি পরিবেশবিরোধী এ ধরণের সিদ্ধান্ত দেশ ও জাতির জন্য একটি নেতিবাচক উদহারণ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫