ঢাকা, বুধবার,২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বরিশাল

ঝালকাঠিতে স্বামীর সন্ধানে এসে নির্মম নির্যাতনের শিকার অন্তঃসত্ত্বা

ঝালকাঠি সংবাদদাতা

১৩ আগস্ট ২০১৭,রবিবার, ১৬:২২


প্রিন্ট

নারায়ণগঞ্জ থেকে স্বামীর খোঁজে ঝালকাঠি এসে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের হামলায় আহত হয়েছেন আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা লিজা আক্তার রূপা (২১) নামে এক তরুণী।

গতকাল শনিবার বিকালে ঝালকাঠি সদর উপজেলার দারাখানা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গর্বের সন্তানকে বাঁচাতে হাসপাতালে এসে ভর্তি হন তিনি।

তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়েছে কিনা তা জানতে চিকিৎসকরা আজ রোববার সকালে আহত তরুণীকে আল্টাসনোগ্রাম করতে দিয়েছেন। কিন্তু টাকার অভাবে আল্টাসনোগ্রাম করাতে পারছেন না ওই গৃহবধূ।

আহত লিজা আক্তার রূপা জানান, তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দড়িগোয়ালি গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে। নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে একটি গার্মেন্টে কাজ করেন তিনি। ঢাকার মহাখালীর একটি রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি রাজু হোসেন দেড় বছর আগে তাকে বিয়ে করেন।

তিনি আরো জানান, ১৫ দিন আগে তার স্বামী রাজু হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকার বাসা থেকে তাকে কিছু না বলেই বের হয়ে যায়। এর পর থেকে রাজুর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তার স্বামী ঝালকাঠির দারাখানা গ্রামের বাড়িতে আছেন। ঢাকা থেকে স্বামীর খোঁজে ঝালকাঠি বাড়িতে এলে শাশুড়ি শাহানাজ বেগম, খালাশাশুড়ি ছালু বেগম, খালাতো দেবর সোহেল খলিফা ও ননদ শারমিন তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেন।

রূপার অভিযোগ, বাড়ির উঠানে কাঁদার মধ্যে ফেলে তারা এলোপাতাড়ি লাথি মারে তাকে। তিনি অন্তঃসত্ত্বা বলে তাদের পা জড়িয়ে ধরলেও রক্ষা পাননি। লাথি মেরে তার সন্তান নষ্ট করার চেষ্টা করে তারা। গ্রাম ছেড়ে চলে না গেলে তাকে মেরে নদীতে লাশ ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয় তারা। এসময় বাড়িতে তার স্বামী ছিলেন না।

ঝালকাঠি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশীদ জানান, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মার খেয়ে মেয়েটি বিকেলে থানায় এসেছিল। সে অসুস্থ থাকায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে বলা হয়েছে। মৌখিকভাবে তাঁর অভিযোগ শুনেছি। সুস্থ হওয়ার পরে সে আইনি সহযোগিতা নিতে চাইলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।

রূপার শাশুড়ি শাহনাজ বেগম মারধরের কথা অস্বীকার করে জানান, ছেলের বিয়ে হইছে কিনা, তা আমরা জানি না। তাকে কেউ মারধর করেনি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫