ঢাকা, বুধবার,১৮ অক্টোবর ২০১৭

রাজশাহী

প্রচণ্ড ঘূর্ণিস্রোতে ১৩তম বারের মতো ধসে পড়ল বাঁধ

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

১৩ আগস্ট ২০১৭,রবিবার, ১৫:৩৪


প্রিন্ট

যমুনা নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির কারণে প্রচণ্ড ঘূর্ণয়মান স্রোতে সিরাজগঞ্জের চৌহালী শহর রক্ষা বাঁধের ২৫ মিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। রোববার সকালের দিকে বাঁধের খাষকাউলিয়ায় এলাকায় এ ধস নামে। শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বাঁধটি গত তিন মাসের ব্যবধানে ১৩ বার ধসের কবলে পড়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছে। এদিকে নির্মাণকাজে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ করে স্থানীয়রা দ্রুত সেনাবাহিনীর ইনিঞ্জিয়ারিং কেরারের মাধ্যমে কাজের দাবি জানান।

পাউবো ও স্থানীয়রা জানায়, ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ১০৯ কোটি টাকা ব্যায়ে চৌহালী শহর রক্ষা বাঁধ নামের একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয় । প্রকল্পে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ঘোরজানের চেকির মোড়, আজিমুদ্দি মোড়, খাসকাউলিয়া, জোতপাড়া ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সরাতৈল থেকে দক্ষিণে নাগরপুর উপজেলার পুকুরিয়া, শাহজানীর খগেনের ঘাট, পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। যার ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

রোববার সকালে বাঁধের চৌহালীর খাসকাউলিয়া অংশে প্রায় ২৫ মিটার জুড়ে ধসে যায়। বাঁধ থেকে বিচ্ছিন্ন হয় ব্লক ও জিও ব্যাগ। যমুনার স্রোতের কারণে শত কোটি টাকার বাঁধটি গত তিন মাসে ১৩ বার ধসের কবলে পড়ায় এলাকাজুড়ে সবার মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দফায়-দফায় এমন ভাঙ্গনের কারণ হিসেবে নির্মাণের সময় স্লপিং কাজে অকার্যকর মাটি নিচে ফেলে ব্লক দেয়া সহ পাথরের চারপাশে ফাঁকা স্থানগুলো সিমেন্ট দিয়ে পূর্ণ করে না দেয়ায় পানি ঢুকে তা সাধারণ স্রোতেই এই ধস দেখা দিয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে।

এদিকে নির্মাণকাজে অনিয়ম-দুর্নীতি ও কাজের গুণগত মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে চৌহালী উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব ও যুগ্ম সম্পাদক নুর মোহাম্মদ চৌধুরী সঞ্জু জানান, চৌহালী রক্ষায় সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। নদী ভাঙ্গন আমাদের পিছু ছাড়ছে না, তাই আমাদের শেষ অস্তিত রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা এবং সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের মাধ্যমে কাজের দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে বাধটির তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ জানান, বারবার ধসে আমরাও বিব্রত। তাই প্রধান প্রকৌশলী ও পাউবো মহাপরিচালককে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি তারা দ্রুত বাঁধ পরিদর্শন করে কার্যকরি পদক্ষেপ নেবেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫