ঢাকা, শুক্রবার,১৮ আগস্ট ২০১৭

বিবিধ

কম মূল্যে ট্রলি ব্যাগ বানাচ্ছে হজ এজেন্সিগুলো

খালিদ সাইফুল্লাহ

১২ আগস্ট ২০১৭,শনিবার, ১৮:১৪


প্রিন্ট
রাজধানীর নয়াবাজারে একটি কারখানায় হজযাত্রীদের জন্য তৈরি হচ্ছে নিম্নমানের ট্রলি ব্যাগ

রাজধানীর নয়াবাজারে একটি কারখানায় হজযাত্রীদের জন্য তৈরি হচ্ছে নিম্নমানের ট্রলি ব্যাগ

বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে নিম্মামানের ট্রলি ব্যাগ সরবরাহ ও হাজীদের কাছ থেকে ট্রলি ব্যাগ বাবদ অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি স্বীকার করে এজেন্সি মালিকেরা জানিয়েছেন, প্রাক-নিবন্ধনের সময় ব্যাগ বাবদ দুই হাজার ৫০০ টাকা জমা রাখলেও হাব থেকে অনেক এজেন্সিকে এখনো টাকা ফেরত দেয়া হয়নি। আবার অনেককে কম টাকা দেয়া হয়েছে। এজন্য নির্ধারিত টাকার চেয়ে কম দামের ব্যাগ বানানো হচ্ছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ গ্রুপ লিডাররা নিচ্ছেন বলেও তারা জানান। 

জানা যায়, বেসরকারি হজ এজেন্সি ডিবিএম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, জনতা ট্রাভেলস লিমিটেড, এম এস ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, গোল্ডেন ট্রাভেলস অ্যান্ড কারগো সার্ভিসেস এবং মুনতাকা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস এ বছর মোট ৯৭৪ জন ব্যক্তিকে হজে পাঠাচ্ছে। ডিবিএম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস থেকে নিবন্ধিত হাজীদের বেশিরভাগ ইতোমধ্যে সৌদি পৌঁছেছেন। জনতা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস থেকে নিবন্ধিতরা গতকাল রাতের ফ্লাইটে যান। এমএস ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস থেকে হাজীদের আজ বা আগামীকাল সৌদি যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে গোল্ডেন ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস ও মুনতাকা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস থেকে নিবন্ধিত হজযাত্রীদের ফ্লাইট সিডিউল এখনো চূড়ান্ত হয়নি। 


অনুসন্ধানে জানা যায়, এ এজেন্সিগুলোর মালিকানা ভিন্ন ভিন্ন নামে থাকলেও মূল মালিক এরশাদ আলী। তিনি তার ৯৭৪ জন হজযাত্রীর জন্য নয়াবাজার ডিআইটি মাকের্টের ১ নং ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কারখানা থেকে ট্রলি ব্যাগ বানাচ্ছেন। ওই দোকানের মালিক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, এ এজেন্সিগুলোর ৯৫০টি ব্যাগ বানানোর দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। এজন্য পাইকেরি দরে প্রতিটি ব্যাগের দাম ধরা হয়েছে এক হাজার ৩০০ টাকা। তিনি জানান, শুধু ঢাকা নয়, সিলেট, চট্টগ্রামসহ সারা দেশের হজ এজেন্সি মালিকেরা নয়াবাজারের কারখানাগুলো থেকে ট্রলি ব্যাগ বানাচ্ছেন। এ বছর তার কারখানা থেকে মোট দুই হাজার এক শ’ ব্যাগ বানিয়েছেন জানিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এসব ট্রলি ব্যাগের দাম এক হাজার ২০০ টাকা থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা রাখছেন তিনি। 


ডিবিএম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের মালিক এরশাদ আলী নয়া দিগন্তকে বলেন, আমাদের ৫টি এজেন্সির জন্য নয়াবাজারের ওই কারখানা থেকে ব্যাগ বানানো হচ্ছে এক হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা দরে। তিনি বলেন, হাব থেকে তাকে ব্যাগপ্রতি দেড় হাজার টাকা করে দিয়েছে। এখনো এক হাজার টাকা ফেরত দেয়নি। এ ছাড়া টাকা দিয়েছে দেরিতে। আবার ব্যাগের যে নমুনা দেয়া হয়েছে তা আমাদের দেশে সচরাচর পাওয়া যায় না। এ কারণে সঠিক মানের ব্যাগ বানানো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, শুধু আমি নয় বেশিরভাগ এজেন্সি মালিকই এভাবে দুই হাজার ৫০০ টাকার কমে ব্যাগ বানাচ্ছেন। 


মিরপুরের মাজাররোডের আরশিনগর ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস মালিক মো: আমজাদ হোসেনের ৮০ জন হজযাত্রী রয়েছে এবার। এমএইচএস ওভারসিস (নিবন্ধন নং-১০২০) তার লিড এজেন্সি। তিনিও নয়াবাজারের মোয়াজ্জেম হোসেনের কারখানায় ব্যাগ বানাতে দিয়েছেন। আমজাদ হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, তার ব্যাগ বানানো হচ্ছে এক হাজার ৩৫০ টাকা দরে। তিনি আরো বলেন, হাব থেকে তাকে এখনো কোনো টাকাই দেয়া হয়নি। নিজেদের টাকা দিয়ে ব্যাগ কিনতে হচ্ছে। পরে টাকা দেবে বলেছে, আসলে পরে পাব কিনা তা জানি না। তা ছাড়া এ বছর ঘরভাড়া, মোয়াল্লেম ফিসহ সব ক্ষেত্রে খরচ বেড়েছে। গত বছরের মোয়াল্লেম ফি এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি। এ বছর ব্যাগের টাকা ফেরত পাব কিনা তাও জানি না।

আমজাদ হোসেন বলেন, ব্যাগের কারখানা থেকে আমাদের ওই টাকায় ব্যাগ তৈরি করে দেবে বলেছে, এজন্য বানাচ্ছি। বেশি বললেও বেশি দামে বানাতে হতো। তবে ব্যাগের মান খারাপ হবে না বলে তিনি জানান। 


গত বছর নিম্নমানের ট্রলি ব্যাগ তৈরি করে হাজীদের সরবরাহ করে হাব। এ কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে হাব। এজন্য হাবের নতুন কমিটি প্রথমে ব্যাগ বানানোর দায়িত্ব নিতে চায়নি। কিন্তু হজ নীতিমালা অনুযায়ী ধর্মমন্ত্রণালয় থেকে তাদের উপরই দায়িত্ব দেয়া হয়। তবে হাব এ দায়িত্ব নিজেরা পালন না করে এজেন্সিগুলোর ওপর ব্যাগ বানানোর দায়িত্ব দিয়েছে। 


এ ব্যাপারে বেসরকারি হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাবের মহাসচিব শাহাদাত হোসাইন তসলিম নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা ধর্মমন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত তিন ভাগের দুই ভাগ টাকা পেয়েছি। এ টাকা আমরা ক্রমান্বয়ে এজেন্সি মালিকদের ফেরত দিচ্ছি। এ ব্যাপারে হাবের সভাপতি ও অর্থ সম্পাদকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি কাজ করছে বলেও তিনি জানান। 


অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ : বেসরকারি হজ এজেন্সি ডিবিএম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, জনতা ট্রাভেলস লিমিটেড, এম এস ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, গোল্ডেন ট্রাভেলস অ্যান্ড কারগো সার্ভিসেস এবং মুনতাকা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস এ বছর মোট ৯৭৪ জন ব্যক্তিকে হজে পাঠাচ্ছে। এ এজেন্সিগুলো হজযাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে বলে হজযাত্রীরা অভিযোগ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন হজযাত্রী বলেন, প্রাক-নিবন্ধনের সময় যে ৩০ হাজার টাকা নেয়া হয় তখন হাজীদের ট্রলি ব্যাগ বাবদ আড়াই হাজার টাকা নেয়া হয়। কিন্তু এ এজেন্সিগুলো এখন হাজীদের কাছ থেকে আরো অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা নিচ্ছে। অর্থাৎ একটি ব্যাগের জন্য তারা টাকা নিচ্ছে সাড়ে চার হাজার টাকা। অথচ ব্যাগ দিচ্ছে এক হাজার ৩০০ টাকার। এতে একটি ব্যাগ থেকেই এজেন্সিগুলো আয় করছে তিন হাজার ২০০ টাকা। মোট ৯৭৪ জনের কাছ থেকে এ টাকা নিলে মোট হয় ৩১ লাখ ১৬ হাজার ৮০০ টাকা।

তবে এ টাকা এজেন্সি মালিক পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন ডিবিএম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের মালিক এরশাদ আলী। তিনি বলেন, এ টাকা নিচ্ছে গ্রুপ লিডাররা। আমরা নিচ্ছি না। অনেক হাজী গ্রুপ লিডারের সাথে হজ প্যাকেজ থেকে কম টাকায় হজ করার জন্য চুক্তি করে থাকেন। তখন এ ধরনের ঘটনা ঘটে। ওই সময় যদি তাদের সাথে ব্যাগ বাবদ টাকা নেয়ার কথা না জানিয়ে থাকে সেক্ষেত্রে তারা এখন টাকা নিচ্ছে।

তবে হজযাত্রীরা বলেছেন, এজেন্সি মালিক প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে হজযাত্রীদের নতুন করে দুই হাজার টাকা করে দিতে বলেছেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫